বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

 মৌলভীবাজারে এখনও পানি বন্দি হাজারও পরিবার

প্রকাশের সময়: ৯:০৬ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুন ১৯, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:
এ.এস.কাঁকন, মৌলভীবাজার:  মৌলভীবাজার ভারতের উত্তর ত্রিপুরা এলাকায় বৃষ্টিপাত অভ্যাহত থাকায় মনু, কুশিয়ারা ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। মনু ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের ২৫ টি স্থানে  বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার পানি
প্রবেশ করে মৌলভীবাজার জেলায়।গত কয়েক দিনের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হন মৌলভীবাজারের পাঁচ উপজেলার ৩০ টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার মোট ৪০ হাজার ২০০ পরিবার। ঈদুল ফিতরে অনেক মানুষ না খেয়ে ছিলেন,  বন্যায় ন্যুজু হয়ে যাওয়া এই মানুষগুলোর মধ্যে ছিলনা  ঈদ আনন্দ,পানি বন্দি রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। ঈদে বঞ্চিত ছিলেন ঈদ আনন্দ থেকে। ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি অনেকে। ঈদে পরিবার পরিজনদের সাথে দেখা করে কেলাকোলি কিংবা একসাথে বসে
সেমাই রুটি খেতে পারেননি অনেকেই। মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর,  কুলাউড়া, কমলগঞ্জ,বড়লেখা  উপজেলায় আকস্মিক
বন্যায়  বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ বন্যার প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। প্রকৃতির
নিষ্ঠুর আচরণে তারা যেনো দাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। গতবছর অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার হাওরগুলোতে বোরো ফসল নষ্ট হয়েছিলো , বিষক্রিয়ায় মরেছিলো অনেক মাছও। দফায় দফায় হয়েছিলো বন্যা। এ বছরও বন্যায় ও জলাবদ্ধতায় ক্ষুধা আর ঝুকিকে সাথে নিয়ে জলের সাথে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন পাচ উপজেলার বন্যাআক্রান্ত মানুষগুলো।বন্যা
আক্রান্ত অনেকে  ক্ষোভের সাথে জানালেন ঈদ আমাদের মতো দরিদ্রদের জন্য নয়, ঈদ হচ্ছে ধনীদের আনন্দ করার জন্য।বসতভিটা পানিতে নিমজ্জিত তাই অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন, কোন রকম পড়ে আছেন,বললেন চাইলেও কান্না করতে
পারি না। এখন সর্বত্র পানি থৈ থৈ করছে, এাণের আহারে বেঁচে আছেন বন্যাক্রান্ত মানুষগুলো। চরম দূর্ভোগে থাকা পরিবারগুলোর কাছে এই ঈদে ছিলনা বাড়তি কোন আয়োজন আনন্দ-উচ্ছাস, আছে শুধু হাহাকার ও বোবা কান্না। সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে  বন্যাকবলিত মানুষদের। জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম জানান, মৌলভীবাজারে বন্যায় আক্রান্তদের মধ্যে  প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ লক্ষ ৪০হাজার টাকা এবং ১১৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে।বন্যার্তদের জন্য ৬৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে