শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মানিকগঞ্জে ছাত্রদল কর্মীকে ছাত্রলীগের সভাপতি করায় প্রতিবাদ, ১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশের সময়: ৯:৫৫ অপরাহ্ণ - সোমবার | জুলাই ৩০, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের হরিরাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নব গঠিত কমিটিতে ছাত্রদলের এক নেতাকে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি করায় কয়েকদিন ধরেই চলছে উত্তেজনা। রোববার দুপুরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া,মিছিল-সমাবেশ ও পুলিশের লাঠি চার্জের ঘটনা ঘটেছে। ফলে আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশংকার জারি করা হয়েছে ১৪৪ধারা।

সোমবার দুপুরে হরিরামপুর উপজেলায় চত্তর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে বিরাজ করছে টানাটান উত্তেজনা। একপক্ষ হচ্ছে নব-গঠিত কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী অপর পক্ষ পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। বেলা ১২টার দিকে পদবঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতা রবিউল ইসলাম রাজার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী উপজেলা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি উপজেলা চত্তর পরিদর্শন শেষে হরিরাপুর-মানিকগঞ্জ সড়কের উঠার চেষ্টা করলে পুলিশী বাধার মুখে পড়েন। এসময় পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পুলিশ রাস্তা থেকে তাদের তারিয়ে দিলে নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরে তারা উপজেলা চত্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন,হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য রবিউল ইসলাম রাজা,বর্তমান ছাত্রলীগের নবগঠিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শুভ মল্লিক,বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মুস্তাকিম চৌধুরী রিফাত,কৌড়ি এম এ রউফ কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি আমির হামজা জ্যোতি প্রমুখ।

বক্তরা অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদলের কর্মীদ্বারা হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি করা হয়েছে। দ্রুত এই অবৈধ কমিটি বাতিল করা না হলে কঠোর কর্মসুচীর মাধ্যমে এর দাঁত ভাঙ্গা জবাবা দেয় হবে। ,হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য রবিউল ইসলাম রাজা বলেন, ছাত্রদলের নেতা লুৎফর রহমানকে হরিরাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি করায় ছাত্রলীগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী রাজু আহমেদ বুলবুল ৫ লাখ টাকা খেয়ে ছাত্রদল নেতা লুৎফরকে সভাপতি করেছে। আমরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে ধিক্কার জানাই। শুধু লুৎফরই নয় নবগঠিত কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে আরো ৫-৬ জন ছাত্রদল কর্মীকে। আর আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপুর্ন প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল সমাবেশ করতে গেলে পুলিশ আমাদের ওপর অন্যায় ভাবে লাঠি চার্জ করে কয়েক নেতাকর্মীকে আহত করেছেন। পুলিশের সামনে অবৈধ কমিটির লোকজন ইট পাটখেল নিক্ষেপ করলেও পুলিশ তাদের কিছুই বলেনি। ছাত্রদল কর্মী দ্বারা ছাত্রলীগের কমিটির বাতিল না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। প্রয়োজনে জীবন দেবে।

এদিকে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা চত্তরে প্রবেশ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় উত্তেজনা,ইট পাটখেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এসময় এলাকার দোকান পাট কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ লাঠি চার্জ শুরু করে। পুলিশের লাঠি চার্জে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় দুই পক্ষ। পরিবেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলেও থেমে থেমে উত্তেজনা আর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা দেওয়ান সাঈদুর রহমানের মধ্যস্থতায় পরিবেশ কিছুটা শান্ত হয়। তবে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করায় যেকোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা। দুপুরের পর পরিস্থিতি অবনতির আশংকায় হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেন। তবে ছাত্রলীগের এই হট্রগোলের নেপথ্যে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী কয়েক নেতার ইন্দন রয়েছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানাগেছে।

হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। আমরা নেতাকর্মীরা নিয়ে আনন্দ মিছিল করতে গেলে অপরে পক্ষের নেতার্মীরা হট্রগোলের সৃষ্টি করেছে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী রাজু আহমেদ বুলবুল বলে, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগের কথা শুনছি তা সম্পুর্ন ভিত্তিহীন ও ভ্রান্ত কথা। যারা এই দলের ভাল চায় না তারাই এই প্রবাকান্ড ছড়াচ্ছে। আর আমরা এমপি মহাদয়,জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলার আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতেই এই কমিটি দিয়েছি। আর আমরা চেষ্টা করছি ছাত্র লীগকে সুসংগঠিত করতে।

দেওয়ার স্ঈাদুর রহমান বলেন, হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রীলীগের যে কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে তা বিতর্কীত। কমিটির সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন রয়েছে ছাত্রদল কর্মী। যার কারনে পদ বঞ্চিত এবং প্রকৃত ছাত্রলীগ কর্মীরা তা মেনে নিতে পারছে বলেই আজকের এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।


হরিরামপুর থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। উপজেলা পরিষদের গেইটের সামনে দুই পক্ষই মিছিল সমাবেশ করে। এক পর্যায়ে এক পক্ষ চরাও হয়ে ইটপাটখেল নিক্ষেপ এবং লাঠি সোটা নিয়ে অপর পক্ষের দিকে ধাওয়া করলে আমরা তা প্রতিহত করি। তবে পরিস্থিতি অবনতির আশংকায় সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলয়াস মেহেদী বলেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বিশৃ্খংলার ফলে সোমবার দুপুরের পর থেকে উপজেলা শহর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবদ থাকবে।

উল্লেখ্য চলতি মাসের ২৬ জুলাই হরিরামপুর উপজেলা ২৫ সদস্যর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনার করার পর থেকেই উত্তেজনা চলছে। এরই মধ্যে নবগঠিত কমিটির কয়েক নেতা পদ থেকে সরে এসেছেন বল্ওে জানাগেছে।

উপরে