বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মানিকগঞ্জে রাস্তা সংযোগে বাঁশের মাচা

প্রকাশের সময়: ৬:১৩ অপরাহ্ণ - সোমবার | অক্টোবর ১৬, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি
শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক এলাকায় পাকা রাস্তাটি বন্যায় ভেঙ্গে গেছে। পারা পার হতে ব্যবহৃত হচ্ছে বাশেঁর মাচা। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীসহ হাজার হাজার জনগণের। ক্রমশই বাড়ছে দূর্ভোগ। চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন  এ এলাকার জনগণ। চলতি বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ায় চলাচলের অনুুপযোগী হয়ে যায়। ইজিবাইক ও রিক্সা চালকদের নিজস্ব অর্থায়নে বাশেঁর মাচাইন দিয়ে কোনো মতে চরম ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে বয়ড়া ইউনিয়নসহ পাঁচটি ইউনিয়নের আনুমানিক তিন- –চার হাজার জনগণ।  শহরে প্রবেশের একমাত্র রাস্তা এটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, সদ্য নির্মিত পাকা রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়া সেখান দিয়ে পারাপাড় হতে দেয়া হয়েছে বাঁশের মাঁচা। যেখানে বন্যার আগেও ছিল পাকা রাস্তা । আর সেখানে এখন রাস্তাটি ভেঙ্গে হয়ে গেছে ছোট খাটো একটি পুকুর । আর যেন সেই পুকুর পারি দিতেই দেয়া হয়েছে দুইটি বাঁশের মাচা।  এ যেন এক মরণ ফাঁদ।
স্থানীয় যাত্রাপুর গ্রামের শম্ভু কর্মকার জানায়, গত বছরের বন্যাতেও এই রাস্তাটি এই ভাবে ভেঙ্গে গিয়েছিলো, এর অনেকদিন পড়ে এই রাস্তাটি পাকা হলেও তা আবার এই বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের খুব কষ্ট করে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
রহিম মোল্লা   জানায়, আমাদের কষ্টের কথা আর কিই বলবো, আমাদের এই রাস্তাটা এর আগেও একবার বন্যায় ভেঙ্গে গেছে তখন ও অনেকদিন পরে যাও একবার ঠিক করলো তাও আবার এই বন্যায় ভেঙ্গে গেলো, এইবার আবার কবে ঠিক করবো কে জানে, আমরা গরিব মানুষ আমাগো সইয়া গেছে,  এই ভাঙ্গা রাস্তাা দিয়া যাতায়াত করতে করতে।
আন্ধারমানিক গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা কার্তিক চন্দ্র দাস জানান, আমাদের এই রাস্তাটা গত বছর বন্যায় ও ভেঙ্গে গিয়েছিলো এবং তা ঠিক করার পর  আবার এইবার ও ভেঙ্গে গেলো, আমার মনে হয় এইখান দিয়ে ছোট একটা ব্রিজ অথবা কালভার্ট দেয়া প্রয়োজন তাহলে আর আমাদের প্রতিবছর এতো কষ্ট করতে হবে না।
যাত্রাপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, যে আমাদের এই রাস্তাাটা ভেঙ্গে যাওয়ায় বন্যার সময় অনেক কষ্ট করে আমাদের স্কুলে যেতে হয়েছে, এবং বন্যা চলে গিয়েও এখনো আমাদের এতো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী কয়েকজন হ্যালোবাইক এবং রিক্সাওয়ালার জানায়, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টি হ্যালোবাইক এবং কয়েকশো রিক্সা চলাচল করে। সেই সুবাদে কিছু কুচক্রী লোকজন তাদের কাছ থেকে রাস্তায় মাটি ফেলে  ঠিক করার কথা বলে ১’শত  করে টাকা হাতিয়ে নেয় এবং তা দিয়ে বাঁশের দুইটি মাচা দিয়ে দেয়। এবং সেই বাঁশের মাচা দুটো মজবুত না হওয়ায় সেইখান দিয়ে যাতায়াত এর সময় তাদের যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে খালি গাড়ি পাড় করে তারপর যাত্রীদের ওঠাতে হয়, এতে যেরকম নষ্ট হচ্ছে তাদের গাড়ি তেমনি নষ্ট হচ্ছে তাদের সময়।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা এলজিইডি’র নির্বাহী  প্রকৌশলী  মোঃ মোখলেছুর রহমান  জানান ,আমরা এই বছর বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া প্রত্যেকটি রাস্তার রিপোর্ট দিয়েছি । সংস্কারের জন্য জেলার এলজিইডি অফিসের মাধ্যমে আমরা কাগজপত্র জমা দিয়েছি আমরা  যত দ্রুত সম্ভব রাস্তটির  সংস্কার কাজ শুরু করবো।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে