শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

গাইবান্ধায় ৭ দফা দাবিতে সাঁওতালদের বিক্ষোভ

প্রকাশের সময়: ৮:০০ অপরাহ্ণ - রবিবার | এপ্রিল ২২, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

ফরহাদ আকন্দ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রংপুর সুগার মিলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের উচ্ছেদের ঘটনায় আদিবাসী-বাঙালিদের স্কুল পুণঃপ্রতিষ্ঠা ও ৭ দফা দাবিতে গাইবান্ধা শহরে বিক্ষোভ মিছিল এবং জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে অবস্থান ও স্বারকলিপি প্রদান করেছে খামার থেকে উচ্ছেদের শিকার সাঁওতালরা।

রবিবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে কয়েক শত সাঁওতাল সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার থেকে এসে জেলা শহরের কমিউনিস্ট পার্টি অফিসের সামন থেকে বিভিন্ন ফেস্টুন ও লাল পতাকা সম্বলিত একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী বাঙালী সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও জনউদ্যোগ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা শাখার সভাপতি মিহির ঘোষ, আদিবাসী বাঙালী সংহতি পরিষদের আহŸায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ ও জন উদ্যোগের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারন সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, মানবাধিকার কর্মী কাজী আব্দুল খালেক, ভূমি সংগ্রাম কমিটির নেতা স্বপন শেখ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুরাদজ্জামান রব্বানী, সিপিবি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম, আদিবাসী নেতা থমাস হেমব্রম, রাফায়েল হাসদা, সুফল হেমব্রম, আদিবাসী নেত্রী প্রিসিলা মুর্মু, রোমেলা কিসকু, অলিভিয়া মার্ডি প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঘটনার ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও তিন সাঁওতাল হত্যাকান্ড মামলার দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। হত্যাকান্ডের আসামি গোবিন্দগঞ্জের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাপমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুলসহ সকল আসামীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দ্রæত বিচার শুরু করার দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্মের জন্য নেয়া আদিবাসী ও বাঙালিদের কাছ থেকে আঁখ চাষের শর্তের ভিত্তিতে ১৮৪৩ একর জমি রিক্যুইজিশন করেছিল। কিন্তু এখন সেই শর্ত আর বাস্তবে কার্যকর নেই। আঁখ চাষের পরিবর্তে ওইসব জমিতে অন্য ফসল চাষ এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে ওই জমি লীজ দিয়ে অনেক আগেই রিক্যুইজিশনের চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। ওই শর্ত ভঙ্গের কারণেই বাগদাফার্ম এলাকার সেই সময়ে নেয়া সম্পত্তির মালিক এখন আদিবাসী সাঁওতাল ও বাঙালিরা। বক্তারা অবিলন্বে আদিবাসী সাঁওতাল ও বাঙালিদের সম্পত্তি ফেরত দেবার দাবি জানান।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, আমি খুবই আনন্দি আপনারা কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই স্মারক লিপি প্রদান করেছেন। আপনাদের দাবীগুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং আমি স্কুল পুণ:প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অত্র এলাকা পরিদর্শন করবেন।

তিনি আরও জানান, তাদের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ওই এলাকায় আদিবাসী সাঁওতালদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

সাঁওতালদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, লুটপাট, ভাংচুর, নির্যাতনের বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ওই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের শাস্তিসহ ৭দফা দাবি জানিয়ে আসছে নির্যাতিত সাঁওতালরা। গৃহহারা আদিবাসী-বাঙালিরা ঝুপড়ি করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সেই সাথে আদিবাসী শিশুদের জন্য তাদের ভাষায় পড়াশুনার জন্য যে স্কুলটি ছিল, যা সন্ত্রাসীরা পুড়িয়ে দিয়েছে তা পুণ:প্রতিষ্ঠার জন্য জোর দাবী জানানো হয়।

প্রসঙ্গত : ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। সাঁওতালদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিœসংযোগ ও গুলি করে তিন সাঁওতালকে হত্যা করা হয়। এসময় সংঘর্ষে কয়েকজন সাঁওতাল নিহত ও পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত্য ২০ জন আহত হন। ঘটনার ১১ দিন পর ১৬ নভেম্বর রাতে সাঁওতালদের পক্ষে মুয়ালীপাড়া গ্রামের সমেস মুরমুর ছেলে স্বপন মুরমু বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে