মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

কুলিয়ারচরে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ৭০, লুটপাট-ভাঙ্গচুর

প্রকাশের সময়: ৯:৩০ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুলাই ৮, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

রাজীবুল হাসান, ভৈরব প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে দুদিনে আহত হয়েছে ৭০ জন। এছাড়াও বাড়ি-ঘর ভাংচুর,অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।

সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষে সাগর মিয়া (১৬), মফিজ উদ্দিন (৭০), শাহ আলম (৩২), আবেদা (৫৫), পলাশ (২৫), সিজান (২২), পাভেল (২৫) নজরুল (৩৫), হাদীস (১৬), বাকি বিল­াহ( ২৫), রোখসানা (৩৫), বাচ্চু মিয়া (৪৫), রফিকুল ইসলাম (২৫) ও ইউপি চেয়ারম্যান পক্ষে কামরুজ্জামান খোকন (৩৮), পরাগ (২৫), আব্দুস ছালাম (৫৫) ও শাহজালাল (৩০) সহ উভয় পক্ষের প্রায় ৫০ জন নারী-পুরুষ আহত হয়। ইউপি চেয়ারম্যান মীর মোঃ মিছবাহুল ইসলাম পক্ষে কামরুজ্জামান খোকন (৩৮), পরাগ (২৫), আব্দুস ছালাম (৫৫) ও শাহজালাল (৩০) সহ উভয় পক্ষের প্রায় ৫০ জন নারী-পুরুষ আহত হয়।

গুরুতর আহতদের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার সকালে দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের কলাকূপা ও নন্দরামপুর গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলাকূপা গ্রামের নেতৃত্ব দেন ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোঃ মিছবাহুল ইসলাম ও নন্দরামপুর গ্রামবাসীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন  ছয়সূতী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সানু মিয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন।

জাহাঙ্গীর গ্রুপের মোস্তফা কামাল বলেন, রাস্তা নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের নির্দেশে কলাকূপা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রাদি নিয়ে আমাদের নন্দরামপুর গ্রামে প্রবেশ করে আব্দুল মালেক ও আলামিনের ঘর ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট করে। এছাড়াও হামলাকারীরা সাদ্দামের দুই কানি ফলন্ত কলাবাগান, ফাইজ উদ্দিন ও জসিমের আম, পেয়ারা ও লেবু বাগানের গাছ কেটে ব্যাপক ক্ষতি করে। তিনি আরো বলেন,তাদের ৩টি খড়ের গাদায় আগুণ ধরিয়ে দিয়েছে চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজন।

অপরদিকে চেয়ারম্যানের পক্ষে কামরুজ্জামান খোকন অভিযোগ করে বলেন, জাহাঙ্গীরের লোকজন তাদের গ্রামে হামলা করে বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের করে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এ ঘটনার পর চেয়ারম্যান মীর মোঃ মিছবাহুল ইসলাম স্টোক করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংঘের্ষর থবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউসার আজিজ ও কুলিয়ারচর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ নান্নু মোল্লা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নান্নু মোল্লা বলেন, ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণের, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। বর্তমানে ঘটনা স্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাতে ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর মোঃ মিছবাহুল ইসলাম এর কলাকূপা গ্রামবাসীর পক্ষে বিএনপি সমর্থিত ছালাম বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করার পর রাতভর পুলিশি টহলে বাড়ীর লোকজন রাতে পালিয়ে থাকায় খালি বাড়িতে চেয়ারম্যান মীর মোঃ মিছবাহুল ইসলাম লোকজন সংঘর্ষের ২য় দিন ৮জুলাই ভোরে জাহাঙ্গীর গ্রুপের বাড়ীতে ভাংচুর, লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় প্রায় ৩০/৪০টি ঘর করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে এলাকাবাসীরা জানান।

এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নান্নু মোল্লা জানান , সংঘর্ষের খবর শুনেই ঘটনাস্থল পুলিশ পৌছায়। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ২০ রাইন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুলিশ। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মীর মোঃ মিছবাহুল ইসলাম এর পক্ষের ছালাম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ভাঙচুর লুটপাট ঘটনায় এখনও কোন মামলা দায়ের করেন নি। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব থানার পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে