বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

আজ বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস: মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ শুরু

প্রকাশের সময়: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ - বুধবার | আগস্ট ১, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

 

আজ ০১ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস। ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছর এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। ১ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহর প্রথম দিন ১ আগস্টকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে। মাতৃদুগ্ধ শিশুদের অপরিহার্য খাদ্য। এটি প্রাকৃতিক খাদ্য, ঐশ্বরিক খাদ্য। শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও শিশু রোগ কমানোর জন্য বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম যেমন টিকা দান, ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ, পরিবার পরিকল্পনা, অপুষ্টির অভাব দূরীকরণ ইত্যাদি পদক্ষেপ নেয়া হয়। মাতৃদুগ্ধ এই পদক্ষেপগুলোর প্রত্যেকটির সফলতায় সাহায্য করে।

শাল দুধের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সর্বজনবিদিত এবং এ কারণে শাল দুধকে বলা হয় শিশু জীবনের প্রথম টিকা। শিশুদের বেলায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া হতে মৃত্যু ঝুঁকি মায়ের দুধ পানকারী শিশুর তুলনায় যথাক্রমে ১৪ গুণ ও ৪ গুণ বেশি। মায়ের দুধ মা ও শিশুর মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে। বুকের দুধ খাওয়ালে মায়েদের ডিম্বাশয় ও স্তনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। এরকম মায়ের দুধের গুণের কোন শেষ নেই।

২য় বিশ্ব যুদ্ধের পর হতে বিশ্বে মায়ের দুধ খাওয়ানোর চিরন্তন রীতি প্রায় উঠে যাচ্ছিল। বাংলাদেশেও ওই তথাকথিত আধুনিকতার জোয়ার লাগে। মায়ের দুধ ছেড়ে শুরু হয় কৃত্রিম দুধের চর্চা। কৃত্রিম দুধের পেছনে সমাজ ও জাতির ব্যয় ত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যায়। একদিকে শিশু বঞ্চিত হতে শুরু করে তার মাতৃদুগ্ধের অধিকার থেকে অন্যদিকে অকারণেই বেড়ে যায় শিশুর কৃত্রিম দুধের ব্যয়। বোতলে কৃত্রিম দুধ খেয়ে শিশুরা শিকার হতে শুরু করে ডায়রিয়া, শ্বাসনালীর প্রদাহ, মেনিনজাইটিস, কানপাকা, এলার্জিজনিত সমস্যা, ক্যান্সার, ডায়বেটিস, পড়াশোনায় অনগ্রসরতা, পুষ্টিহীনতা ইত্যাদির।

মাতৃদুগ্ধের বর্ণনাতীত উপকারিতা থেকে পৃথিবীর মানুষ দূরে সরে যাবার প্রেক্ষাপটেই প্রয়োজন হয়ে পড়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি, উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রচারাভিযান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ১৯৯২ থেকেই বাংলাদেশে পালিত হয় মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। উদ্দেশ্য মায়ের দুধের ভ‚মিকা তুলে ধরা। মায়ের দুধ যে শিশুর নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা, রোগ-শোক ব্যাধি থেকে রক্ষার অপরিহার্য উপায়, মায়ের দুধ শিশুর জীবনে শ্রেষ্ঠ সূচনা, শিশু মৃত্যুবরণ করার প্রথম হাতিয়ার সে সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি।

উপরে