বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

গাইবান্ধার চরাঞ্চালে লাভজনক হয়ে উঠেছে মরিচ চাষ

প্রকাশের সময়: ১১:০১ পূর্বাহ্ণ - শনিবার | মে ২৬, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ফরহাদ আকন্দ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার চরাঞ্চলে মরিচ চাষ সবচেয়ে লাভজনক হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বছর গুলিতে মরিচ উৎপাদন করে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরের কৃষকদের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। চরের উৎপাদিত মরিচ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থান ও কোম্পানিতে। ফলে চরাঞ্চলের অঞ্চলের মরিচের চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় এবার ৭০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন কৃষকরা। বিঘা প্রতি ১৩ মণ মরিচ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়ছে। ভাদ্র মাসের শেষে এবং আশ্বিনের প্রথম সপ্তাহে মরিচ চাষের উপযুক্ত সময়। মাঘ ও পুরো ফাল্গুন মাসেই মরিচ বিক্রি করতে পারবে কৃষকরা। ফাল্গুন মাসে পুরোদমে মরিচ বাজারে উঠতে শুরু করে।

ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারি চরের মরিচ চাষি নুরুল মিয়া বলেন, চলতি বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে বিদেশি জাতের মরিচ গাছের চারা রোপন করিছি। এই দুই বিঘা জমিতে পরিমাণ মতো জৈব সার ব্যবহার করার ফলে মরিচের খুব ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি বারের মতো এবারও আমি মরিচ চাষে লাভের আশা করছি।

মজিবর রহমান নামের আরেক মরিচ চাষি বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে মরিচের গাছ লাগিয়েছি। কিন্তু জমিতে জৈব সার ব্যবহার না করে বাজারের সার ব্যবহার করার কারণে মরিচের গাছ পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে। পোকার আক্রমণের কারণে আমি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। পরে কৃষি অফিসের পরামর্শে পোকা দমনে বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহার করেও এক বিঘা জমির মরিচ গাছ বাচাতে পারিনি।

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের গলনাচরের মরিচ চাষি মকবুল হোসেন বলেন, মরিচ চাষে খরচ অনেক কম। তাছাড়াও অন্যান্য আবাদের তুলনায় অনেক কম পরিমানে সার ব্যবহার করে লাভজনক এমন ফসলে চরাঞ্চলের জমিগুলোতে অনেকেই মরিচ চাষ করেছে। আমি নিজেও দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি।

গাইবান্ধার সবচেয়ে বড় মরিচের হাট ফুলছড়ি। এই হাটটি নদী সংলগ্ন হওয়ায় প্রচুর মরিচের আমদানি হয়। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এ হাটে কাঁচা মরিচ কিনতে আসেন বিভিন্ন জায়গার বেপারীরা। এদিকে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, জামালপুর, ঢাকা থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ও আড়ৎ মালিক চরাঞ্চলে এসে মরিচের ক্ষেত দেখেন। যেসব মরিচ চাষী মরিচের ক্ষেত বিক্রি করতে ইচ্ছুক তাদের আবাদকৃত প্রতি বিঘা জমি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় আগাম কিনে নিচ্ছেন।

ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ফুলছড়ি উপজেলায় এবার মরিচ চাষ অনেক ভালো হয়েছে। চরাঞ্চলে মরিচ চাষে কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে মরিচের ভালো ফলন হয়েছে। ফলে মরিচ চাষে চরাঞ্চলের অনেক কৃষকের উন্নতি হয়েছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ. কা. মো. রুহুল আমীন বলেন, চরাঞ্চলের মাটি মরিচ চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত। ভালো চারা দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে গাইবান্ধার ফুলছড়ির চরাঞ্চাল গুলোতে মরিচের খুব ভালো ফলন হয়েছে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে