সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ছাতক রেলওয়েতে ব্যাপক অনিয়মে ব্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

প্রকাশের সময়: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুলাই ৮, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

বাংলাদেশ রেলওয়ের ছাতক বাজারে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয় ছাতক বাজারের অধীনে ছাতক-ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথ, পাথর কোয়ারী, কংক্রিট ম্লীপার কারখানা এবং রেলওয়ে ষ্টেশন, রেষ্ট হাউজ, গুদাম, বাসা-বাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনাসহ কয়েক শত একর মূল্যবান ভূমিকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব সরকারি সম্পদ ও টাকা হরিলুটে ব্যস্ত রয়েছেন। যে যেভাবেই পারছে টাকাসহ মালামাল আত্মসাত করছে।

স্থানীয় একটি সুত্র জানায়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, প্রধান সহকারী, সিএসপির ওয়ার্ক সুপারভাইজার, কর্মচারী, গার্ড সহ অনেকেই জড়িত দুষ্কৃতিকারী এই সিন্ডিকেটে। কিছু দিন পর-পর গুদামের মালামাল চুরি হয়ে গেছে বলে থানায় জিডি এন্ট্রি করে লক্ষ-লক্ষ টাকার মালামাল, রেলওয়ে ষ্টেশন, রোপওয়ে ব্যাংকার, সিএসপিতে রাখা রেলওয়ের কোটি টাকা মূল্যের স্ক্যাপমাল বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে চক্রটি। শহরে ষ্টেশন সংলগ্ন এলাকার অধিক মূল্যবান ভূমি, রেলওয়ের নদী ঘাটের ভূমি, মার্কেট, গোদাম ও বাসা ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত করছে তারা। এছাড়া রেলওয়ের বিদ্যূৎ সংযোগ বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে দিয়ে টাকা কামাই করছে অসাধু একটি চক্র।

অপর একটি গোপন সূত্রে জানা গেছে অবসরে যাওয়া কর্মচারীদের ফাইনাল সেটেলমেন্টের জন্য জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় প্রধান সহকারীকে, ঘুষ না দিলে ফাইল টেবিলে পরে থাকে। গত মার্চ/২০১৮ইং থেকে সিএসপির ভবনের ২য় তলা একটি ফ্লাটে প্রধান সহকারী বসবাস করলেও বাসা ভাড়া না দিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন। গত ৭মাস ধরে ষ্টেনো টাইপিষ্ট, ২ মাস ধরে ক্রাসার মেশিন ড্রাইভার শশ্বানঘাট সংলগ্ন একটি ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তার কোয়ার্টার বরাদ্ধ নিয়ে বাসায় বসবাস করলেও ভাড়া দিচ্ছেন না।

একইভাবে কম্পিউটার অপারেটর-ও  শশ্বানঘাট সংলগ্ন ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তার কোয়ার্টার বরাদ্ধের আবেদন করে গত ৫মাস ধরে বসবাস করছেন কিন্তু ভাড়া দিচ্ছেন না। লাইনম্যান রেলওয়ের বাসার বরাদ্ধ বাতিল করে সরকারের রাজস্ব ফাকি দিয়ে এখনও ঐ বাসায় বসবাস করছেন ভাড়া দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। টিএলআর ৫টি কোয়ার্টার দখল করে অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়ে মাসোহারা নিচ্ছেন। অন্য দিকে স্টেশন মাস্টার নিজেকে শ্রমিক নেতা পরিচয় দিয়ে সিলেটে অবস্থান করেন। এই সুযোগে রেল স্টেশনের কর্মচারী দু’সহোদর ৫/৬ টি বাসা দখল করে গরুর খামার ও বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন।

ছাতক রেল স্টেশনের মালামাল গুদাম অবৈধ দখল মুক্ত করতে এরই মধ্যে জিআরপি সিলেট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঐ অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত এপ্রিল মাসে গুদামে অভিযান চালিয়ে ৭/৮টি ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা জব্দ ও গুদাম সীলগালা করে জিআরপি থানা পুলিশ। পরে মোটা অংকের টাকার বিনিময় জব্দকৃত মালামাল সীলগালা ভেঙ্গে তালা খুলে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অপর দিকে ছাতক বাজার রেল-স্টেশন মাষ্টার সিলেটে বসেই নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। রেল-স্টেশনের জনৈক এক কর্মচারীর মাধ্যমে হাজিরা খাতা সিলেটে নিয়ে পূরো মাসের স্বাক্ষর দিচ্ছেন। গত ৬ মাসে একদিন রেল-স্টেশন মাষ্টার মতিন ভুইয়াকে তার দপ্তরে দেখা যায়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি সুমন নামের একজন পোর্টার দিয়ে স্টেশন মাষ্টারের দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন।

এছাড়া গত ১বছর ধরে রেলওয়ের পুরাতন রেষ্টহাউজসহ বিআর ৩ এ, বিআর ৩০ এ, বিআর ৬ এ, বিআর ৭ এ-বি, বিআর ৮ এ-বি, বিআর ৬ডি, সিএসপি ৪ এ-বিসহ মোট-১৭টি বাসা বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়ে লক্ষাদিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু চক্রটি। একাধিক বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ, মদ-গাঁজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল সেবন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে ছাতক রেলওয়ে এলাকা যেন অপরাধ, অপরাধী ও লুটপাঠের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়ে উঠেছে। বিআর, বিকেএইচ গাড়ি লোড টেন্ডার না দিয়ে প্রায় দেড় লক্ষ ঘনফুট পাথর লোডের কার্যক্রম কর্মচারীর মাধ্যমে পরিচালনা করে ৯লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ও ক্রাসার মিল মেরামতের নামে ৮লক্ষ টাকা, সিএসপির দেয়াল নির্মানে ১০লক্ষ টাকা, কর্মচারিদের দিয়ে পিতলের মোল্ড নাম্বার প্লেইট অর্ধেক করে ১২ লক্ষ টাকার বিল উত্তোলনসহ লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাতের সাথে জড়িত রয়েছে এই সিন্ডিকেট। কাগজে পত্রে টেন্ডার দেখানো হলেও বাস্তবে রেলওয়ের কর্মচারী দিয়েই কাজ করিয়ে থাকেন। স্থানীয় অনেকেই জানান, রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব সরকারি সম্পদ চুরি ও লুটপাঠে জড়িত। এদের বিরুদ্ধে জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা একান্ত প্রয়োজন।

অবৈধভাবে সরকারী বাসায় বসবাসের ব্যাপারে জানতে চাইলে কম্পিউটার অপারেটর জানান, কে বলেছে রেলওয়ের বাসায় থাকি? আপনারা ভুল শুনেছেন, আমি কোন রেলওয়ের বাসায় থাকিনা না। ৪ মাস আগে বাসা বরাদ্ধের জন্য আবেদন করেছিলাম বরাদ্ধ হয়নি তাই বাড়িতে থাকি। প্রধান সহকারী জানান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা, উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে অবগত করেই সরকারী কোয়ার্টারে আছেন। সিএসপির ভারপ্রাপ্ত সুপারভাইজার জানান, রেলওয়ের ৬/৭টি বাসায় বহিরাগত লোক থাকেন। কে-বা কারা এসব বাসার ভাড়া উত্তোলন করে তা আমার জানা নেই। এসব বিষয়ে সিএসপি’র উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, রেলওয়ে ও সিএসপির সকল কার্যক্রম টেন্ডারের মাধ্যমে হয়ে থাকে। টেন্ডার ছাড়া কোন কাজ হয়নি। এখানে টাকা আত্মসাতের কোন সুযোগ নেই। সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এখানে কোন দুর্নীতি নেই। রেলওয়ের বাসায় কোন বহিরাগত লোকের বসবাস নেই।

ছাতক রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, রেলওয়েতে দুর্নীতি-আত্মসাত, বাসা ও জমি ভাড়ার বিষয়ে তাকে লিখিত ভাবে অবহিত করলে তিনি এর ব্যবস্থা নিবেন। এ ব্যাপারে স্টেশন মাস্টার মতিন ভূইয়া মুঠোফোনে জানান তিনি শারিরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় ছুটিতে আছেন এবং গুদামের মালামালের ব্যাপারে লিখিত অবিযোগ দায় করা হয়েছে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে