মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

সাফল্যে শেষ, তবু দুশ্চিন্তা

প্রকাশের সময়: ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ - বুধবার | আগস্ট ৮, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

অ্যান্টিগায় বিভীষিকাময় এক ইনিংস দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বনিম্ন রানের লজ্জা নিয়ে সে রাতে ঘুমাতে গিয়েছিল সাকিব আল হাসানের দল। সেদিন লাঞ্চের আগে ৪৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। বলা হয়ে থাকে, ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’। সে বিবেচনায় গোটা সফরে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছিল আরো অনেক হতাশা ও লজ্জা। দ্বিতীয় টেস্টেও বাংলাদেশ হাঁটল সে পথে। দুই ইনিংসের কোনোটিতে ২০০ রানও ছুঁতে পারলেন না সাকিব-তামিমরা। বাংলাদেশের কপালে জুটল ১৬৬ রানের বিশাল এক হার।

টেস্টের ভরাডুবির লজ্জা ঘোচানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে ওয়ানডে খেলতে উড়ে যান মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশের যেটুকু সম্ভাবনা ও প্রত্যাশা তা ছিল এ মাশরাফিকে ঘিরেই। নিরাশ করেননি কাপ্তান মাশরাফি। ধীরে ধীরে কাটতে থাকে সকালবেলার শঙ্কার মেঘ। প্রথম ওয়ানডেতেই বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশকে নিয়ে হাজির হন ম্যাশ। বাংলাদেশ ছিনিয়ে আনে ৪৮ রানের দারুণ এক জয়। টেস্টে চার ইনিংসের কোনোটিতেই ২০০ ছুঁতে না পারা বাংলাদেশ পেল ২৭৯ রানের সংগ্রহ, তাও আবার মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে। সে ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল, কাছাকাছি গিয়েও মাত্র তিন রানের জন্য শতকবঞ্চিত থাকেন সাকিব। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে লক্ষ্য ছিল আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ জিতে নেয়ার। বাংলাদেশ এগোচ্ছিলও দারুণভাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ২৭১ রানের জবাবে হিসাব মিলল না মাত্র ৩ রানের। শেষ ১২ বলে ১৪ রান নেয়ার চ্যালেঞ্জে আরো একবার স্নায়ু পরীক্ষা উতরাতে ব্যর্থ মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় ম্যাচে হারলেও হাল ছাড়েনি মাশরাফি বাহিনী। তৃতীয় ওয়ানডেতে আবারো তামিমের সেঞ্চুরি। ঝড়ো ইনিংস খেললেন মাহমুদউল্লাহ-মাশরাফি। বাংলাদেশ পেল ১৮ রানের জয়। টেস্টের লজ্জা কিছুটা হলেও ঢাকল ওয়ানডে সিরিজ জিতে।

এরপর রেসের ব্যাটন আবারো এসে পড়ে সাকিবের হাতে। এবারের চ্যালেঞ্জটা আরো বড়। টি২০ মানে বিবর্ণ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। সেখানে কেবল সংগ্রাম এবং ব্যর্থতার ইতিহাস। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তাদের দলে একাধিক ম্যাচ উইনারও আছে। যদিও টি২০ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ক্রিস গেইলের অনুপস্থিতি বাড়তি সুবিধা দিয়েছিল বাংলাদেশকে। তবুও এভিন লুইস, আন্দ্রে রাসেল কিংবা ব্রাফেটরা কেউ কম নন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে কোনো সুযোগই দিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৭ উইকেটে। কিন্তু টি২০ ক্রিকেট ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ পেরিয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করতেই সবকিছু বদলে যায়। দ্বিতীয় টি২০-তে তামিম-সাকিবে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। সমতা ফেরার পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বাংলাদেশ শিবির। শেষটিতেও আর উইন্ডিজকে দাঁড়াতে দেয়নি টাইগাররা। বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জিতে সিরিজ জয়ের উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ। যেটি আবার দেশের বাইরে টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়। এর আগে সর্বশেষ ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডকে সিরিজ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এ জয়ে হতাশায় শুরু হওয়া সফরটি শেষ হলো সাফল্যের আলোয়।

তবে এমন সাফল্যের পরও কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। দেশের বাইরে টেস্টে বাংলাদেশের ব্যর্থতার হিসাব মিলবে কীভাবে কিংবা সিনিয়র পাঁচ ক্রিকেটারের বাইরে তরুণদের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সেরইবা উত্তর কী?

টেস্টে ২০১৭ সালের পর দেশের বাইরে নয়টি টেস্ট খেলে বাংলাদেশ হেরেছে আটটিতেই, কেবল কলম্বোয় নিজেদের শততম টেস্টে পাওয়া জয়টিই বাংলাদেশের একমাত্র অর্জন। ঘরের মাঠে টেস্ট সাফল্য কিছুটা আশা জাগালেও বিদেশের মাঠে পারফরম্যান্স কেবলই হতাশার। এ হতাশা কাটানোর মন্ত্র কী হতে পারে তা জানা নেই কারোরই।

টি২০ সিরিজ ঘরে তোলার পর সাকিবের কণ্ঠেও ছিল টেস্ট নিয়ে দুশ্চিন্তার সুর, ‘অবশ্যই আমাদের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কাজ করতে হবে। যদিও ঘরের মাঠে আমরা ভালো করেছি। কিন্তু এ মুহূর্তে আমাদের বিদেশের মাটিতে ভালো কিছু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে এবং ফল বের করে আনতে হবে।’

দুশ্চিন্তা আছে তরুণদের পারফরম্যান্স নিয়েও। টেস্টে যেখানে গোটা ইউনিট ব্যর্থ, সেখানে ওয়ানডে ও টি২০-তে দলকে পথ দেখিয়েছেন সিনিয়ররা। এনামুল হক বিজয়কে সুযোগ দেয়া হয়েছিল ওয়ানডেতে। কিন্তু তিন ম্যাচে তার রান ৩৩। সাব্বিরের অবস্থা আরো খারাপ। তিন ম্যাচে রান করেছেন ২৭। টি২০-তে উড়িয়ে নেয়া হয়েছিল সৌম্য-আরিফুলকে। সৌম্যর তিন ইনিংসে রান ১৯। আরিফুল অবশ্য শেষ দিকে নেমে তেমন কিছু করার সুযোগ পাননি। অন্যদিকে লিটন মান বাঁচিয়েছেন শেষ ম্যাচে ৬১ রানের ইনিংস খেলে। তবে সিনিয়র ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের তুলনায় এসব সামান্যই। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশকে দেখতে হচ্ছে এমন দৃশ্য। যেখানে সিনিয়র ক্রিকেটারদের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে তরুণরা। আর এখানেই রয়েছে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা। দ্রুত এ হিসাব মেলানো জরুরি। নয় তো আরো কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে।

উপরে