শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মৃত্যুর পর মানুষ কোন আমলে উপকৃত হয়?

প্রকাশের সময়: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুলাই ৩১, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

মৃত ব্যক্তি কেবল ওই সকল জিনিস দ্বারাই উপকার লাভ করতে পারে যেগুলো কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত। যেমন:

১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ

“মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমলের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যায় তিনটি ব্যতীতঃ সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং এমন নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে”। (মুসলিম, হাদীস নং ৩০৮৪)

২) নিম্নোক্ত হাদীস অনুযায়ীও মৃত ব্যক্তি উপকৃত হয়ে থাকে। আনাস রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ

سبعٌ يَجري للعبدِ أجرُهُنَّ ، و هوَ في قَبرِه بعدَ موتِه : مَن علَّمَ علمًا ، أو أجرَى نهرًا ، أو حفَر بِئرًا ، أوغرَسَ نخلًا ، أو بنَى مسجِدًا ، أو ورَّثَ مُصحفًا ، أو ترَكَ ولدًا يستغفِرُ لهُ بعد موتِه

“সাত প্রকার কাজের সওয়াব মারা যাওয়ার পরও বান্দার কবরে পৌঁছতে থাকে। যে ব্যক্তি দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেয়, নদী-নালায় পানি প্রবাহের ব্যাবস্থা করে, কূপ খনন করে, খেজুর গাছ রোপণ করে, মসজিদ তৈরি করে, কুরআনের উত্তরাধিকারী রেখে যায় অথবা এমন সুসন্তান রেখে যায় যে তার মারা যাওয়ার পরও তার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমার জন্য দোয়া করে।” (আত-তারগীব ওয়াত্ তারহীব, হাদীস নং ৭৩)

৩) মৃত ব্যক্তি যদি তার জীবদ্দশায় কোনো পরিত্যক্ত সুন্নতকে আমলের মাধ্যমে পূণর্জীবিত করে এবং তার মৃত্যুর পরও উক্ত আমল চালু থাকে তবে এর সওয়াব সে কবরে থাকা অবস্থায়ও লাভ করতে থাকবে। যেমন, বিশুদ্ধ সূত্রে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

من سنَّ في الإسلامِ سُنَّةً حسنةً ، فعُمِلَ بها بَعٌدَه ، كُتِبَ لَه مثلُ أجرِ مَنٌ عَمِلَ بها . ولا يُنٌقَصُ مِن أجورِهم شَيٌءٌ

“যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো সুন্নত চালু করল সে ব্যক্তি এই সুন্নাত চালু করার বিনিময়ে সওয়াব পাবে এবং তার মারা যাওয়ার পর যত মানুষ উক্ত সুন্নাতের ওপর আমল করবে তাদেরও সওয়াব সে পেতে থাকবে। অথচ যারা আমল করবে তাদের সওয়াব কিছুই হ্রাস করা হবে না।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১৭)

৪) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো দান-সদকা করা হলে মৃত ব্যক্তি তার সওয়াব লাভ করে। যেমন, সহীহ বুখারিতে উদ্ধৃত হয়েছে:

عن ابْنُ عَبَّاسٍ – رضى الله عنهما – أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ – رضى الله عنه – تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهْوَ غَائِبٌ عَنْهَا ، فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّى تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا ، أَيَنْفَعُهَا شَىْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَإِنِّى أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِى الْمِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا

ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, সা’দ ইবনে উবাদাহ রা. এর মা মারা গেল। এ সময় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমার মা মারা গেছে। সে সময় আমি অনুপস্থিত ছিলাম। আমি তার পক্ষ থেকে সদাকা করলে তার কি কোনো উপকার হবে? তিনি বললেন, “হ্যাঁ”। তিনি বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার মিখরাফ নামক প্রাচীর বেষ্টিত খেজুর বাগানটি আমার মায়ের উদ্দেশ্যে সদকা করলাম।” (সহীহ বুখারি)

৫) সা’দ বিন উবাদাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন:

يا رسولَ اللَّهِ، إنَّ أمَّ سعدٍ ماتت، فأيُّ الصَّدقةِ أفضلُ؟ ! قالَ: الماءُ، قالَ : فحفَرَ بئرًا ، وقالَ : هذِهِ لأمِّ سعدٍ

“হে আল্লাহর রাসূল, আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন, তার পক্ষে কোনো দানটি সবচেয়ে ভাল হবে? তিনি বললেন, ‘পানি’। তারপর সা’দ রা. একটি কূপ খনন করে ঘোষণা করলেন, “এই কূপ সাদের মায়ের উদ্দেশ্যে দান করা হলো।” (আত-তারগীব ওয়াত্ তারহীব- হাদীস নং ৯৬২)।

৬) সহীহ মুসলিমে বর্ণিত রয়েছে, এক ব্যক্তি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আমার পিতা-মাতা অর্থ সম্পদ রেখে মারা গেছেন। এ ব্যাপারে তারা আমাকে কোনো ওসিয়ত করে যাননি। এখন আমি তাদের উদ্দেশ্যে দান-সদকা করলে তা তাদের জন্য কি যথেষ্ট হবে? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ’।

৭) জীবিত মুসলিমগণ মৃত মানুষের জন্য দোয়া ও ইস্তেগফার করলে তাদের নিকট এর সওয়াব পৌঁছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آَمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ

“যারা তাদের পরবর্তীতে আগমন করেছে (অর্থাৎ পরে ইসলাম গ্রহণ করেছে) তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্বে যে সকল ঈমানদার ভাই অতিবাহিত হয়ে গেছেন তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মুমিনদের ব্যাপারে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ বদ্ধমূল রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক, নিশ্চয় আপনি পরম দয়ালু, অতি মেহেরবান।” (সূরা হাশর: ১০)

জীবিত মানুষের পক্ষ থেকে মৃত মানুষের প্রতি সওয়াব পৌঁছানোর ব্যাপারে উপরোল্লোখিত হাদীসগুলো দ্বারা শুধু ওই সকল বিষয়ই প্রমাণিত যা উপরে আলোচনা করা হলো। কিন্তু আমাদের সমাজে যেমন প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, মানুষ মারা গেলে তার সওয়াবের জন্য কুরআন পড়াতে হবে, সূরা ইয়াসীন অথবা এমন বিশেষ কোনো সূরা পড়তে হবে- এ জাতীয় বিশেষ কোনো নিয়ম বা বিধান শরিয়তে নেই। অনুরূপভাবে সংখ্যা নির্ধারণ করে কোনো ওজিফা যেমন- সূরা ইখলাস এক লাখ বার, ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ এক হাজার বার বা এ জাতীয় তাসবীহ পাঠেরও কোনো দালিলিক ভিত্তি নেই।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে