বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

হজে তালবিয়া পাঠের গুরুত্ব ফজিলত ও করণীয়

প্রকাশের সময়: ৬:১০ পূর্বাহ্ণ - শুক্রবার | জুলাই ২০, ২০১৮

হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক কাজ তালবিয়া পড়া। তালবিয়া বিশুদ্ধভাবে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালবিয়ার গুরুত্ব, ফজিলত, তালবিয়ার পাঠের শর্ত এবং যেসব স্থানে তালবিয়া পাঠ করতে হবে সে বিবরণগুলো জানাও জরুরি।

কেননা হজ ও ওমরায় মুসিলম উম্মাহর তালবিয়া পাঠ হলো মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে নিজেদেরকে তার আনুগত্যে নিয়োজিত করা। এ তালবিয়ায় তার নিরংকুশ আধিপত্যকে মেনে নিয়ে আনুগত্যে মাথা অবনত করার ঘোষণাও রয়েছে।

হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ইহরাম বাঁধার পর পরই এ তালবিয়া পাঠ করে আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর ক্ষমতার প্রতি আনুগত্যের শির নত করার ঘোষণা দেয়া ইহরামকারীর প্রথম শর্ত ও সুন্নাত।

যারা তালবিয়া পড়বে
হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ইহরামের পর প্রথম কাজই হলো তালবিয়া পড়া। প্রথম বার তালবিয়া পড়া শর্ত। আর তারপর তালবিয়া পড়া সুন্নাত।
অতঃপর হজের সব রোকনগুলো হাজিগণ তালবিয়া পাঠ করবেন। আরাফাতের ময়দান, মিনা-মুজদালিফা তালবিয়ার ধ্বনিতে থাকবে মুখরিত। এ তালবিয়ার শব্দগুলোকে (নারীরা স্বশব্দে পুরুষরা উচ্চস্বরে) ৪ ভাগে ৩ বার পাঠ করবে-

لَبَّيْكَ ا للّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ

তালবিয়ার উচ্চারণ

> লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক,
> লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক,
> ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক,
> লা শারিকা লাক।”

তালবিয়ার অর্থ

> আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত!
> আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোন অংশীদার নেই।
> নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও সম্পদরাজি নেয়ামত আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আপনার।
> আপনার কোন অংশীদার নেই।

মনে রাখা জরুরি

তালবিয়া আরবিতেই পড়তে হবে। আর তা হতে হবে বিশুদ্ধ। যারা বিশুদ্ধভাবে তালবিয়া পাঠ করে পারেন না। তাদের জন্য বিশুদ্ধভাবে তালবিয়া শেখা আবশ্যক। এবারও লাখ লাখ হাজি সারা বিশ্ব থেকে হজ পালন করবে; তাদের উচিত বিশুদ্ধভাবে তালবিয়া শিখে নেয়া।

যেসব সময় ও স্থানে তালবিয়া পড়তে হয়

– ইহরামের পর মিকাতেই ১ বার তালবিয়া পড়া শর্ত।
– অতঃপর বার বার তালবিয়া পড়া সুন্নাত।
– হজের সফরে প্রত্যেক ফরজ ও নফল নামাজের পর তালবিয়া পড়া মোসতাহাব।
– হজ ও ওমরার এক রোকন থেকে অন্য রোকনের মধ্যবর্তী সময়ে তালবিয়া পড়া।
– উঁচু স্থানে আরোহন কিংবা নিচে নামার সময় তালবিয়া পড়া।
– হজের সফরে ওঠা-বসা, ঘুমাতে যাওয়া, ঘুম জেগে ওঠার পর কিংবা স্বাভাবিক চলাফেরায় বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করা।

তালবিয়ার ফজিলত

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তালবিয়ার যে ফজিলত ঘোষণা করেছেন, তাতে হজের সফরে বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করা সাওয়াব ও কল্যাণের কাজ। হাদিসে এসেছে-

হজরত সাহল ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যখন তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার (তালবিয়া পাঠকারীর) ডানে ও বামে যত পাথর, গাছ ও মাটি ( আছে, এ সবই) তার সঙ্গে তালবিয়া পড়তে থাকে। এমনিভাবে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত গিয়ে তা (পড়া) শেষ হয়।

তালবিয়ার ফজিলত বর্ণনায় অন্য হাদিসে প্রিয়নবি ঘোষণা করেন-
হজরত আবু বরক ছিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন ধরণের হজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘আলআজ্জু, ওয়াছছাজ্জু’। অর্থাৎ উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ এবং কুরবানি করা।’

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে