বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

নতুন করে প্লাবিত হয়েছে মৌলভীবাজার পৌর এলাকা

প্রকাশের সময়: ৭:০৪ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুন ১৭, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

এ.এস.কাঁকন, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারে বারইকোনা এলাকায় মনুনদীর ভাঙ্গনের ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দোকান পাট-বাসাবাড়ীতে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া নি¤œাঞ্চলের ৩টি ইউনিয়ন নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। শহরের সাথে সিলেট ও চার উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রোববার (১৭ জুন) সকাল থেকে পৌরসভাধীন বড়হাট এলাকায় মৌলভীবাজার-সিলেট রোডে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এর আগে, মৌলভীবাজার-রাজনগর-সিলেট রোডের রাজনগর উপজেলাধীন কদমহাটা এলাকায় বন্যার পানিতে রাস্তা তলিয়ে গেলে এই রোডে যান চলাচল বন্ধ করা হয়। এর ফলে সিলেটের সঙ্গে মৌলভীবাজারের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।এছাড়া জেলার রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।


মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। মনু নদীর পানি চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫৪ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২দিন ধরে শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝঁকিপূর্ণ স্থানে বালুর বস্থা দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করে শেষ রক্ষা হলো না। শনিবার মধ্য রাতে বারইকোনা এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে শহরের তিনটি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। বাড়ী ঘরসহ দুই শতাধিক দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। অনেকে বাড়ী ঘড় ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে উঠেছেন। এছাড়া চারটি সরকারী খাদ্য গোদামে পানি প্রবেশ করায় মজুদ খাদ্য নষ্ঠ হওয়ার আশংখা রয়েছে। চরম দূভোর্গে পড়েছেন বন্যার্থ শহরবাসী।
গত কয়েকদিন থেকে ভারতের উত্তর ত্রিপুরা এলাকায় বৃষ্টিপাত অভ্যাহত থাকায় মনু, কুশিয়ারা ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনু ও ধলাই নদীর এ পর্যন্ত অনেক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার পানি প্রবেশ করে কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও সদর উপজেলার বিস্তৃন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত ১৩ জুন সকাল থেকে তলিয়ে গেছে এ সব বাড়ি ঘর সহ রাস্তাঘাট। পানি বন্দী রয়েছে জেলায় প্রায় ৫ শত গ্রামের ৩ লাখ মানুষ। গত ৪ দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে ৫ জন মারা গেছেন।
এদিকে, বন্যার পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর মেজর মোহাইমিন বিল্লার নেতৃত্বে ২১ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটলিয়ন সিলেট সেক্টরের ৭০ সদস্যের একটি টিম কাজ করছে। সেনাবাহিনীর দলটি মনুনদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষায় বালি ভর্তি বস্তা ফেলে চেষ্টা চালাচ্ছে। বন্যায় তলিয়ে যাওয়া এলাকায় আটকা পড়া মানুষ উদ্ধারে কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও রাজনগরে সেনাবাহিনী কাজ করছে।

পাশাপাশি শহরের বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিরাপদ স্থানে অনেকেই সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকেই নীচ তলা ছেড়ে আত্মীয় স্বজনের দোতালা বাড়িতে আগে থেকেই আশ্রয় নিয়েছেন। প্রাইভেট কার সহ ব্যাক্তিগত গাড়ী উচু স্থানে রেখেছেন। সরকারী ও বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানের মুল্যবান কাগজপত্র উঁচু স্থানে নিয়ে রাখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম জানান, জেলার ৩টি উপজেলায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। মনু নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুকিপূর্ণ স্থান গুলো সেনাবাহিনীর একটি টিম ও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বাঁধ রক্ষায় কাজ করছে। এ পর্যন্ত ৩৪৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। নগদ ৫ লক্ষ টাকা বন্যা আক্রান্ত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও আরো ৫শ মেট্রিক টন চাল এবং শুকনো খাবার বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলি নরেন্দ্র বিজয় চক্রবর্তী জানান, এ পর্যন্ত অনেক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙ্গন দিয়েছে। ভারতের উত্তর ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টি পাত হওয়াতে মৌলভীবাজারে বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। পূণরায় উজানে বৃষ্টি না হলে মনু ও ধলাই নদির পানি কমে আসবে। তবে আবারও বৃষ্টি হলে মনু নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে মৌলভীবাজার পুরো শহর তলিয়ে যেতে পারে।

উপরে