শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

একটি ব্রীজের অভাবে মরন ফাঁদ বাঁশের সাঁকো, ১০ গ্রাম মানুষের জাতায়াতের একমাত্র ভরসা!

প্রকাশের সময়: ৯:২০ পূর্বাহ্ণ - শনিবার | অক্টোবর ২৮, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি
মহিনুল ইসলাম সুজন,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

নীলফামারী সদরের লক্ষীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরী মালিপাড়া গ্রামে বুড়িখোড়া নদীর ওপরে একটি বাঁশের সাঁকোই ১০ গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা।
এটি লক্ষীচাপ ইউনিয়ন থেকে জেলার শহরে যাতায়তের একমাত্র মাধ্যম এই সেতুটি। নদীর ওপারে (দক্ষিনে) জেলা শহরের অবস্থান হওয়ায় সাঁকো দিয়ে পার হয়ে ১০ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন নীলফামারী জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা,হাসপাতালসহ প্রয়োজনীয় স্থানে যাতায়াত করেন হাজার-হাজার মানুষ ও শত, শত শিক্ষার্থী।
ওই ইউনিয়নের লক্ষিচাপ, দুর্বাছুড়ি, শিশাতলী, নৃসিংহ, পল্লমপাঠ, গোড়কপাড়া ও ভোলার ঘাট গ্রাম ছাড়াও অনেক গ্রামের মানুষ অভিযোগ করে বলেন, তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য ও আইনি সহায়তা পেতে ডিসি অফিস, জজকোর্ট, উপজেলা ও নীলফামারী জেলা পরিষদে যেতে হয়।
ভৌগলিক সিমানায় ওই নদীটি পেরিয়ে জেলা শহর যেতে হয় বিধায় উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে ওইসব গ্রামের মানুষজন। জেলার উন্নয়ন যেন বাঁধাগ্রস্থ করেছে ওই নদীর অবস্থান। দির্ঘ ২০ বছরেও কেউ সেতু নির্মাণের উদ্দ্যোগ গ্রহন করেনি।
সাধারন মানুষ, স্কুল গামী ছাত্র/ছাত্রীর যাতায়াত আর ব্যবসায়ীদের মালামাল পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকোটি যেন একটি মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাঁকো পার হয়েই ককই বড়গাছা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় এ ছাড়াও সরকারী বে-সরকারী অনেক প্রতিষ্ঠান এবং পাশ্বেই রয়েছে ককই বাজার। বাজারটিতে কৃষিপণ্য, শাক,সবজি ও ধান চালের আমদানি হয় প্রচুর। ১০ গ্রামের মানুষের সমাগম হয় ওই বাজারে।
বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ বলেন, বর্ষা এলে যাতায়তের সমস্যার কারনে ভাটা পড়ে যায় বাজারের বেচা কেনা। তখন নদীর সাঁকোটি আমাদের জন্য বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই সাকোঁর ওপর দিয়ে ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী পারাপার হয়। সাঁকো ভেঙ্গে গত বছর বর্ষায় ককই বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ নদীতে পরে গিয়ে গুরুত্বর আহত হন।
ককই বড়গাছা দ্ধিমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণপতি রায় বলেন, আমার বিদ্যালয়ের শত, শত ছাত্র/ছাত্রী ওইসব গ্রাম থেকে পড়তে আসে। তাদের যাতায়তের ক্ষেত্রে মালিপাড়া নদীর ওপর বুড়িখোড়া নদীর সাঁকোটি একটি মরন ফাঁদ।
ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র পলাশ, মিঠুন ও ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী আরজিনা বেগম, বেবী, রেশমা বলেন, মালি পাড়া গ্রামের বুড়িখোড়া নদীর বন্যায় প্রতি বছরে ৩-৪ মাস বিদ্যালয় যাওয়া আসা করা যায় না।  কারন নদীতে দুই কুল ছাপিয়ে বন্যা হলে বাঁশের পুলে (সাঁকোতে) পারাপারে অনেক সমস্যা হয়।
ভোলার ঘাট গ্রামের পথচারী নরেশ চন্দ্র রায়, মমতা বেগম, সোহরাব আলী, লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এই সাঁকোর ওপড় দিয়ে অনেক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার করি। এতে যেন কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন তারা।
জেলা সদরের লক্ষীচাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নের এই সাঁকোটি মানুষের জন্য একটি মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও এই বুড়িখোড়া নদীর উপড় ব্রীজ হচ্ছেনা। আমি নিজেই ভুক্তভোগী যে, প্রতিদিন এই সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে আমাকে জেলা শহরের বিভিন্ন অফিস আদালতে যাতায়াত করতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবির মুখে এ ব্যাপারে উপজেলা পরিসদের মিটিং এ ব্রীজ নির্মাণের বিষয়টি জোর দিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু কোন সমাধান আজও হয়নি। তাই পথচারীদের দাবী বুড়িখোড়া নদীর উপরে একটি ব্রীজ হলে হাজার হাজার সাধারন মানুষ, ব্যবসায়ী,চাকুরিজীবি ও ছাত্র/ছাত্রী মরণ ফাঁদ থেকে ভোগান্তি থেকে রেহাই পেত।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে