সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৮ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

তিস্তার পানি বিপদ সীমা ছুঁই ছুঁই

প্রকাশের সময়: ৯:২০ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুলাই ১, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

নিয়াজ আহমেদ সিপন, লালমনিরহাট: ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় সৃষ্ঠ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। ক্রমেই বাড়ছে পানিবন্দির সংখ্যা।

রোববার (১ জুলাই) বিকেল ৩ টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ দোয়ানী পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটর। যা বিপদ সীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে।

তিস্তা ব্যারাজের বন্যা সতর্কীকরন কেন্দ্র জানান, ভারি বর্ষনের সাথে উজানের পাহাড়ী ঢলে রোববার সকাল থেকে তিস্তার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে থাকে। দুপুর ১২ টায় তিস্তা ব্যারাজে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২.৫৬ সেন্টিমিটার। তা বেড়ে গিয়ে বিকেল ৩ টায় পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটার। এ পয়েন্টের নতুন বিপদ সীমা নির্ধারন করা হয়েছে ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারনে তিস্তা পাড়ের লোক জনের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। ভারত গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে। প্রচন্ড গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। আরও কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারনা যাচ্ছে না। পানি গতি নিয়ন্ত্রন করতে তিস্তা ব্যারেজের অধিকাংশ জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে।

তিস্তার পানিতে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বহুল আলোচিত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা- দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সিন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, পার্শ্ববতী কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বেশ ইউনিয়নের চর এলাকার ২০ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার একর আমন ধানের ক্ষেতসহ অনেক ফসলী ক্ষেত তিস্তার পানিতে ডুবে গেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের অস্থায়ী বাঁধ গুলো হুমকির মুখে পড়েছে। এ বাধ গুলোঁ ভেঙ্গে গেলে তিস্তার পানি হাতীবান্ধা শহরে ঢুকে পড়বে। আদিতমারী উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ সংস্কার না করায় হুমকীর মধ্যে পড়েছে মহিষখোচা অংশ।

ইতোমধ্যে চর এলাকা গুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে। চর এলাকা গুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। এখনও পানি বন্দি পরিবার গুলোর মাঝে কোন খাবার বিতরণ করতে দেখা যায়নি।

তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে তিস্তা ব্যারেজ রক্ষার্থে পাউবো ‘ফ্লাড বাইপাস’ কেটে দিতে পারে। এ বাধঁ কেটে দিলে গোটা লালমনিরহাট জেলার  লক্ষাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়বে। এতে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতি হবে।

হাতীবান্ধা উপজেলার চর ধুবনীর আইয়ুব আলী, কিসমত লোহালীর সফিয়ার রহমান, পাটিকাপাড়ার রফিকুলসহ অনেক পানি বন্দি পরিবার অভিযোগ করে বলেন, আমরা পানি বন্দি অবস্থায় আছি। এখন পর্যন্ত আমাদের মাঝে কোন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। কেউ আমাদের খোঁজ পর্যন্ত করেনি।

হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী জানান, উজানের ঢলে তিস্তায় ব্যাপক ভাবে বাড়ছে পানি প্রবাহ। তবে কি পরিমান বাড়তে পারে সে বিষয়ে কোন তথ্য তার কাছে নেই। পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে ব্যারাজ রক্ষার্থে ফ্লাড বাইপাস কেটে দেয়া হতে পারে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারনে নিচু অঞ্চলের কিছু পরিবার পানি বন্দি হচ্ছে। সকল ইউএনও এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নদীর তীরবর্তি জনপদের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

উপরে