শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা ছিল মুক্তামনির, এই আক্ষেপ থেকে যাবে চিরকাল

প্রকাশের সময়: ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | মে ২৪, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: প্রত্যেক মানুষের জীবন বড়-ই বিচিত্র। বিচিত্র মানুষের সব চিন্তাধারা। আর সেই সব বিচিত্রতা দিয়ে ঘীরে রাখতে চাই সে তার পৃথিবীকে। যেখানে থাকবে না কোন হতাশা, বাধা-বিপত্তি, জরা, মৃত্যু, ক্রোন্দন। যেখানে বইবে মৃদ্যু হাওয়ার সাথে পুষ্পসৌরভ, পাখির কলাতন, নয়ানাভিরাম প্রকৃতি, এক কথায় ভালোবাসা ও ছায়াচ্ছন্ন অন্য এক পৃথিবী।

ছোট্ট একটা জীবনে মানুষ সব কিছু পায়না। পায়না হৃদয়ে লালিত বেঁচে থাকার অবলম্বন।

কিছু স্বপ্ন অসম্পূর্ণ রেখে অতৃপ্ততার মাঝ দিয়ে পৃথিবীর সব মায়া, মমতা ভালবাসা ত্যাগ করে মানুষ একদিন চলে যায় কালের চিরন্তন স্রোতে নিজেকে বিলিন করতে।

কিন্তু না ফেরার গল্পটা কার কখন শুরু হবে তা কেউ জানেনা, আর জানেনা বলেই হাজারো স্বপ্ন বুনন করে চলে মানুষ! তবুও সব জেনেও দীর্ঘজীবী কিংবা অমরত্ব লাভ এ যেন মানুষের চিরকালের আকুতি। ছোট্ট মুক্তমণিও তার ব্যতিক্রম নয়। নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিজের সাথে যুদ্ধ করেছে বারংবার। বেচে থাকার খুব ইচ্ছা ছিল।

জন্মের পাঁচ বছরের মাথায় প্রথম রোগের প্রকাশ পায়। বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মিডিয়ায় ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশের ভিত্তিতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সাড়া দেন। এরপরও সৃষ্টিকর্তার কৃপা আর পরিবারের প্রগার ভালবাসা, মমত্ববোধ ও দৃশ্যমান- অদৃশ্যমান যত পরিচিত অপরিচিতের ভালোবাসা আশির্বাদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাড়ায় মুক্তমণি নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেও সেটা ছিল দুঃস্বপ্নে আঁকা দৈমনস্বের দুর্লভ মুহূর্ত।

প্রধানমন্ত্রী নিজ দায়িত্বে ছয় দফায় অস্ত্রপাচার হলেও ঘুরে দাঁড়াবার স্বপ্নগুলো মুক্তামনির বারবার হোঁচট খেয়েছে।

অবশেষে দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিল মুক্তা। মুক্তামণি অনুভব করতে পেরেছিলো পৃথিবীর ছোট্ট বুকে তার জন্য কতটা ভালবাসা ছিল। কত শত মানুষ প্রতিনিয়ত তার খবরাখবর, দেখভাল করেছে। এখন হয়তো সে আর পৃথিবীতে নেই। হয়তো সে দেখতে পাচ্ছে না দেশের সমস্ত মানুষগুলোর চোখে মুখে হারানোর জ্বলছাপ। সবার চোখের কোনে জ্বল জমে জমে ফোটা ফোটা। মুক্তামণির সাথে কারও কোন রক্তের সর্ম্পক্য নেই, নেই কোন আত্নীয়তার বন্ধন। তবুও যেন এ সর্ম্পক্য সব কিছুর উর্দ্ধে অবস্থান করে নিয়েছে।

ছোট্ট একটি মানুষ সবাইকে এতটা কাঁদিয়ে চলে যাবে সেটা কল্পনার অতিতেও কখনো ছিল না। মুক্তামণি বেঁচে থাকলে সব মানুগুলোই খুব খুশি হত। মুক্তামণির অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেনা যে সে দূর – অজানায় মিলিয়ে গেছে। সবাই ভাবছে পুরোটাই দুঃসপ্ন। হয়তো আগামী ভোরের আশান্নীত সূর্যের আলোই সব সে দুঃস্বপ্ন কেটে যাবে।

বাবা- মা, বোন হিরামণি, দাদি, আপনজন, দূরের মানুষ কেউ চাইনি তুমি চলে যাও। সবাই খুব চেষ্টা করেছে তোমাকে ধরে রাখার। তোমার প্রিয় বোন হিরামণি, হয়তো আঘাতটা তার-ই বেশি লেগেছে। বোনের সব কিছুর মধ্যে দিয়ে সব সে অসংলগ্নতা ফুটে ওঠে। হিরামণি নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিল তোমাকে নিয়ে খেলবে, এক সাথে স্কুলে যাবে, অলস সময়গুলো গ্রামের খেজুর গাছের নিচে বসে কাঁটিয়ে দিবে। নির্মম বাস্তবতার কাছে সব সে ইচ্ছেগুলোর পরাজয় হল। ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে একটি আক্ষেপ থেকে যাবে চিরকাল। তোমার সাথে কাটানো সুন্দর মুহুর্তগুলো ভেবে জীবন কাটিয়ে দিবে তোমার আপনজনেরা।

উপরে