বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

আদালতের আদেশ অমান্য করে বিলের পাড় নির্মাণ

প্রকাশের সময়: ৪:১৫ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | মে ২৯, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:
ফরহাদ আকন্দ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : আদালতের আদেশ অমান্য করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের আজরার বিলের পাড় নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানালেও কাজ বন্ধ না রেখে কাজ শেষ করেন ঠিকাদার।

এদিকে বিলের পাড় নির্মাণ কাজ বন্ধের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্তকর্তার বিরুদ্ধে আবারও ভায়োলেশন (আদালতের আদেশ অমান্য) মামলা দায়ের করেন শ্যামল চন্দ্র দাস নামের স্থানীয় এক মৎস্যজীবি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের আজরার বিলের ৩.২৩ হেক্টর জমির পাড় নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করে মৎস্য বিভাগ। ১৮ হাজার ১২৫ ঘনমিটার মাটি কাটার জন্য ব্যয় ধরা হয় ১৮ লাখ টাকা। কার্যাদেশ দেওয়া হয় চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ এপ্রিল। এই পাড় নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি পান সাইফুল ইসলাম তুহিন নামের এক ঠিকাদার।

বিলের জমির পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন ৩ একর ১৯ শতক জমি দখল করে পাড় নির্মাণ করা হচ্ছে দাবি করে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানিয়ে পলাশবাড়ী সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন একই ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মৎস্যজীবি শ্যামল চন্দ্র দাস। যার মামলা নম্বর ১৪/১৭ (অন্য)। এতে মনোহরপুর ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্তকর্তা, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) বিবাদী করা হয়।

আদালত শুনানি শেষে গত ২৫ মার্চ বিলের পাড় নির্মাণের কাজে স্থিতি (স্টাটাসকো) অবস্থার আদেশ দেন। সেই আদেশে বলা হয় বাদীর ভোগদখলের জমিতে বিঘœ সৃষ্টি করতে বা জমির আকার-আকৃতির পরিবর্তন করতে না পারে তার জন্য উভয়পক্ষকে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। এই আদেশের কপি বিবাদীরা ২৮ মার্চ হাতে পান। তারপরও আদালতের আদেশ অমান্য করে আজরার বিলের পাড় নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম তুহিন।

আদালতের স্থিতিবস্থার আদেশ অমান্য করার অভিযোগে শ্যামল চন্দ্র দাস একই আদালতে দেওয়ানী কার্যবিধি সহিংসা ৩৯ আদেশের ১/২ নং বিধি এবং ৫১ ধারায় আবারও মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ১০/১৮। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদার ৩০ এপ্রিল এই বিলের পাড় নির্মাণের কাজ শেষ করেন।

মৎস্যজীবি শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, মামলা করার বিষয়টি আমি মৎস্য বিভাগ ও ঠিকাদারকেও জানিয়েছি। এরপরও তারা আদালতের আদেশ অমান্য করে বিলের পাড় বাঁধার কাজ অব্যাহত রাখেন।

আদালতের আদেশ অমান্য করে কাজ করছেন কেন এমন প্রশ্ন করা হলে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম তুহিন বলেন, আমি মামলার বিষয়ে কিছু জানি না। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করি। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির কারণে বিলের পাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় তা মেরামত করছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুদ দাইয়্যান বলেন, যেহেতু মামলায় মৎস্য বিভাগকে বিবাদী করা হয়নি। তাই বিলের পাড় বাঁধার কাজ যথাসময়ে শেষ করা হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে পাড় ধ্বসে যাওয়ায় তা ঠিকাদারের কাছ থেকে মেরামত করে নেওয়া হচ্ছে।

আদালতের স্থিতি (স্টাটাসকো) অবস্থার আদেশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে মিডিয়ার সামনে কিছু বলতে রাজী হয়নি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রোখছানা বেগম।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, আদালতের আদেশের বিষয়টি কর্মকর্তারা কেন আমলে নেননি তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে