বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

এবার দুই কলেজ শিক্ষার্থীর পরিবারকে অনুদান দিলেন নৌমন্ত্রী

প্রকাশের সময়: ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ - শনিবার | আগস্ট ৪, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

প্রধানমন্ত্রীর পর এবার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে নিহত দুই কলেজ শিক্ষার্থীর পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে অনুদান দিয়েছেন। এছাড়া নিহত আব্দুল করিম রাজিব এবং দিয়া খানম মিমের ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য প্রতি মাসে অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

গত শুক্রবার বিকালে নৌপরিবহন মন্ত্রী বাসচাপায় নিহত আব্দুল করিম রাজিবের আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে তার মাকে সমবেদনা জানান। মন্ত্রী রাজিবের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। এ সময় তিনি রাজিবের মা ও ছোট ভাইয়ের হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেন।

শাজাহান খান রাজিবের ছোট ভাই আল আমিনের লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য মাসিক অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। মন্ত্রী তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আচমত আলী খান ফাউন্ডেশন থেকে প্রতিমাসে এই অনুদান দেবেন বলে জানান।

পরে মন্ত্রী মহাখালী বাসস্ট্যান্ড মসজিদে মিম ও রাজিবের জন্য দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়ে নিহতদের রুহের মাগেফরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।

এছাড়া মন্ত্রী নিহত দিয়া খানম মিমের বাবার কাছে আজ মহাখালীতে পাঁচ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন এবং মিমের ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার জন্য প্রতিমাসে আচমত আলী খান ফাউন্ডেশন থেকে অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেন।

সন্ধ্যায় মন্ত্রী সিএমএইচে ২৯ জুলাই বাসচাপায় আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান। তিনি তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং ছয়জন শিক্ষার্থীকে ৩০ হাজার টাকা করে অনুদান দেন।

গত রবিবার বিমানবন্দর সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস। দুটি বাস যাত্রী নিতে নিজেদের মধ্যে পাল্লা দেওয়ার সময় একটি বাস চাপা দেয় শিক্ষার্থীদের। এতে মিম ও রাজিব মারা যান। আহত অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয় আরও ছয়জনকে।

এই ঘটনার পরপরই নিজ মন্ত্রণালয়ের একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন নৌমন্ত্রী। এ সময় তিনি চওড়া হাসি দিয়ে এর জবাব দেন। এছাড়া ভারতে বাস দুর্ঘটনায় ৩৩ জনের মৃত্যুর পরও কোনো শোরগোল হয়নি বলে দাবি করেন।

মন্ত্রীর সেই চওড়া হাসির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরদিন তিনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তার এই হাসি দেয়া উচিত হয়নি বলে জানান। পরে তিনি নিহত দিয়ার বাসায় গিয়ে ক্ষমাও চান।

এদিকে এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে। তাদের টানা আন্দোলনে কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিহত দুজনের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন সরকারপ্রধান। এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নৌমন্ত্রী সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নেই। তবে এই শ্রমিক নেতা বরাবর সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে তোপের মুখে থাকেন সাত বছর আগের করা এক বক্তব্যের কারণে। সে সময় চালকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি নির্ধারণের দাবিতে নাগরিক সমাজের আন্দোলনের মধ্যে মন্ত্রী কটাক্ষ করে পাল্টা জবাব দেন, ‘গরু-ছাগল চিনলেই তো লাইসেন্স দেয়া যায়।’

বাংলাদেশে গণপরিবহনের চালক-শ্রমিকরা সাধারণত স্বল্পশিক্ষিত বা নিরক্ষর। আর নৌমন্ত্রী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে এই চালক-শ্রমিকদের নেতা। পাশাপাশি তার নিজেরও বাস আছে, এই সে সুবাদে পরিবহন মালিকদেরও নেতা। এজন্যই মূলত এবারের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তোপের মুখে পড়েন শাজাহান খান।

উপরে