মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ভারতীয় গোয়েন্দাদের যেভাবে নাকানি-চুবানি খাওয়াতেন বোমারু মিজান!

প্রকাশের সময়: ৩:০৩ অপরাহ্ণ - বুধবার | আগস্ট ৮, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি 

কখনও তিনি সুমন তো কখনও পলাশ। কখনও হারুন তো কখনও মুন্না। এমনই তার নামাবলি! গা-ঢাকা দেওয়ার কাজেই লাগত এত নাম। ছদ্মবেশ ধরতেও তিনি তুখোড়। তিনি বাংলাদেশের বোমা-মিজান বা বোমারু মিজান নামেই পরিচিত।

অথচ সাদাসিধে গ্রামীণ চেহারা। হাল্কা দাড়িগ‌োঁফ! সাড়ে পাঁচ ফুটের ৩৮ বছরের যুবকটিকে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা যে হন্যে হয়ে খুঁজছেন, কখনোই সেটা আঁচ করতে পারেননি ভারতের বর্ধমানের খাগড়াগড়ের বাসিন্দারা।

দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, খাগড়াগড়ের বোমা কারখানায় ‘জড়িত’ আটক পুরুষ-নারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) গোয়েন্দারা জানতে পারেন, কওসার নামে এক যুবকই মোটরসাইকেলে এসে ‘মাল’ (বোমা-গ্রেনেড) নিয়ে যেতেন। বোরখা তৈরির কারখানা গড়ার কথা বলে খাগড়াগড়ের বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন কওসার। কেউ জানতেই পারেননি, ওই যুবকই এ দেশে জেএমবির মডিউলের প্রধান চাঁই। বাংলাদেশের সংগঠনের সঙ্গে এ দেশের শাখার যোগসূত্রও কওসার!

খাগড়াগড় বিস্ফোরণের কয়েক মাস আগে, ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশ ভ্যানে হামলা চালিয়ে কওসারকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় জেএমবি জঙ্গিরা। কওসারের সঙ্গে ছিল অন্য দুই জঙ্গি— সালাউদ্দিন সালেহিন ওরফে সানি এবং রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ। হাফেজ পরে বন্দুক যুদ্ধে মারা যায়। কওসার বা সানি ধরা পড়েনি।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, জামালপুরের মেলান্দহের বাসিন্দা মিজান ওরফে কওসার তেজগাঁও পলিটেকনিকের ছাত্র। বিস্ফোরক তৈরি, তার ফাঁদ পাতার কৌশল— দুটাইতে চৌকস তিনি। সেই জন্যই তিনি জেএমবির বোমা-বিশারদ।

২০০৫ সালে বাংলাদেশে চার দলীয় জোট সরকারের শাসনামলের শেষ দিকে মিজানের তৈরি বোমাতেই গোটা দেশে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। চট্টগ্রামের হামলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তি।ি

খাগড়াগড়-কাণ্ডের পরে মিজান ওরফে কওসারের নামে ইন্টারপোলে ‘রেড কর্নার’ নোটিশ জারি করে এনআইএ। তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয় পাঁচ লক্ষ রুপি।

২০০৯ সালে মিরপুরে ‘র‌্যাব’ মিজানের বাড়িতে হানা দিয়ে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক উদ্ধার করে। পরে তাকে ধরলেও বেশি দিন আটকে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ পুলিশ। ময়মনসিংহে পুলিশের প্রিজ়ন ভ্যান থেকে জঙ্গিদের সহায়তায় পালানোর আগে নাশকতার বিভিন্ন ঘটনায় কওসারকে ফাঁসির সাজা শোনানো হয়েছিল। তার পরেই তিনি ভারতে ঢুকে পড়েন।

খাগড়াগড়-কাণ্ডে তার ভূমিকা জানাজানি হওয়ার পরেও কওসার ওরফে মিজান ইচ্ছামতো বাংলাদেশে বা এ দেশে গা-ঢাকা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার, দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তার গতিবিধির কথা জানা গিয়েছে। খাগড়াগড়-কাণ্ডের ঠিক পরেই বীরভূমের নানুর-বোলপুর অঞ্চলে দেখা গিয়েছিল কওসারকে। অল্পের জন্য তাকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

গত কয়েক বছরে এ রাজ্যে নব্য জেএমবি গঠনের মাথা হিসেবেই কওসারকে দেখছেন এনআইএ’র গোয়েন্দাদের একাংশ। ওই সময়ে আইএস’র সঙ্গেও কওসারের সংস্রবের কিছু আভাস মিলেছে বলে এনআইএ সূত্রের খবর।

বুদ্ধগয়ার বিস্ফোরণের সূত্র ধরে ফের তার খোঁজ শুরু হয়। সোমবার ধরা পড়ার আগে ব্যাঙ্গালুরুর কাছে মুন্না নাম বসবাস করছিলেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকেই সেখানে হকারি করছিলেন কওসার।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে