শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

‘ঘর-দরজা নেই, মিডাই দিয়া পইত্তা বেলা সেহরী খাইছি বাবা’!

প্রকাশের সময়: ৩:৩১ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | মে ২২, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: আমারে কেউ কার্ড দেয় না। কত চেয়ারম্যান মেম্বার আইলো। কত মেম্বাররে কইলাম। কেউ দেয় না বাবা! আমি এহন চাইয়া খায়। ভিক্ষাও করবার পারি না। সরম করে। এক সময় আমার অনেক কিছুই ছিলো। ‍কিন্তু এহন কিছুই নাই।

ঘরে তরকারিও নাই। কেমনে পইত্তা বেলা ভাত খাইয়াম। পরে আইজ রাতে মিডাই (আখের গুড়) দিছিলো ওই বাড়ির এক মহিলা। তা দিয়াই পইত্তা বেলা সেহরির সময় খাইছিলাম। আমারে যদি দয়া করে একটা কার্ড দিতাইন তাহলে খুবই খুশি অইতাম।

শনিবার (১৯ মে) সকালে এ প্রতিবেদকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে এমনভাবেই কথা গুলো বল ছিলেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কৈচাপুর ইউনিয়নের আফজান বিবি ( ৭৭) নামে এক বয়স্ক নারী।

এসময় তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে আরও বেলেন, আমার স্বামী অনেক আগেই গাড়ির তলে পইরা মইরা গেছে। একটা পুলারে মাইনসে পিটাইয়া মাইরা ফেলাইলো। আরেক পুলা মাইনসের বাড়িতে টুকটাক কাম কইরা খায়। হের দিনই চলে না। আমারে দেখবো কেমনে? আমি এহন অসহায়। আমারে কেউ দেহে না বাবা!

স্থানীয়রা জানায়, আফজান বিবি বর্তমানে বসবাস করেন উপজেলার ৩নং কৈচাপুর ইউনিয়নের দর্শারপাড় গিয়াস উদ্দিন হাজীর বাড়ির পূর্ব পাশে। জাতীয় আইডি কার্ড অনুযায়ী তার বয়স প্রায় ৭৭ বৎসর চলছে। ভাঙ্গা খঁড়ের ঘরে বসবাস করেন এ বৃদ্ধা নারী।

সে মাদ্রাসা পড়ুয়া ৮ বৎসরের ইয়াতিম এক নাতীকে নিয়ে ওয়াখানেই থাকেন। ঝড় বৃষ্টি রোদ্রের মাঝে প্রতিনিয়ত লড়াই করে টিকে রয়েছেন এই বৃদ্ধা আফজান বিবি। ঘর নেই, দরজা নেই। আছে শুধু মাথা গুজার এক টুকরো জায়গা। তাও নিজের নয়। গিয়াসউদ্দিন হাজীর দেয়া।

এদিকে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেনকে এ বিষয়টি অবগত করলে, তিনি আফজান বিবির জন্য একটা কার্ডের ব্যবস্থা করে দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

উপরে