বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মানিকগঞ্জে ঠিকাদারের গাফিলতিতে ভোগান্তি দশ গ্রামের জনগণ

প্রকাশের সময়: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ - বুধবার | নভেম্বর ১, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি
শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জে হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের দিয়াবাড়ি গ্রামের ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ হলেও  দু-পাশে মাটি দিয়ে ভরাট না করায় বাঁশের সাকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে   এলাকার হাজারো জনগণ। ফলে ভোগান্তি  পোহাচ্ছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১০ গ্রামের জনগণ। স্থানীয়দের দাবী ঠিকাদারীর গাফিলতির কারণে এ দূরঅবস্থা ।
ভুক্তভোগীরা জানায়, দিয়াবাড়ির ব্রিজের দু-পাশে মাটি ভরাট সমস্যা ছাড়াও এই পাকা রা¯তাটি বন্যার পানিতে কিছু জায়গায় ভেঙ্গে যায়।ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দিয়াবাড়ি, দূর্গাপুর, মানিকনগর, মহাপুইরা, হাসমেলন, সাটিনাদা, গোপালপুর, বাহিরচর, রামকৃষ্ণপুরসহ প্রায় ১০ টি গ্রামের মানুষের চরম ভোগান্তি  পোহাচ্ছে।
দিয়াবাড়ীর মোঃ আবুল মিয়া জানান, এই রা¯তাটি অনেক গুরত্বপূর্ন একটি রা¯তা, এই রা¯তায় মাটি ভরাট না করার কারনে আমরা পায়ে হেটেই যাতায়াত করতে পারিনা।যার জন্য আমরা এলাকার লোকজন নিজস্ব  উদ্যোগে বাসের সাকু বানিয়ে ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াত করছি।তিনি আরও বলেন আমার স্ত্রী কিছুদিন আগে এইখানে দিয়ে যাতায়াত করতে গেলে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পান এবং পড়ে চিকিৎসার জন্য আমার অনেক টাকা খরচ হয়েছে।
সাহেরা বেগম জানান, আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছে এবং এমন অবস্থা চলতে থাকলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা হতে পারে বলে তিনি জানান।
ঐ এলাকার  তারাব আলী আমরা প্রতিদিন এই রা¯তা দিয়ে জেলা, উপজেলা ও হাট-বাজারে যাই, ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যায়, জেলেরা এই রা¯তাটি দিয়ে পদ্মায় মাছ ধরতে যায়। এমন অবস্থায় বড় কষ্টের মধ্যে তাদের যাতায়াত করতে হয়।এই রা¯তা দিয়ে কোন সাইকেল, রিক্সা, ভ্যান, অটো দিয়ে যাতায়াত করবো তার উপায় নেই। আর মালামাল নিতে গেলে তো অনেক ভোগান্তীতে পড়তে হয়।
এ ব্যাপারে চালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামছুল আলম বিশ্বাস (সিরু) জানান, এই ব্রিজটি প্রায় ৫/৬ মাস যাবৎ নির্মান শেষ হয়েছে।এখনো ব্রিজ দু-পাশে ভরাট করা হয়নি এজন্য লোকজন ভোগান্তি পোহাচ্ছে ।তিনি আরও বলেছেন এই প্রকল্পটির ঠিকাদারের গাফলতী রয়েছে এবং আমি ঠিকাদারকে বলেছি  দ্রুত ব্রিজের দু-পাশ ভরাটের কাজ যেন শেষ করেন।
এ ব্যাপারে হরিরামপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম(সোভম) জানান, ঠিকাদার এ পর্যšত সম্পূর্ন কাজ করে আমাকে বুঝিয়ে দেয়নি।মাটি ভরাটের কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করা হয়নি।বন্যা চলাকালীন অবস্থায় মাটি ভরাটের কাজ শেষ করতে পারেনি, এখন তাকে জরুরীভাবে কাজটি  শেষ করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। অচিরেই সপ্তাহ কয়েকদিনের মধ্যে কাজটি শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করবো।তিনি  বলেন, এ প্রকল্পটি ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের।এ প্রকল্পটি ব্যয় সম্ভবত ১৫ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকার মত।তিনি আরও বলেন সে যখন আমাকে প্রজেক্টটা বুঝিয়ে দেবেন, তারপর তার বিলটা মন্ত্রণালয়ে যাবে, ফাইনালী মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হলে  ঠিকাদার বিলটা পাবে। আর যেহেতু সে প্রজেক্টের কাজ বুঝিয়ে দেয় নাই, সেহেতু তার বিল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় নাই।২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে এ প্রকল্পটির কাজ শুরু করে ২ মাসেই সম্পূর্ন শেষ করার কথা ছিল।কিন্তু বন্যা ও পাশ্ববর্তী অবস্থানের কারনে তিনি প্রকল্পটি শেষ করতে পারেননি ।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জানান,বর্ষার কারনে মাটি ভরাট করতে পারেনি।এই ব্রিজের মাটি ভরাটের কাজ যাতে তাড়াতাড়ি হয় সেজন্য আমি তাদের তাগিদ দেব।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে