বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মানিকগঞ্জে ফসলী জমিতে ভাটা নির্মাণের প্রস্তুতি

প্রকাশের সময়: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুলাই ৩, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি
শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিন ফসলী জমিতে পাশাপাশি দুটি ইটভাটা স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। সিংগাইর পৌর সভার গোবিন্দল গ্রামের নৈলান পাড়ার কেইল্লার চক সড়কের উভয়পাশে এই ভাটা দুইটি স্থাপনের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনাম্য করে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধ ভাটা স্থাপনের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকাবাসীর কৃষকদের জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করে ভাটা স্থাপন করছে। ফলে এক দিকে স্থানীয়দের জমি দখল অপরদিকে অবৈধ ভাটা স্থাপিত হলে এলাকাবাসী পরিবেশ বিপর্যয়ের মূখে পড়বে বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের ৫ টি বোরো ধানের প্রকল্পও বন্ধ করায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রকল্প আওতাধীন জমির কৃষকেরা। এলাকাবাসী ভাটা স্থাপনের প্রচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে গণসাক্ষরিত আবেদন পত্র গত ১০মে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক, ১লা মার্চ পুলিশ সুপার , ১০ মে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ১১ এপ্রিল সিংগাইর উপজেলা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোসূত্রে জানাগেছে, কেইল্লা সড়কের পূর্ব পাশে মাত্র ৬০ শতাংশ জায়গার উপর ( এইচ বি সি) ও সড়কের পশ্চিম পাশে ৫২( এম এ এম ) নামে দুটি ভাটা নির্মাণ হচ্ছে। এই ভাটা দুটি নির্মাণ করছে সিংগাইর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবু, সাবেক মেম্বার সাহাবুদ্দিন, স্বর্ণ ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন, প্রবাসী বাবুল মিয়া ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মুসলেম মিয়া। অথচ স্থানীয়দের মতে প্রতিবছর একটি ইটভাটায় কমপক্ষে ১৬ বিঘা জায়গা ব্যবহৃত হয়। তাদের মতে এখানে ভাটা নির্মাণ করলে আশে পাশের ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে। অভিযোগ সূত্রে আরো জানাযায়, যদি এই ভাটা দুটি নির্মাণ করা হয় তাহলে এ এলাকার পরিবেশে ও চাষাবাদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান, অল্প জায়গার উপরে কোনো মতে কোনো ভাটা নির্মাণ করছে। পরে কৌশলে আশে পাশের জমির মালিকদের কাছ থেকে জোর পূর্বক তাদের জমি গুলো নিয়ে যাবে। যদি তারা না দিতে চায় তাহলে তাদের ক্ষতি করা চেষ্টা করবে।মাটির গুনাগুন নষ্ট হয়ে যাবে।ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা দিন দিন ব্যহত হবে।এক সময় কৃষকরা তাদের কাছে জমি বিক্রয় করতে বাধ্য থাকবে।

আমাদের মাটির রাস্তা। এ রাস্তাদিয়ে তারা বড় বড় ট্রাক নিয়ে ইট ফেলে ভাটার রাস্তা করছে।পুরোটা রাস্তাই তারা ভেঙ্গে ফেলেছে ।এখন একটু বৃষ্টি হলেই কাঁদা জমে থাকে রাস্তা দিয়ে আর হাটাচলা করা যায় না।

একই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার খোরশেদ আলম জানান, আমার এখানে ২১ বিঘা জমি আছে । আমার ২ বিঘা জমির উপর দিয়ে অবৈধ ভাবে ভাটার ট্রাক চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে ।বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি বেরোতে পাড়ছে না,আমার ২ বিঘা জমির পাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমার ৮ বিঘা জমির উপরে একটি ইরি ধানে প্রজেক্ট ছিল সেটিও তারা বন্ধ করে দিয়েছে। আমার বারবার এর প্রতিবাদ করায় আমাকে নানা রকম হুমকি দেয়। থানা পুলিশের ভয় দেখায়। ফলে আমার (কৃষকরা) এখন অসহায় হয়ে পড়েছি।

স্থানীয় মুফতি আব্দুর শুকুর জানান, আমার ৮ বিঘা জমি আছে । এই জমি থেকে আমি প্রতি বছর তিন ধরণে ফসল উৎপাদন করে আসছি। কিন্তু যদি এই চকে নতুন ইট ভাটা নির্মাণ করা হয় তাহলে আমার তথা সকলের ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে। আমরা এখানে ভাটা নির্মাণ না করা জন্য অনেকবার বাধা দেই কিন্তু তারা আমাদের কোনো কথা শোনে না।

একই গ্রামের মাসুম মিয়া জানান, আমার ১২ বিঘা জমি আছে । আমি এখানে একটি বাগান করেছি। কিন্তু যদি এখানে ইটের ভাটা হয় তাহলে আমার বাগান এখানে টিকিয়ে রাখাই কষ্ট হয়ে যাবে।

আবু দাউদ জানান, আমার ৬ বিঘা জমি আছে। এই এখানে সারাবছরই নানা ধরণের শাকসবজি চাষ করে আসছি। কিন্তু যদি এখানে কোনো ভাটা নির্মাণ করা হয় তাহলে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের পেটে লাথি মারা হবে।আমাদের এ অঞ্চলের শতকরা ১০০ ভাগ লোকই কৃষি কাজের সাথে জরিত।

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান হাবু জানান, আমারা আমাদের নিজেদের জায়গার উপর দিয়েই ইট ভাটা নির্মাণা করছি। অন্যকারো জায়গায় জোর পূর্বক কোনো কাজ করছি না। ভাটা নির্মাণে কারো কোনো অভিযোগ নেই শুধু একজন মাত্র ব্যাক্তি এলাকার শুকুর আলী শুধু তার অভিযোগ আছে।

সাবেক মেম্বার সাহাবুদ্দিন জানান,আমরা আমাদের নিজস্ব জায়গার ওপর ইট ভাট স্থাপন করছি । অন্যের যায়গার ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরীর কথা বললে তিনি তা অস্বিকার করে বলেন আমরা ১০ বছরের জন্য যায়গা ভারা নিয়েছি।আমরা অন্যর কোন ক্ষতি করছিনা।
আমজাদ হোসেন তার সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি আমাদের জানান,আমরা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিয়েই কাজ করছি।আমাদের যদি বৈধতা না ই থাকত তাহলে কতৃপক্ষই আমাদের কাজে বাধা দিত। আপাদত আমাদের কাজ বন্ধ আছে। মুসলেম জানান, আমার নিয়ম নীতি মেনেই ভাটা নির্মাণ করছি ।

এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ যুবায়ের জানান, আমরা ভাটা নির্মাণ কর্তৃপক্ষকে অনুমোদন দেই নি। যদি তারা নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তে¡ও ভাটা নির্মাণ করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে সিগাইর উপজেলার সহকারী কমিশিনার (ভূমি) হামিদুর রহমান জানান, আমরা কিছু দিন আগেও ঐ ভাটা নির্মাণ কর্তৃপক্ষকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি। যদি এর পরেও কাজ শুরু করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাঈদ আনোয়ার জানান, নির্মাণাধিন ভাটাকে জরিমাণা করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে আমি আপনার সাথে অফিসে কথা বলবো।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে