শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ঘর থেকে পোকামাকড়কে বিদায় জানাতে….

প্রকাশের সময়: ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ - বুধবার | আগস্ট ৮, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি 

একটা সময় ঘরের মঙ্গল-অমঙ্গলের কথা বিবেচনা করে দাদি-ঠাকুরমারা কত কিছুই মেনে চলতেন! দিনের আলো না মিলিয়ে যেতেই ঘরে আলো জ্বেলে দেয়া, ঘরের কোণে মাকড়সা জাল বেঁধেছে তো অভাব অনটন দেখা দিতে দেরি নেই, ইত্যাদি বিশ্বাসে কিছুটা হেরফের হলেও নিয়মগুলোয় এখনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ঘরের অন্ধকার দূর করতে সাঁঝবেলায় এখনো আলো জ্বেলে দেন গৃহিণী কিংবা ঘরের কোণে মাকড়সা বাসা বাঁধার আগেই ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলা পরিচ্ছন্নতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্ষাকালে ঘর পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে আরো একটু বেশি সময় দিতে হয় গৃহিণীকে। বিশেষ করে পোকামাকড় থেকে রক্ষা পেতে অতি যত্নশীল না হয়ে উপায় নেই। জেনে রাখুন, এ সময়টায় কীভাবে পোকামাকড়কে বিদায় জানাতে পারবেন ঘর থেকে—

ইট-পাথরের অট্টালিকার উপরতলায় বাস করেন বিধায় পোকামাকড়, ইঁদুর, তেলাপোকার উপদ্রবের মুখোমুখি হতে হয় কম। তাই বলে একেবারেই নেই এমনও নয়। তবে নিচতলা কিংবা একতলা বাড়িতে বসবাস যাদের, তাদের নিশ্চয়ই পড়তে হয় নানা বিপাকে। বিশেষ করে ইঁদুরের উপদ্রব। ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখার বিকল্প কিছু নেই— এটা মোটামুটি সবারই জানা। তবুও কি খুব লাভ হচ্ছে? ইঁদুরের উপদ্রব কমানো কষ্টসাধ্য বটে।

ইঁদুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই মনে মনে ভাবেন, ইশ! হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা গল্পের মতো যদি কিছু হতো, বাঁশির সুরে টেনে নিয়ে নদীতে ফেলা যেত সব ইঁদুরকে, তবে কতই না ভালো হতো। সেটি সম্ভব না হলেও আপনিই কিন্তু হয়ে উঠতে পারেন আপনার ঘরের বাঁশিওয়ালা। এজন্য ছোট্ট কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। তুলা দিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করুন বেশকিছু। সে বলগুলো পিপারমিন্ট তেলে ডুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। ২-৫ মিনিট পর বলগুলো তুলে নিয়ে ঘরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে দিন। ইঁদুর ঘরের ধারেকাছেও ভিড়বে না। কেননা পিপারমিন্টের ঘ্রাণ ইঁদুরের জন্য অসহনীয়।

এছাড়া ইঁদুর তাড়াতে লবঙ্গও বেশ কার্যকরী উপাদান। লবঙ্গ পুঁটলিতে পুরে ঘরের বিভিন্ন কোণে রেখে দিলে ইঁদুর ওই পথ মাড়াবে না নিশ্চিত থাকতে পারেন। শুধু ইঁদুরই না বরং পিঁপড়া, তেলাপোকা, ছারপোকা দূর করতেও ব্যবহার করতে পারেন লবঙ্গ। সেক্ষেত্রে লবঙ্গ গুঁড়ো করে পুঁটলি তৈরি করে উপদ্রব আছে, এমন স্থানে রেখে দিন।

ঘরের কোণে মাকড়সা জাল তৈরি করে ফেললে দেখতে খারাপ লাগে। মাকড়সা ভীতি রয়েছে যাদের, তাদের জন্য তো কথাই নেই। কিন্তু জানেন কি, মাকড়সা ঘরের ধারেকাছেও ভিড়বে না, যদি আপনি আগে থেকেই খানিকটা প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। ঘরে রাখতে পারেন এসেনশিয়াল অয়েল। বিভিন্ন কোনায় স্প্রে করে নিতে পারেন খানিকটা এসেনশিয়াল অয়েল। এতে মাকড়সা ঘর বাঁধবে না।

তেলাপোকা আরেক বিরক্তির নাম। ঘর থেকে তেলাপোকা তাড়ানোর জন্য কত কিছুই তো করেছেন, কিন্তু খুব একটা সুবিধা হয়তো করতে পারেননি। সেক্ষেত্রে ঘরোয়া টোটকাই বেছে নিচ্ছেন না কেন? তেজপাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এবার সেই গুঁড়ো অল্প অল্প করে রেখে দিন বিভিন্ন কোনায়। বিশেষ করে রান্নাঘরের বিভিন্ন স্থানে। দেখবেন তেলাপোকা উধাও। এ উপায়ে তেলাপোকা মরে যাবে না কিন্তু ঘর থেকে পালাবে। কেননা তেজপাতার ঘ্রাণ তেলাপোকার সহ্য হয় না।

এছাড়া ঘরে যদি পিঁপড়ার উপদ্রব বেশি হয়, তাহলে কর্পূর ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে খাওয়ার উপযোগী কর্পূর সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিন এবং পিঁপড়ার আনাগোনা যেসব স্থানে মিশ্রণটি ছিটিয়ে দিন সেখানে, দেখবেন পিঁপড়া উধাও হয়ে গেছে। শুধু পিঁপড়াই নয়, ছারপোকা তাড়াতেও কর্পূরের জুড়ি নেই। ছারপোকা তাড়ানোর ক্ষেত্রে তোষক ও জাজিম বা মেট্রেস

রোদে শুকাতে দেয়ার বিকল্প নেই। কড়া রোদে সেসব শুকিয়ে এনে একটি বড় কর্পূরের টুকরো পাতলা কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে বিছানা ও ম্যাট্রেসের মাঝামাঝি স্থানে রেখে দিন। এতে বিছানা থেকে ছারপোকা দূর হবে এবং পরবর্তী আক্রমণ থেকেও রক্ষা করবে। আবার মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে কে না চায়। সেক্ষেত্রেও সমাধানের কথা বলবে এক টুকরো কর্পূর। ঘরের অন্ধকার স্থানে যেখানে মশারা ঘাপটি দিয়ে বসে থাকে, সেখানে কর্পূরের ট্যাবলেট রেখে দিন। ব্যস তাতেই চলবে বাতাসে কর্পূরের ঘ্রাণ যেমন স্বস্তি দেবে, তেমনি মশাও দূর হবে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে