মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল কেন্দ্র-৬৩ নৌকা ৭১৮৯৫, ধানের শীষ ৩২১৩৬ (আপডেট-৭)

প্রকাশের সময়: ৭:২৯ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুন ২৬, ২০১৮

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ৪২৫টি। এর মধ্যে বেসরকারিভাবে ৬৩টি কেন্দ্রর ফলাফল পাওয়া গেছে।   নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৭১৮৯৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন  ৩২১৩৬ ভোট।

বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ভোট দেয়া শেষে শুরু হয়েছে গণনা। তবে জোর করে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ভরার চেষ্টা ও অনিয়মের ঘটনায় নয়টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিবউদ্দিন মণ্ডল সাংবাদিকদের বলেন, ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে নয়টির ভোটগ্রহণ তারা স্থগিত করেছেন। কেন্দ্রগুলো হল- ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এম ই এইচ আরিফ কলেজ (৬১ নম্বর কেন্দ্র), ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুরের ভোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (৯৮ নম্বর কেন্দ্র), ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের বিন্দান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২৭৪ নম্বর কেন্দ্র), ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের জাহান পাবলিক দত্তপাড়া কেন্দ্র (৩৪২ নম্বর কেন্দ্র), ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের খরতৈল মনসুর আলী আদর্শ বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে (৩৭২, ৩৭৩ নম্বর কেন্দ্র), ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের টঙ্গীর দক্ষিণ আউচপাড়ার হাজী কাসিম উদ্দিন বিএম এন্ড কমার্স কলেজ কেন্দ্র (৩৮৯ নম্বর কেন্দ্র)। নির্বাচন চলাকালীন বিএনপি অভিযোগ করেছে, দুই শতাধিক কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে একে বিএনপির ‘চিরাচরিত অভ্যাস’ বলে মন্তব্য করেছে আওয়ামী লীগ। এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গাজীপুরে যে খবর পেয়েছি তা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার। আমরা চমৎকার নির্বাচন চাইনি। সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বারবার সরকারের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করছে। যা সম্পূর্ণ জালিয়াতি ও ভোট ডাকাতির। এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক কেন্দ্রে দখল, জাল ভোট, এজেন্ট গ্রেপ্তার ও বের করে দেয়া হচ্ছে। তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীদের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নানক বলেন, গাজীপুর সিটিতে আজকের নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে দুই কারণে বিএনপি কোনো এজেন্ট দেয়নি। প্রথমত, প্রার্থীর দুর্বলতা। দ্বিতীয়ত, দলীয় কোন্দল। তারা দলীয় দৈন্যতায় ভুগছে। তাই নানা অভিযোগ করে উধোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে তারা।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে এ নির্বাচন শুরু হয়ে চলে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনে ২৯ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, এবিবিএন, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১১ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে ৫৭টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, সংরক্ষিত আসনে ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স রয়েছে। এছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি এবং অতিরিক্ত একটিসহ মোট ৫৮টি টিম মোতায়েন রয়েছে। প্রতি দুইটি ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে মোট ২৯ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এদের মধ্যে ৭ প্লাটুন কোনাবাড়ি ও কাশিমপুর এলাকায়, ১০ প্লাটুন টঙ্গী এলাকায় এবং ১২ প্লাটুন জয়দেবপুর, বাসন চান্দনা চৌরাস্তা ও কাউলতিয়া এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ান আনসার সমন্বয়ে ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৮টি মোবাইল ফোর্স, ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত রয়েছে। নির্বাচনের আগে ও পরে চার দিন ৫৭টি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। আরো ১০ জন অতিরিক্ত হিসেবে সর্বমোট ৬৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রয়েছেন।
এই নির্বাচনে ৪২৫টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। মোট সাত মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি ২৫৪ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৮৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উপরে