শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

খাগড়াছড়ির স্কুলছাত্রী কৃত্তিকা ত্রিপুরা’র শ্রাদ্ধক্রিয়া সম্পন্ন

প্রকাশের সময়: ৭:২৩ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | আগস্ট ১০, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি
বিপ্লব তালুকদার, খাগড়াছড়ি: ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার শিকার দীঘিনালার স্কুলছাত্রী কৃত্তিকা ত্রিপুরা’র শুক্রবার সকালে নিজ বাসভবনে শ্রাদ্ধক্রিয়া করেছে আত্মীয়স্বজন ও শোভাকাংখীরা। দীঘিনালা উপজেলার নয়মাইল এলাকায় তার পরিবার ও স্বজনরা সামাজিকভাবে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও কয়েক’শ মানুষের মধ্যাহ্নভোজ করান।

শেষকৃত্যানুষ্ঠানে শ্রদ্ধাঞ্জলী, পুষ্পস্তবক অর্পন ও শোকসভা করেছে আত্মীয়স্বজন ও শোভাকাঙখীরা। ব্যক্তি, দল, মত নির্বিশেষে কৃত্তিকা ত্রিপুরার নৃশংসভাবে হত্যার বিচার দাবি এবং নারীর প্রতি সকল সহিংসতাকে বন্ধের দাবী জানান। শোকসভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা নলেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, কাজল বরন ত্রিপুরা, হেডম্যান জৌকপেথাং ত্রিপুরা, ঘনশ্যাম ত্রিপুরা, নয় মাইল গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ কিশোর ত্রিপুরা,ডালিয়া ত্রিপুরা , প্রমুখ। বক্তারা বলেন, কৃত্তিকা ত্রিপুরার ধষর্ণকারী ও হত্যাকারীদের বিচার ও কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন কৃত্তিকা ত্রিপুরার মা অনুমতি ত্রিপুরাসহ কৃত্তিকার সহপাঠীরা।

গত ২৮ জুলাই স্কুলের টিফিন বিরতিতে বাড়িতে এসে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে নিষ্ঠুররভাবে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী কৃত্তিকাকে খুন করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। দেশে-বিদেশে আলোচিত ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের দুই সপ্তাহ পার হতে চললেও পুলিশ এখনো এই ঘটনার কোন কিনারা করতে পারে নি। এই ঘটনার পর থেকে তিন পার্বত্য জেলা, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের অনেক স্থানে কৃত্তিকা হত্যাকারীদের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয়।

কৃত্তিকা’র মা অনুমতি ত্রিপুরা জানান, আমরা দরিদ্র মানুষ। তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে লেখাপড়া করে বড়ো হয়ে উঠার ভরসা ছিল কৃত্তিকা-ই। কিন্তু নরপশুরা আমার বুকের ধনকে বীভৎস কায়দায় শেষ করে দিয়েছে। খুনীদের বিচার দেখে যেতে চায়।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ-এর কেন্দ্রীয় সা: সম্পাদক অনন্ত ত্রিপুরা জানান, ঘটনার পর বেশ কয়েকজনকে আটকের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অতীতেও এমনটা ঘটেছে। কিছুদিন যাওয়ার পর প্রশাসনের উদ্যোগ থেমে যায়। তাই আমরা এই ঘটনায় নিয়মিত ফলোআপের পাশাপাশি একটি লিগ্যাল এইড টীম গঠনের সিদদ্ধান্ত নিয়েছি। এবই একই সাথে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিও অব্যাহত রাখবো।

খাগড়াছড়ির পুলিশ আলী আহমদ খান বলেন, অপরাধী যে হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর। ৯ শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ৫ টি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় আসামীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

উপরে