বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

‘লাইসেন্স আছে? না থাকলে এ গাড়ি যাবে না’

প্রকাশের সময়: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুলাই ৩১, ২০১৮

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় উত্তাল ঢাকা। গত রোববার দুর্ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে টানা তিনদিনের মতো বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

এতে কার্যত ঢাকা অচল হয়ে গেছে। সড়কে যানবাহন চলাচল করতে না দেয়ায় মানুষ মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে এবারের আন্দোলনের সময়ে ভোগান্তি নিয়ে তেমন একটা উচ্চবাচ্য দেখা যাচ্ছে না।

প্রকাশ্যে যেমন অনেকেই শিক্ষার্থীদের সমর্থন করছেন, তেমনি সরকারের শীর্ষ মহলের কড়া সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের। দুর্ঘটনার দিন তিনি মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেও যে হাসিমুখে কথা বলেন, তা নিয়ে সরব সোশ্যাল মিডিয়া।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নিজের অবস্থান প্রকাশ করে অপূর্ণ রুবেল নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে? নাই! তাহলে এই গাড়ি যাবে না। বহুদিন পর মনে হলো একটা অসাধারণ দৃশ্য দেখলাম। সকাল বেলাই মনটা আনন্দে ভরে উঠলো। এত এত হতাশার মধ্যে কেউ একজন আছে জানতে চাওয়ার, আমি নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারব কি না! প্রচুর অযোগ্য মানু‌ষের হাতে স্টিয়ারিং চলে যাওয়া এই দেশ এখনো পথ হারায়নি বোধ হয়।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) সকালে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ রাস্তায় বাস দাঁড় করিয়েছে আশপাশের স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীরা। তারা জানতে চাইছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা! থাকলে চলে যাও। না হলে যাত্রী নামিয়ে চালক ও গাড়ি আটক এবং মৃদু ভাংচুর।’

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে অপূর্ব রুবেল লেখেন, ‘এই দৃশ্য স্বচক্ষে দেখার একটা আনন্দ আছে। যে কাজটা পুলিশের করার কথা, যে কাজটা ক্ষমতাবানদের করার কথা, যে কাজটার জন্য দিব্যি একটা প্রতিষ্ঠানই রয়েছে, সেই কাজটা শুরু করেছে ছাত্ররা। এই লজ্জা মাথায় নিয়েই তো ক্ষমতাবানদের তিনবার মরে যাওয়া উচিত। যদিও তাদের লজ্জাশরম আছে বলে আমার জানা নাই? আপনাদের জানা থাকলে বইলেন।’

অনিন্দ মামুন নামে এক সংবাদকর্মী বলেন, ‘বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম। অফিসে আসতে লেট হচ্ছিল। অন্যদিন এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে কান্না চলে আসে। বিরক্ত লাগে। মনে হয় শহর ছেড়ে মায়ের কোলে ফিরে যাই। আজ ভালো লাগলো। একটুও বিরক্তি লাগলো না। কারওয়ান বাজার নবম-দশম কিংবা ইন্টারমিডিয়েট শ্রেণির ছাত্ররা বাস ভাঙছে। অহেতুক কারণে নয়, প্রথমে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করছে ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে? না, নাই। এমন উত্তরে বলছেন, তাহলে এই গাড়ি যাবে না। বলেই এলোপাতাড়ি ভাংচুর।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সিনেমাটিক মনে হলো। এমন করে বাংলা ছবির নায়কদের দেখেছি। এই প্রথম বাস্তবে দেখলাম। যে কাজটি পুলিশ করতে পারছে না তা আমাদের ছোট ছোট ভাইয়েরা কত সহজে করে দিচ্ছে।’

ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) এর সভাপতি আবুসালেহ আকন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের মুখে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান কি পদত্যাগ করবেন?’

উল্লেখ্য, গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস বিমানবন্দর সড়কের জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হন।

নিহতরা হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির আবদুল করিম এবং একাদশ শ্রেণির দিয়া খানম মিম।

এ ঘটনায় দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম রোববার রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়।

উপরে