বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

বিদেশের যে বাড়িতে প্রথম ওড়ে বাংলাদেশের পতাকা

প্রকাশের সময়: ১২:৫৬ অপরাহ্ণ - শনিবার | এপ্রিল ২১, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

জিয়াউদ্দিন খন্দকার :: “দেশের বাইরে বিদেশি মিশনে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন দিবস” পালন করেছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন। ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল ভারতের কলকাতাস্থ বাংলাদেশ মিশনে সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেটি উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. হোসেন আলী। তখন তিনি কলকাতায় অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসে উপ হাই কমিশনার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এম. হোসেন আলী তাঁর মিশনের ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পাকিস্তানের আনুগত্য ত্যাগ করে মুজিবনগর সরকারের প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য প্রদর্শন করেন। আর সেই থেকেই শুরু হয় বিপ্লবী সরকারের প্রতি বিদেশি সমর্থন আদায়ের কার্যক্রম। একই সাথে হোসেন আলী কলকাতায় দেশের প্রথম বিদেশি দূতাবাস ভবনে পাকিস্তানী পতাকার পরিবর্তে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ফলে মূহূর্তের মধ্যেই পাকিস্তান দূতাবাস পরিণত হয় বাংলাদেশ মিশনে। পাকিস্তান দূতাবাসের নাম বদলে সেখানে ‘বাংলাদেশ কূটনেতিক মিশন’ এর নাম ফলক উন্মোচন করা হয়। নবগঠিত বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশনের কেন্দ্রীয় হলরুম থেকে জিন্নাহর ছবি সরিয়ে ফেলে সেখানে টাঙ্গানো হয় রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছবি। স্বাধীনতা সংগ্রামে এটা ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা যা বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে।
ঐতিহাসিক সেই দিনটিকেই বৃহস্পতিবার স্মরণ করল কলকাতা উপ হাইকমিশন। দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে ১৮ এপ্রিলের পরিবর্তে ১৯ এপ্রিল দিবসটি পালন করা হয় মিশনের পক্ষ থেকে। এদিন সকালে কলকাতার ‘৯, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মরণী’ -তে অবস্থিত উপ হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রদক্ষিণ করেন উপ হাইকমিশনারসহ মিশনের অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

উপ হাইকমিশনার তৌফিক হাসান ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন হেড অব চ্যান্সেরি মিয়া মোহম্মদ মইনুল কবীর, ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) মোফাকখারুল ইকবাল, ফার্স্ট সেক্রেটারি (ভিসা) মনসুর আহমেদ বিপ্লব, ফার্স্ট সেক্রেটারি (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মিস মৌসুমী ওয়াইজ প্রমুখ। এরপর মিশনের প্রধান ফটকের সামনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রদক্ষিণ শেষে তৌফিক হাসান বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বাইরে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনেই প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। ওই বছরের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে সরকার যখন প্রথম শপথ গ্রহণ করে তার একদিন পর ১৮ এপ্রিল কলকাতা উপহাইকমিশনের তৎকালীন ডেপুটি হাইকমিশনার হোসেন আলি এক সাহসী কাজ করেন, সেসময় এই ভবনটি ছিল পাকিস্তানের উপহাইকমিশন কার্যালয়। তখন পাকিস্তানের পতাকাটি নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ঘটনাটি সেসময় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল। আর তার ফলেই সেই সময় বহির্বিশ্বের সবদেশ জানতে পারলো যে বাংলাদেশ নামক একটি দেশ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে। এই কারণে এই দিবসটি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আজকে সেই দিনটিকে স্মরণ করে সেই দিনের মর্যাদা রক্ষার্থে মিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী জাতীয় পতাকাকে নিয়ে পুরো মিশন চত্বর প্রদক্ষিণ করার পর সেই পতাকাকে উত্তোলন করা হয়’।

এদিকে ঐতিহাসিক এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করায় কলকাতা উপ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান সহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এম. হোসেন আলী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন -এর মহাসচিব এম. হাবিবুল্লাহ হাবিব। প্রতিবেদক দিবসটির বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ কথা জানান। সেই সময় তিনি ঐতিহাসিক এ দিনটি আগামীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সহ বিদেশে অবস্থিত সকল দূতাবাসে উদযাপনের আহ্বান জানান।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে