বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

জনগনকে জিম্মি করে বেসরকারী চিকিৎসক সমিতির দাবি আদায় প্রক্রিয়া অমানবিক: ক্যাব

প্রকাশের সময়: ৮:০৮ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুলাই ৮, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

‍”জনগনকে জিম্মি করে দাবি আদায়ে প্রক্রিয়া অমানবিক, অনৈতিক চরম বর্বরতার সামিল, সাংবিধানিক অধিকার খর্বের সামিল” – চট্টগ্রামে এক ভূল চিকিৎসা ও চিকিৎসকের অবেহেলায় এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ব্যাপক অনিয়মে অভিযুক্ত বিতর্কিত ম্যাক্স ক্লিনিককে জরিমানার প্রতিবাদে বেসরকারী চিকিৎসক সমিতির ব্যানারে সকল বেসরকারী ক্লিনিক, ডায়গনিষ্ঠিক সেন্টার বন্ধের পর রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এমনটাই জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট সংস্থা কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

ভূল চিকিৎসা ও চিকিৎসকের অবেহেলায় এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত পরিস্থিতি ও র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ব্যাপক অনিয়মে অভিযুক্ত বিতর্কিত ম্যাক্স ক্লিনিককে জরিমানার পর বেসরকারী চিকিৎসক সমিতির ব্যানারে কোন প্রকার ঘোষনা ছাড়াই বেসরকারী ক্লিনিক, ডায়গনিষ্ঠিক সেন্টার ও প্রাইভেট প্র্যাকটিসসহ সকল চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে র‌্যাবের অভিযান বন্ধে আলটিমেটাম দিয়ে চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সমর্থিত সকল চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বার, বেসরকারী ক্লিনিক, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে অনিদিষ্ঠকালের জন্য সকল চিকিৎসা বন্ধ করে দেবার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযুক্ত ম্যাক্স হাসপাতাল ও বেসরকারী ক্লিনিকে র‌্যাবের অভিযান বন্ধের দাবি করে সাধারন রোগীদেরকে জিম্মি করে সাধারন মানুষের জীবন নিয়ে খেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব)। নেতৃবৃন্দ বলেন, র‌্যাব দেশের সাধারন জনগনের বৃহত্তর স্বার্থে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসাবে বিতর্কিত ম্যাক্স হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন এবং ব্যাপক অনিয়ম পান, সেকারনে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা হয়। কিন্তু বেসরকারী ক্লিনিকগুলির কোন অভিযোগ থাকলে মন্ত্রনালয় ও প্রশাসনের সাথে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু র‌্যাবের অভিযানকে প্রতিহত করার হীন ষডযন্ত্রে ধর্মঘটের ডাক দেয়া জনগনের চিকিৎসা সেবার মতো মৌলিক অধিকার খর্ব করার সামিল। যা জনগনের মৌলিক অধিকার খর্ব করার হীন প্রয়াস শুধু মাত্র নিন্দনীয় নয় এটা চরম বর্বরতার সামিল এবং আদিমযুগে “জোর যার মল্লুক তার” সে স্লোগানে প্রত্যাবর্তনের আহবান। এটা অনেকটা লাশের রাজনীতির মতো।

নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে লক্ষ লক্ষ রোগীকে জিম্মি করে এ ধরনের অনৈতিক, অন্যায্য, অযৌক্তিক ও অমানবিক কর্মকান্ড পরিহার করে সকল বেসরকারী চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকদেরকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারের কাছে প্রতিকার চাওয়ার পরামর্শ দিয়ে অবৈধ ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি করে ক্যাব নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে অবিলম্বে সাধারন জনগনকে জিম্মি করে বেসরকারী ক্লিনিক, চেম্বার, প্যাথলজি ল্যাব ও সকল চিকিৎসা বন্ধের ঘোষনায় হতাশা প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন রোগীদেরকে জিম্মি করে র‌্যাবের অভিযানকে ন্যাস্যাত করার হীন ষডযন্ত্র পরিহার করার আহবান জানান। গুটি কয়েক অসাধু লোকের অর্থ লিপসার কারনে চেম্বার ও ক্লিনিক বন্ধে সকল চিকিৎসকের একযোগে অঘোষিত ধর্মঘট চিকিৎসকদের মহান পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং চিকিৎসকরা আইনে উর্ধ্বে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মত প্রকাশ করে এ ধরনের আত্মঘাতি কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহবান জানান।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, চিকিৎসা পেশা একটি মহান সেবা ধর্মী পেশা হলেও বর্তমানে কিছু অসাধু চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকদের কারনে এ মহান পেশাকে কাজে লাগিয়ে দিনে দিনে কোটিপতি হবার বাসনায় লিপ্ত। সেকারনে রোগীর সেবা, মানবতার সেবার চেয়ে অর্থই তাদের কাছে মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁিড়য়েছে। ফলে সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসক ও সুযোগ সুবিধা থাকলেও রোগীরা সেখানে নুন্যতম চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। রোগীদেরকে ক্লিনিক ও চেম্বারে যেতে পারমর্শ প্রদান করা হয়। আর যে কোন মানুষ রোগাক্রান্ত হলেই রোগী হলেই আগে পরামর্শ দেয়া হয় প্যাথলজিকাল টেস্ট ও অপারেশন। কারন এতে চিকিৎকদের লাভ বেশী। যার কারনে প্যাথলজিকাল ল্যাব গুলি ব্যাঙের ছাতার মতো শহর, গ্রাম সর্বত্র ছাড়িয়ে পড়েছে। আর ক্লিনিকগুলি নামমাত্র সেবা দিয়ে গলা কাটা বিল আদায় করছে। বিএমএসহ সরকার ও বিরোধীদলের সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবি সংগঠনগুলির দৌরাত্ত্য, একচেটিয়া প্রভাবের কারনে এখানে রোগীদের মানম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কোন প্রকার নজরদারি করার সাহস পর্যন্ত নেই। ফলে মানুষ অসহায় হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চিকিৎসার জন্য ভিড় জমায়।

নেতৃবন্দ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেক্টরে এ ধরণের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের জন্য ক্লিনিক, প্যাথলজিকাল ল্যাবসহ স্ব্াস্থ্য বিভাগের সকল প্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদাবির দাবী জানান। স্বাস্থ্য সেক্টরে কমিশন প্রথা, উপহার প্রথা বাতিলসহ ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় কঠোর আইনী প্রতিকার এবং সিবিএ সংগঠনের মতো বিএমএর অযাচিত হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবী জানান।

 

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান ও ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি চৌধুরী কেএনএম রিয়াদ প্রমুখ।

 

উপরে