বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

চা পাতায় স্বপ্ন দেখছেন ঝিনাইগাতীর পাহাড়ীরা

প্রকাশের সময়: ৪:৫১ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুলাই ৮, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

গোলাম রব্বানী টিটু, শেরপুর সংবাদদাতা: ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষা শেরপুরের ঝিনাইগাতী গারো পাহাড়ি জনপদ প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর হওয়ায় ১৯৯৩ সালে জেলা প্রশাসন ‘গজনী অবকাশ’ নামে গড়ে তোলেন পিকনিক স্পট। গজনী অবকাশ ও বন্য হাতির আক্রমণে ফসল ও প্রাণহানি হওয়ার কারণে এ অঞ্চলের এক বিশেষ পরিচিত রয়েছে। সেই পাহাড়ি জনপদ অঞ্চলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্তার মাধ্যমে চা চাষ শুরু করা হয়েছে। এখন চা চাষের মাধ্যমে নতুন সৌন্দর্যে সাজবে এ অঞ্চল।

সবুজের পাতায় সৌন্দর্য বৃদ্ধির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ক্ষেত্র তৈরির মাধ্যমে নতুন স্বপ্ন দেখছেন পাহাড়ীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি বিশেষজ্ঞ দল এ জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জমির মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১৮শ’ ৫৬ একর, নালিতাবাড়ী উপজেলায় ২৫শ’ একর ও শ্রীবরদী উপজেলায় ১১শ’ ৫১ একর জমি চা চাষের উপযোগী বলে ঘোষণা করেন। কিন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক জমি, অর্থায়ন, উদ্যোক্তা ও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তা গড়ে উঠেনি দীর্ঘদিন থেকে। প্রায় ১৪ বছর পর এবার ‘গারো হিলস টি কোম্পানী’ নামে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ক্ষুদ্র চাষীদের মাধ্যমে ২৭ হাজার চা চারা রোপণ করে ২৭ টি প্রদর্শনী বাগান করা হচ্ছে।

চা চাষী মো. আহসান উল্ল্যাহ বলেন, ‘গারো পাহাড়ী এলাকায় ফনিক্স ভাই (কোম্পানীর চেয়ারম্যান) আমাদের চা চাষে উদ্বুত্ত করেছে। ইতিমধ্যেই আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানতে পেরেছি টহরুই বা কালোগোটা, কালোনেওয়া নামে এ দুই ধরনের গাছ যেসমস্ত মাটিতে জন্মায় সেসমস্ত মাটি চা চাষের জন্য উপযোগী। আমাদের পাহাড়ী এলাকায় এ সমস্ত গাছ প্রচুর জন্মে। তাই ফনিক্স ভাইয়ের উদ্যোগে এ চাষ শুরু করেছি। আশা করি আমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন সত্যি হবে ইনশাল্লাহ। উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়নের চেয়ারম্যান মি. নবেশ খকসি বলেন, ‘গারো পাহাড়ে বন্যহাতির আক্রমণে ফসলাদি যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত। আর এজন্য এ এলাকার চাষী ভাইয়েরা ফসল ঘরে তুলতে পারে না। যেহেতু এ এলাকা চা চাষে উপযোগী তাই চা চাষ করতে চাষীরা ব্যাপক আগ্রহী।’ পঞ্চগড়ের সবুজ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজিং পার্টনার শাহিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমি নিজে একজন চা চাষী। চা চাষে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ এলাকায় টহরুই, কালোগোটা, কালো নেওয়া অর্থ্যাৎ নিশি বৃক্ষ গাছ দেখতে পেলাম। তাই এখানে প্রচুর চা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চা চাষীদের সাথে উদ্যোক্তা হিসেবে অংশ গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।’ গারো হিলস টি কোম্পানীর চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসাইন ফনিক্স বলেন, ‘এ অঞ্চলের মাটি চা চাষের জন্য উপযোগী। তার পরেও ১৪ বছর চলে গেছে এটা সম্ভব হয় নাই। জমি, অর্থায়ন ও উদ্যোক্তার অভাব ছিল। আমরা উদ্যোক্তা হয়ে সরকারের সহযোগিতায় এ বিষয়গুলো সমাধান করে এনেছি। তিনি আরও বলেন, চা চাষের মাধ্যমে যে চা উৎপাদন হবে তা শেরপুর জেলা তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপ‚র্ণ ভ‚মিকা রাখবে। পাশাপাশি গজনী পর্যটন কেন্দ্রের জন্য বড় অবদান রাখবে।’

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট’র (বিটিআরআই) সাবেক সহকারী অধীক্ষক এমএ খালেক জানান, ‘এ জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চা চাষাবাদের জন্য জমির মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার সময় আমি বিশেষজ্ঞ দলের সাথে ছিলাম। এখানকার মাটি, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও অন্যান্য পরিবেশগত অবস্থা চা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে চা উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বলেন, ‘এক সময় চা চাষ সিলেটেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০০০ সালে সালে পঞ্চগড়ে ও ২০০৫ সালে চট্টগামে চা চাষ শুরু হয়। এখানেও দীর্ঘ দিন গবেষণা ও চেষ্টা করা হচ্ছিল চা চাষের জন্য। আমরা যদি মাটির দিক থেকে চিন্তা করি এখানকার মাটি সিলেট-পঞ্চগড়ের মাটি মোটামুটি একই রকম। সুতারাং এখানে চা চাষ উপযোগী। বেসরকারী উদ্যোগে যে চা চাষ শুরু হয়েছে তা সাধুবাদ জানাই। চা চাষে যে কান ধরনের সহযোগিতা লাগলে আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনের মধ্য থেকে করা হবে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, ‘এ গারো পাহাড়ে চা চাষাবাদে যে উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন তার মাধ্যমে এ অঞ্চলের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হবে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পর্যটনেও আকৃষ্ট হবে।সরকারের নিকট এ অঞ্চলে চা চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।’

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে