শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

জ্বালানি ও আইসিটি খাতে বিনিয়োগ করতে চায় সৌদি

প্রকাশের সময়: ৬:৫০ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ৫, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে চায় সৌদি আরব।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৈঠকে বাংলাদেশে সফররত সৌদি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি গ্রুপ লিমিটেডের নির্বাহী সভাপতি মোসহাবাব আব্দুল্লাহ আলকাতানি।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, সৌদি ব্যবসায়িক  প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য জোরদার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে ব্যবসার সুযোগ রয়েছে। তারা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। বিশেষ করে সোলার (সৌরবিদ্যুৎ), এনার্জি (জ্বালানি) ও আইসিটি (তথ্যপ্রযুক্তি) খাতে  বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য একটা সুন্দর জায়গা। আমাদের বিনিয়োগ নীতি খুব চমৎকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় সৌদি আরবসহ। আজকে তাদের বৈঠক হয়েছে, বুধবারও বৈঠক হবে। আমরা আশা করি, এর মধ্য দিয়ে অনেক বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।’

‘এরপর বাংলাদেশে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সৌদি আরবে যাবেন। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমাদের এখানে একটা ব্যবসার পরিবেশ গড়ে উঠবে-উল্লেখ করেন।’ বাণিজ্যমন্ত্রী।

সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কেউ যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে তাহলে তারা লাভবান হবেন। কারণ আমরা বেশিরভাগ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাই। এখানে বিনিয়োগ করে অন্য দেশে পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। সৌদি আরব চাইলে যে কোনো একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে পারে। (বাংলাদেশে বিনিয়োগে) আমরা সবক্ষেত্রে তাদের (সৌদি ব্যবসায়ী) সহযোগিতা করব।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ আছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন,  ‘তারা (সৌদি প্রতিনিধিদল) এসেছেন আমরা অত্যন্ত খুশি। ইতিমধ্যে তাদের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য অনেক আছে, কিন্তু সেটা খুব বেশি স্ট্রাকচারড না। একটু ইনডিভিজুয়াল এফোর্ডের ওপর নির্ভরশীল ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল ইট সুড স্ট্রাকচারড, এতে এক্সপানশন বিজনেসটা অনেক বেশি হয়। এখানে অনেক পার্টির সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হল, সুতরাং সেখানে সুবিধা হল। অন্য সুবিধা যেটা হল- একজন অভিযোগ করল আমাদের এত প্রোডাক্ট আছে এগুলো আমরা তত প্রচার করি না।’

মুহিত বলেন, আমাদের পরিচিতি সিম্পল গার্মেন্টস দিয়ে। কিন্তু এখন আমরা এতভাবে ডাইভারসিফাইড হয়েছি যে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথেষ্ট এক্সপোর্ট ক্যাপাবিলিটি আছে। সেদিক দিয়ে এটি উল্লেখযোগ্য ভিজিট হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যথেষ্ট এগ্রিমেন্টস হয়েছে এর ফলাফল যেটা হবে আমরা আশা করব-এক্সপানশন অব ট্রেড বিটুইন টু কান্ট্রিস। ওই যে একটা ধারণা তাদের থেকে তেল আনি আর তারা আমাদের কাছ থেকে গার্মেন্টস নেয়-এটা যেন না থাকে। ইট সুড বি চেইঞ্জড। ডাইভারসিফিকেশনটা সামনে আসা উচিত।’

‘বাংলাদেশ এখন ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন, সেটার ফলও আমরা পাচ্ছি। ২০১৫ সালের পর থেকে পাচ্ছি। ২০১৫ সালের পর যে দেশে স্থিতিশীল অবস্থা দেশে, এটা খুবই কাজের হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের মতো ছিল, গত অর্থবছরে এটা দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি মুভমেন্ট অব এফডিআর বাংলাদেশে বেশ কার্যকর হচ্ছে’ বলেন মুহিত।


আর্কাইভ

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে