শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

৮৪বছর বয়সেও দুর্গাপুরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন সুরথ স্যার!

প্রকাশের সময়: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুলাই ১, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

তোবারক হোসেন খোকন,  দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি: শিক্ষাই জাতীর মেরুদন্ড। আর এই বাক্যটিকে সম্মান জানিয়ে দুর্গাপুর উপজেলার পৌরশহরে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে যাচ্ছেন ৮৪ বছর বয়সের জ্যেষ্ঠ নাগরিক গৃহশিক্ষক সুরথ চন্দ্র দে। তিনি দুর্গাপুর পৌরশহরের ১ নং ওয়ার্ডের সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বয়সের ভারে ন্যূয়ে পড়া শিক্ষক চশমা ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন শিশুদের পড়ানো থেকে শুরু করে সকল দৈনন্দিন কাজ।

শিক্ষা বিষয় নিয়ে রোববার দুপুরে সুরথ স্যার বলেন, আমার বাবা প্রয়াত বিধু ভূষন দে শিক্ষক ছিলেন। তাকে অনুসরণ করেই তার শিক্ষকতা। স্থানীয় এম,কে,সি,এম পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫০ সনে ভারত উপমহাদেশের অসমে চলে যাওয়ায় আর লেখাপড়া হয়নি। সংসারে অস্বচ্ছল থাকা স্বত্বেও বয়স্ক ভাতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তিনি ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অংক, ইংরেজী সহ তালিম দিয়ে যাচ্ছেন। এখনও তার বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। অভিবাভকরা ২শত থেকে ৩শত টাকা করে মাসিক বেতন দেন। তার নিজের দিক থেকে কোন চাহিদা নেই। হত দরিদ্র শিশুদের তিনি বিনা বেতনেও পড়ান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এপাড়া থেকে ও পাড়া ছাত্র পড়িয়েই চলছে সুবোধ স্যারের জীবন। এ পেশাতে সুরথ স্যার খুবই আনন্দিত। কথা বলতে বলতে অশ্রæভেজা চোখে তিনি বলেন, আমার ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে। ছেলে মেয়েদের বিয়েও দিয়েছেন তিনি। তাঁরা তাদের মত জীবন যাপন করছে। আমার স্ত্রী নিয়ে এভাবেই চালিয়ে নিচ্ছি আমার জীবন। এ পেশা আমার ভাল লাগে, তাই আমি আমার মত চলে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে কোমর ও পায়ে ব্যাথা হয়, হাসপাতালে ঔষধ আনতে গেলে লম্বা লাইনে যে সময় নষ্ট হবে তাই যাওয়া হয় না। আমার হাতে এ পর্যন্ত প্রায় ২হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে হাতে খড়ি দিয়ে শিক্ষার আলো জালিয়ে দিয়েছি। কোন সম্মাননা পাইনি, কেউ কোন খোঁজও নেয়না তাঁতেও দুঃখ নাই। গত বছর স্থানীয় সংস্কৃতি ঐতিহ্যে‘র ধারক জলসিঁড়ি পাঠাগারের ৪বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেছেন। আমার অনেক ছাত্র-ছাত্রী বড় বড় পদে চাকরি করছে, একদিন খোঁজ নেয়ার প্রয়োজনও মনে করছে না। আজ তুমি আমায় পা ছুঁয়ে প্রনাম করলে আমি এতেই ধন্য বাবা।

সুরথ স্যারের বর্তমানে যে অবস্থা, হয়তো তিনি এ পেশায় বেশি দিন থাকবেন না, কিছু দিনের মধ্যেই বয়সের ভারে ন্যুয়ে বিছানায় পড়ে যাবেন। আমরা কি পারি না তাঁর পাশে দাঁড়াতে? দেশের ধর্ন্যাঢ্য অনেক লোকই তো আছেন, কেউ কি শিক্ষার আলো ছড়ানোর পথিকৃৎ সুরথ স্যারের দায়িত্ব নিতে পারেন না? মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু ………

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে