শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন নিয়ে যা বললেন বিএনপি নেতারা!

প্রকাশের সময়: ৯:০৮ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | ডিসেম্বর ৭, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: কম্বোডিয়া সফর শেষে দেশে ফিরে গণভবনে আর্য়োজিত সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কম্বোডিয়া সরকারের সাথে বাংলাদেশের চুক্তির বিষয়ে জনগণকে অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া আমাকে কেন ক্ষমা করবে? তিনি (খালেদা জিয়া) কি ক্ষমা চেয়েছেন নাকি ক্ষমা করেছেন? বরং নানা কারণে জাতির কাছে খালেদা জিয়াকেই ক্ষমা চাইতে হবে। এরআগে খালেদা জিয়া আদালতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরে আনার জন্য কাজ চলছে। তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। একই সঙ্গে আগাম নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগাম নির্বাচনের কোনো পরিস্থিতি দেশে হয়নি। বিএনপি এবার নাকে ক্ষত দিয়ে নির্বাচনে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মনে করছেন, সরকার প্রতিবারই এমন কথা বলেন। এসব নিয়ে তেমন ভাবার কিছু নেই বা বলারও কিছু নেই। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভুলের বিচার করার আদালত জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে এই বিচার করে জনগণ। কিন্তু দেশে এখন তেমন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আদালতে দাঁড়াতে সব সময় প্রস্তুত। কিন্তু সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সাঁজানো নির্বাচনে অংশ নিবে না। সরকার নিজেই বাধ্য হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা বলে খালেদা জিয়া উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তার (খালেদা জিয়া) উদারতা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। এটা গ্রহণযোগ্য না।

বিএনপিকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব) মাহবুবুর রহমান বিডি২৪লাইভকে বলেন, এমন কথা তারা অনেক আগে থেকেই বলে আসছে। এটা তেমন কোনো নতুন কথা না। প্রধানমন্ত্রী বলছে, তার দলের নেতারা বলছে। এতে নতুন কিছু নেই।

তিনি বলেন, দেশের মধ্যে সকলে মিলে শান্তিতে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করা উচিত। যা প্রত্যেকেরই প্রত্যাশা। সে নির্বাচনের জন্য একটা বোঝাপরা, বিশ্বাস থাকতে হবে, তা তৈরি করতে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা যদি কেউ ভুল করে থাকেন তবে তারা জনগণের আদলতেই গিয়েই দাঁড়ান। আর এটা হচ্ছে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে যারা পরাজিত হয় তারা মূলত দন্ডিত হয়। আর যারা বিজয় লাভ করে তারা জনগণের সমর্থন পেয়েই নির্বাচিত হয়। সেই নির্বাচনটা আমাদের দেশে নেই।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রতি সপ্তাহে আদালতে হাজির করা, তাকে মত প্রকাশ করতে না দেয়া, সভা করতে না দেয়া, তাকে স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে না দেয়া, সরকারের এই অপকর্মের কারণে খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি সরকার প্রধানকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এটা একজন মানুষের উদারতা। কিন্তু এটা নিয়ে যদি কেউ কটাক্ষ করে তাহলে আমাদের বলার কিছু নেই।

বিএনপির নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত সব সময় দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচন মুখী একটি দল। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু সে নির্বাচন যদি সাজানো, গোছানো হয় তাহলে আমাদের অংশগ্রহণ করা খুব কঠিন। সেটা আমরা জাতিকে বলেছি। সংবিধান যিনি সবশেষ সংশোধন করেছেন তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সেই সংশোধীত রুপ হচ্ছে তার নেতৃত্বে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনটা আমরা করতে চাই না। ২০১৪ সালের নির্বাচন একমাত্র ভারত ছাড়া পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রই ভালো নির্বাচন হয়েছে এটা বলেনি। আমরা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করেছি এখনও করছি, আগামীতেও করবো। আমরা মনে করি আগামী দিনে নির্দলীয় অবস্থানে থেকে নির্বাচন হবে। নির্বাচন নির্দলীয় হলে আমরা অংশগ্রহণ করবো।

তিনি বলেন, যারা গ্রাম্যতাকে বিশ্বাস করে তারা নাকে ক্ষত দেয়ার কথা বলবে। যাদের শিক্ষাদিক্ষা, জানা শুনা আছে তারা এই নাকে ক্ষত দেয়ার কু কথা বলবেন না। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই এই কথাটা বলেন। এটা থেকে তার বেরিয়ে আসা উচিত। কারণ তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। নানা ভাষায় মানুষের সমালোচনা করা যায় কিন্তু গ্রাম্যতা তার করা উচিত না। এটা ভালো দেখায় না।

তারেক রহমানের দেশে আসা নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, তারেক রহমান সব সময় দেশে আসতে চায়। তিনি দেশেই থাকতে চায়। কিন্তু দেশের যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর যেমন বক্তব্য এতে বোঝা যায় তার বিরুদ্ধে অনেক ক্ষোভ। তারেক রহমান অসুস্থ, তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বোঝাই যায়, তারেক রহমানের উপর তার এক ধরনের বিদ্বেষ আছে, রাগ আছে। কিন্তু তিনি এটা না বলে আইন তার স্বাভাবিক গতিতেই চলবে এটা বললেও পারতেন। প্রধানমন্ত্রীর রাগ, অনুরাগের বসবর্তী হয়ে কোনো কথা বলা ঠিক না।


আর্কাইভ

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে