বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

‘সি’ কোডে ফিরছে শৃঙ্খলা!

প্রকাশের সময়: ১২:২৮ অপরাহ্ণ - রবিবার | আগস্ট ৫, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

যেন নতুন সূর্যোদয়। মানুষ দেখছে নতুন স্বপ্ন। শিখছে শৃঙ্খলাও। শত কষ্টের মুখে স্বপ্নীল হাসি। দূরপানে পদযাত্রা। তবু এতটুকু ক্লান্তি নেই। নেই রাগ, ক্ষোভ অভিযোগ। নতুন হাতে গড়ছে পুরনো পৃথিবী। এ যে নতুনের পথচলা।

আজ পথে পথে শৃঙ্খলা। সেকেলে ট্রাফিক কার্যক্রমে ঢাকাবাসী যেখানে অতিষ্ঠ, চলমান ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের দেখানো পথ সেখানে জাগিয়েছে আশা। সড়কে ফিরছে শৃঙ্খলা। এতদিন যানবাহন ও চালকের লাইসেন্স সঙ্গে না রাখাই ছিল বাহাদুরি, এখন তা ঠিকই সঙ্গে রাখতে হচ্ছে। হেলমেট পরতে হচ্ছে। বাঁধতে হচ্ছে সিটবেল্ট। মানতে হচ্ছে ঠিকঠাক নিয়ম। আর যেসব চালক এমন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছেন, তারা পাচ্ছেন ‘সি’ প্রতীকের একটি ক্লিয়ারেন্স কোড।

নিঃসংকোচে তারা রাজধানী চষে বেড়াতে পারছেন। রাজধানীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এমন কার্যক্রমের প্রসংশা করছেন অনেকেই। এটিকে একটি সুন্দর পদ্ধতি বলেও মনে করছেন তারা। নিরাপদ সড়ক দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর ট্রাফিক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। তারা গত ২৯ জুলাই থেকে সড়কে সব ধরনের ও সবার গাড়ি চেক করছেন। লাইসেন্স পরীক্ষা করছেন।

যেসব গাড়ির লাইসেন্স নেই, তার নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না খোদ এমপি-মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা-কেউই। আর যারা এ পরীক্ষায় যারা পাস করছেন, যাদের গাড়ির কাগজপত্র, লাইসেন্স ঠিক আছে, তাদের একটি করে স্লিপ দেওয়া হচ্ছে। যাতে ইংরেজি অক্ষর ‘ঈ’ লেখা। যে খাতায় শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করেন, সেই খাতার পৃষ্ঠা কেটেই এমন শব্দ লিখে সংশ্লিষ্ট চালককে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এমন স্লিপ দিতে দেখা গেছে।

এটিকে অনেকে সুন্দর একটি পদ্ধতি মনে করছেন। তারা বলছেন, মোড়ে মোড়ে গাড়ির কাগজ চেক করার চেয়ে একবার এমন একটি টোকেন দিলেই ভালো হয়। যাতে সহজে বিভিন্ন চেক পয়েন্টে দেখানো যায়। আমাদের ট্রাফিক পুলিশ বিভাগও এমনটি চালু করতে পারে।

এদিকে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে সপ্তম দিনের মতো গতকালও ঢাকার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। তারা গাড়ির কাগজ ও চালকের লাইসেন্স আছে কি না, পরীক্ষা করে দেখে। এ ছাড়া যানবাহনের চালক সুশৃঙ্খলভাবে চলাচলের অনুরোধ জানায়। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিআরটিসির বাস ছাড়া অন্য কোনো বাস চলেনি।

সকাল সাড়ে ১০টার পর রাজধানীর শান্তিনগর মোড়, ঝিগাতলা মোড়, নিউমার্কেট, আজিমপুর মোড়, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, আসাদগেট মোড়, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নেয় তারা। সড়কের চারপাশে বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে গাড়ির কাগজপত্র ও গাড়ির লাইসেন্স যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করে।

প্রসঙ্গত, দুই বাসের প্রতিযোগিতায় গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ ঘটনার প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিমের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে অনুদান দেন। রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পাঁচটি বাসও দেওয়া হয়েছে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে