সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

রাজবাড়ীতে বিনোদনের সেরা ঠিকানা পদ্মার তীর

প্রকাশের সময়: ৪:২৩ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | আগস্ট ৩, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর তীর থেকে ফিরে-

ফরহাদ আকন্দ, গাইবান্ধা প্রতিনিধ: পদ্মা নদীর প্রবহমান জোয়ার, কলকলিয়ে পানির শব্দ, মাঝিদের গান সব মিলে যেন একাকার ঢাকা রাজবাড়ীর বিনোদনের স্পট গোদার বাজার পদ্মা নদীর তীর সকাল থেকে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সারক্ষণ আনাগোনা এই পদ্মা নদীর তীরে। উতপ্ত ও গুমোট আবহাওয়া। জনজীবনে ত্রাহি অবস্থা। এমন গরমে একটু স্বস্তি নিতে মৃদু হাওয়া শান্তির পরশ পেতে রাজবাড়ীবাসী ছুটে যান পদ্মা নদীর তীরে। স্থানীয়রা ছাড়াও বিভিন্ন যায়গা থেকে ঘুরতে আসেন পর্যটকরাও।

বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে লোকারণ্য হয়ে যায় পদ্মার নদীর তীর, যা আরও বৃদ্ধি পায় সন্ধ্যার আগ মহুর্তে। বিশুদ্ধ বাতাস আর নদীর সৌন্দর্যের টানে ছুটে আসেন হাজারও মানুষ। তাদের কেউ নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দেন, কেউ বা মগ্ন থাকেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে, আবার কেউ কেউ পদ্মার বুকে বেড়ানোর জন্য নৌকায় ওঠে পড়েন। দর্শনার্থীদের ভিড়ে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকে প্রায় ২-৩ কিলোমিটার এলাকা।

সোমবার  দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে পদ্মা নদীর তীর ঘুরে দেখা যায়, পদ্মা নদীর সেই মাতাল ঢেউ না থাকলেও আছে ডিঙি নৌকা, ছোট ছোট ট্রলার। আছে মাঝি। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা নেই সব সময় মুখরিত পদ্মা নদীর তীর। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য পদ্মা তীর ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে বসার স্থান এবং সড়ক। এ সড়ক দিয়ে সহজেই হেঁটে পদ্মার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পারছেন আগতরা। পদ্মা নদীর শীতল বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে দর্শনার্থীদের।

স্থানীয়রা জানান, যে কোন উৎসবের ছুটিতে পদ্মা পাড়ে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। বছরের অন্য সময়গুলোতে এখানে মানুষের বেশ উপস্থিতি থাকে। ওয়াকওয়ের পথে হেঁটে হেঁটে অনেকে নেমে যান বালুচরে। প্রতিদিনই মানুষ এখানে কমবেশি এলেও ছুটির দিনগুলোতে থাকে উপচে পড়া ভিড়।

পদ্মা নদীর তীরে ঘুরতে আসা রাজবাড়ী সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী হিমু বলেন, নির্মল বিনোদনের জায়গা পদ্মার পাড়। এখানকার মতো এমন বিশুদ্ধ বাতাস আর কোথাও নেই। তাই প্রচন্ড গরমে এখানে মাঝে মধ্যে ঘুরতে আসি। তবে প্রত্যেক দিন পদ্মাপাড়ে সবচেয়ে বেশি যারা ঘুরতে আসেন তাদের অধিকাংশ বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজের শিক্ষার্থী।

তাছাড়া অবসর সময় কাটানোর জন্য পুরো রাজবাড়ীর মানুষের কাছে এই স্থানটি খুবই প্রিয়। সুযোগ পেলেই বিশুদ্ধ বাতাস নিতে ছুটে আসেন তারা। এর মধ্যে তরুণ-তরুণীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রাজবাড়ীতে কেউ আসলে তাদের ঘুরতে যাওয়ার প্রথম এবং প্রধান স্থানটি পদ্মা নদীর তীর।

ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে আসা এক মহিলা বলেন, ছেলেকে নিয়ে নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছি। নগর জীবনে এখানের মতো বিশুদ্ধ বাতাশ, নৌকার সাড়ি, নদীতে মাঝিদের জাল ফেলানো এবং কাঁশবনের দৃশ্য দেখার সুযোগ নেই। তাই এখানে এসেছি। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশের দৃশ্য দেখতে এসেছি।

দর্শনার্থীদের ভীড় বেশি হওয়ায় স্থানীয় অনেকেই গড়ে তুলেছে বিভিন্ন রকমের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে খাবার দোকান বেশি লক্ষ করা গেছে। খাবারের মধ্যে ফুচকা-চটপটি, চা-বিস্কুট, কোমল পানি, নরমল পানি, মুদি দোকান, পানের দোকান, চা-স্টল দেখা গেছে।

সজীব নামের এক চটপটি বিক্রেতা বলেন, বিশেষ করে ছুটির দিনে মানুষ বেশি হওয়ায় বিক্রিও বেশি হয়। এখন অনেক মানুষ আসে তবে সাবাই তো আর খায় না অনেকে শুধু ঘোরা-ফেরা করে চলে যায়। আগের চেয়ে বর্তমানে অবেক বেশি মানুষ ঘুরতে আসে তাই বিক্রি একটু বাড়ছে। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্রি একটু কম হলেও সন্ধ্যার পর বিক্রি ভালোই হয়।

উপরে