শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ঈদ আনন্দে পর্যটকশূন্য মাধবকুন্ড

প্রকাশের সময়: ৮:২৮ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুন ১৯, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:
এ.এস.কাঁকন, মৌলভীবাজার: কোলাহলমুক্ত পরিবেশে ঈদের আনন্দকে উপভোগ করতে মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলোতে এখনো ভীড় জমেনি প্রকৃতিপ্রেমীদের। ঈদের আনন্দের পাশাপাশি পাহাড়, বনাঞ্চল আর চা-বাগানের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হতে, আর জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়ায় বন্যপ্রাণী দেখতে প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মৌলভীবাজারে ভীর জমান দর্শনার্থীরা।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসবেন প্রকৃতিপ্রেমিরা এমন আশা ছিল এখানের স্থানীয় সব হোটেল, রেষ্ট হাউস ব্যবসায়িদের। কারন প্রতিবছরই ঈদের আগেই এখানের সব হোটেল, রেষ্ট হাইসগুলো বুকিং থাকে। ব্যস্থ জীবনের মাঝে নিজেকে একটু স্বস্থি দিতে প্রতিবছর দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষদের লোকারন্যে পরিনত হয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সবকয়টি পর্যটনকেন্দ্র। যার মধ্যে পর্যটকদের স্বাগতম জানাতে দাড়িয়ে থাকা চা কন্যা, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, বধ্যভূমি-৭১, মণিপুরী পাড়া, নীলকন্ঠ চা কেবিন, বিটিআরআই, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও শহর ঘেষা সবুজে আবৃত সারি সারি চায়ের বাগান উল্লেখযোগ্য।


বিগত বছর গুলোতে ঈদের দিন ও তার পরেরদিনে লাউয়াছড়ায় প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার টিকেট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এবার গঠেছে তার ব্যতিক্রম। ঈদ আনন্দে পর্যটকশূন্য ছিল এই স্থানটি। এছাড়া দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইকোপার্ক ও প্রধান প্রাকৃতিক জলপ্রপাত মাধবকুন্ডেও বহিরাগত পর্যটকের সমাগম ঘটেনি। তবে স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমিদের ঈদ উদযাপনে কিছুটা ভিড় জমেছে এসব স্থানে।
ঈদের কয়েকদিন পূর্ব খেকে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙনে মৌলভীবাজার সদরসহ ৫ উপজেলা আকস্মিক বন্যার কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় বহিরাগত পর্যটকরা দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভেড়াতে আসেননি বলে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বনবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূএে জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদের দিন ও পরের ৩-৪ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় জমে মাধবকুন্ড, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ইকোপার্ক ও জলপ্রপাতে। কিন্তু গত ২-৩ বছরের তুলনায় এবারের ঈদে ৪ ভাগের ১ ভাগও বাহিরের পর্যটকের সমাগম ঘটেনি। এতে ব্যবসা বাণিজ্যে চরম মন্দাভাব দেখা দেয়। আর পর্যটক না আসায় এখানকার ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়েছেন। কারন গত বছর ভারী বর্ষণে টিলা ধ্বসে জলপ্রপাতের রাস্তা দেবে ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠে,সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের জন্য জলপ্রপাতের দরজা সাময়িক বন্ধ করে দেয়,আর এবার আকস্মিক বন্যার কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় পর্যটকরা আসতে পারছেন না। সেজন্য এবারও ব্যকসায়ীদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।
বনবিভাগের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার পর্যটক সংখ্যা কম। বন্যার কারনে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় পর্যটকরা আসতে পারছেননা।
মৌলভীবাজার সদর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী ও রাজনগরে আকস্মিক বন্যায় রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ঈদের পরদিন থেকে জেলা সদরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সেজন্য এবার ঈদ-আনন্দ উপভোগ করতে বাহিরের কোন পর্যটক আসেননি মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে