মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

আজ হিন্দু সম্প্রদায়ের গনেশ পুজা

প্রকাশের সময়: ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ - রবিবার | এপ্রিল ১৫, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডিনলছিটি প্রতিনিধি,অরবিন্দ পোদ্দার
গনেশ হলেন হিন্দুধর্মের সর্বাধিক পরিচিত ও সর্বাধিক পূজিত দেবতাদের অন্যতম।তিনি গণপতি, পিল্লাইয়ার, বিঘ্নেশ্বর, বিনায়ক, গজপতি, একদন্ত ইত্যাদি নামেও পরিচিত। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে গণেশের মন্দির ও মূর্তি দেখা যায়। সকল হিন্দু সম্প্রদায়েই গণেশের পূজা প্রচলিত রয়েছে। জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যেও গণেশ-ভক্তিবাদ মিশে গিয়ে গণেশ পূজার প্রথা বিস্তার লাভ করেছে।

গণেশ তাঁর বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রসিদ্ধ। কিন্তু তাঁর হাতির মাথাটিই তাঁকে সর্বাধিক পরিচিতি দান করেছে। গণেশকে বিঘ্ননাশকারী, শিল্প ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক এবং বুদ্ধি ও জ্ঞানের দেবতা রূপে পূজা করা হয়। বিভিন্ন শুভকার্য, উৎসব ও অনুষ্ঠানের শুরুতেও তাঁর পূজা প্রচলিত আছে। অক্ষর ও জ্ঞানের দেবতা রূপে লেখার শুরুতেও গণেশকে আবাহন করা হয়। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে গণেশ-সংক্রান্ত একাধিক পৌরাণিক উপাখ্যান পাওয়া যায়। এই উপাখ্যানগুলি থেকে গণেশের জন্মবৃত্তান্ত, লীলাকথা ও তাঁর স্বতন্ত্র মূর্তিতত্ত্বের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

প্রাক-বৈদিক ও বৈদিক যুগের দেবতাদের মধ্যে গণেশের গুণাবলি বিদ্যমান ছিল। কিন্তু সেই গুণাবলি গণেশের উপর আরোপ করে পৃথক দেবতা রূপে তাঁর পূজা প্রথম প্রসার লাভ করে গুপ্তযুগে (খ্রিস্টীয় ৪র্থ ও ৫ম শতাব্দ)। খ্রিস্টীয় ৯ম শতাব্দীতে হিন্দুধর্মের অন্যতম শাখা স্মার্ত সম্প্রদায়ের পাঁচ জন প্রধান দেবতার তালিকায় গণেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া গাণপত্য নামে একটি পৃথক গণেশ-কেন্দ্রিক হিন্দু সম্প্রদায়েরও উদ্ভব ঘটে। এই সম্প্রদায়ে গণেশ সর্বোচ্চ ঈশ্বর রূপে পূজিত হন। আর তখন থেকেই অর্থাৎ ৯ম খ্রিষ্টীয় সাল থেকে সকল মূর্তি পূজার আগে গণেশের পূজা করা শুরু হয়। গণেশ-সংক্রান্ত প্রধান ধর্মগ্রন্থগুলি হল গণেশপুরাণ, মুদ্গলপুরাণ ও গণপতি অথর্বশীর্ষ। বর্তমানে বাংলা বছরের ১ তারিখে ঘটা করে গনেশ পুজা করা হয়। ব্যাবসা বানিজ্যের ক্ষেত্রে এই পুজার গুরুত্ব অনেক বেশি। ধন সম্পদ লাভ ও সুস্থ্য রোগ মুক্ত ভাবে বসবাস করার জন্যও এই পুজা করা হয়ে থাকে।

উপরে