বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের আচরণ কেমন হবে?

প্রকাশের সময়: ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ - সোমবার | জুলাই ৩০, ২০১৮

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি  পরিবার এমন জায়গা, যা মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে মায়ার বাঁধনে। কখনও এই বাঁধন ছিঁড়ে গেলে মানুষের শেকড়টাই যেন উপড়ে যায়। আর বার্ধক্য হলো, মানবজীবনের এক অনিবার্য বাস্তবতা। বেঁচে থাকলে প্রত্যেকেই বৃদ্ধ হয়, এটা আল্লাহর অমোঘ বিধান। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধের শক্তি। শরীরে বাসা বাঁধে নানা অসুখ-বিসুখ। এই অক্ষমতার কারণেই অবহেলার চোরাবালিতে নিক্ষিপ্ত হোন প্রবীণরা।

কখনো তাঁরা শিকার হন সন্তানের অবহেলা, অযত্ন ও দুর্ব্যবহারের। কখনো আবার তাঁরা শিকার হন অমতানবিক নির্যাতনের। শেষ পর্যন্ত কারো কারো তো ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রমে। ইউরোপ-আমেরিকার যেসব দেশে ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিকতার ভিত নড়বড়ে হয়ে ওঠেছে, সেসব দেশেই বৃদ্ধদের অমর্যাদার করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়। শিল্পোন্নত দেশগুলোতে আজ মানুষ যেন কাজের যন্ত্র। কাজের অযোগ্য একটি যন্ত্রের যেমন কোনো মূল্য থাকে না, তেমনি জীবনের পড়ন্ত বিকেলে বৃদ্ধরা মূল্যহীন হয়ে যান। যাঁরা একসময় শ্রম-ঘামের সবটুকুই বিনিয়োগ করেছেন সভ্যতার চাকা সচল করতে, তাঁদেরই পরিত্যক্ত যন্ত্রের মতো চলে যেতে হয় বৃদ্ধনিবাসে।

বয়োবৃদ্ধদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি হাজার বছর ধরে লালিত হয়ে আসছে মুসলিম দেশগুলোতে। দুঃখের বিষয় হলো, ইদানিং এসব দেশেও পশ্চিমা হাওয়া লেগেছে অনাকাক্সিক্ষতভাবে। ব্যাপারটি সুখের নয় কিছুতেই। আজ যাঁরা বৃদ্ধ, তাঁদের ধন-সম্পদ ও সময়ের সবটুকুই বিনিয়োগ করেছেন সন্তানের পেছনে। তাই তো ইসলাম বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ করেছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না। এবং মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ কর। তাদের একজন বা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে পৌঁছলে, তাদেরকে উফ শব্দটি বলো না, তাদের ধমক দিও না; তাদের সম্মান দিয়ে কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার সঙ্গে ন¤্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলো হে প্রভূ! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালান-পালন করেছেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৩/২৪)

মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘আমি তো মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে ভলো আচরণের নির্দেশ দিয়েছি। জননী সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুবছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট।’ (সুরা লুকমান: ১৪) সন্তানের অসহায়ত্বের সময় যেভাবে মা-বাবা তাদের স্নেহভরে লালন-পালন করেছিলেন। তেমনি মা-বাবর বৃদ্ধাবস্থায় সন্তারা তাদের সব চাহিদা পূরণ করবে। এমনটিই ইসলামের বিধান।

নবীজির কাছে এক লোক এসে প্রশ্ন করলেন, ‘আমার কাছ থেকে সবচেয়ে ভালো আচরণ পাওয়ার অধিকার কার? নবীজি (স.) বললেন, তোমার মায়ের। লোকটি আবার প্রশ্ন করলে তিনি একই উত্তর দেন। তিন-তিনবার এমন উত্তর দেওয়ার পর লোকটি আবার একই প্রশ্ন করে। নবীজি (স.)বলেন, তোমার পিতার।’ (বুখারি: ২২২৭)

আরেক হাদিসে এসেছে, ‘একদা জনৈক সাহাবি (নবীজি স.) এর কাছে জিহাদে যাওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষা প্রকাশ করলেন। রাসুল (স.) প্রশ্ন করলেন, তোমার মা-বাবা কেউ কি জীবিত আছেন? সাহাবি হ্যাঁ সূচক জবাব দিলেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সেবা করো। (বুখারি ২৮৪২) আবু দারদা (রা.) বলেন, আমি নবীজি (স.) কে বলতে শুনেছি, ‘পিতা-মাতা জান্নাতের মাঝের দরজা। যদি চাও দরজাটি নষ্ট করে ফেলতে পারো নতুবা তা রক্ষাও করতে পারো। (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ) রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘সন্তান মা-বাবার প্রতিদান কোনভাবেই দিতে পারে না। তবে হ্যাঁ, পিতা-মাতা যদি গোলাম হন। তখন তাদের ক্রয় করে আজাদ করে দেয়। (তিরমিজি)

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে