বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

নতুন কলরেট নির্ধারণ, সোমবার মধ্যরাত থেকেই বাস্তবায়ন!

প্রকাশের সময়: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ - সোমবার | আগস্ট ১৩, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

মোবাইল ফোনের নতুন কলরেট নির্ধারণ করেছে সরকার। সোমবার মধ্যরাতে এই কল রেট চালু হচ্ছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মোবাইল অপারেটরগুলো ৪৫ পয়সার নিচে কোনও কলরেট নির্ধারণ করতে পারবে না। এই কলরেট সর্বোচ্চ ২ টাকা পর্যন্ত হতে পারবে। এখন আর অফ নেট, অননেট থাকছে না। এরমধ্যে দেশের সব  মোবাইল ফোন অপারেটরকে এই নির্দেশনা পাঠিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
ডাক টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ইত্তেফাককে বলেন, ‘সোমবার মধ্যরাত থেকেই এটার বাস্তবায়ন হবে। বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, এখন থেকে আর মোবাইল ফোনে কথা বলার  ক্ষেত্রে অফ নেট ও অন নেট সুবিধা থাকছে না। কলরেটের নতুন সীমা সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা। আর সর্বোচ্চ সীমা ২টাকা। তিনি জানান, সোমবার মধ্যরাত থেকে এটা কার্যকর করতে হলা হয়েছে। অপারেটররাও সম্মত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৪৫ পয়সা হলো নতুন কলরেটের ফ্লোর প্রাইস (ইউনিফায়েড ফ্লোর প্রাইস)। এই  রেটের কমে কোনও মোবাইল নম্বরে কল করা যাবে না। তবে মোবাইল ফোন অপারেটররা তাদের পছন্দমতো রেট সাজিয়ে নতুন কলরেট গ্রাহকদের অফার করতে পারবে। কলরেটের সর্বোচ্চ সীমা হবে ২ টাকা, যা আগেও ছিল। কোনও অপারেটর গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি মিনিটের কলের জন্য ২ টাকার বেশি চার্জ নিতে পারবে না।
এতদিন ছিল বিটিআরসির নির্ধারণ করে দেওয়া সর্বনিম্ন অননেট চার্জ প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা ও অফনেট ৬০ পয়সা। সর্বোচ্চ চার্জ প্রতি মিনিট ২ টাকা। মোবাইল ফোন অপারেটররা এই সীমার মধ্যে থেকে নিজেদের অপারেটরের চার্জ নির্ধারণ করেছে। ফলে একেক অপারেটরের চার্জ ছিল একেকরকম। এখন আর ভিন্ন হবে না।
অপারেটরদের দাবি, নতুন কলরেটে গ্রাহকের ফোন করার খরচ কমবে। কারণ এত দিন অননেট কলে সর্বনিম্ন মূল্য কাগজে-কলমে ২৫ পয়সা হলেও প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কলে গড়ে গ্রাহকের খরচ হতো ৪০ পয়সা। আর অফনেট অর্থাৎ অন্য অপারেটরে কল করার খরচ পড়ত ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪৫ পয়সা পর্যন্ত। একক কলরেট চালু হলে অননেট কলের খরচ ৫ পয়সা বাড়বে, কিন্তু অফনেট কলের খরচ কমবে ৪৫ থেকে ৫০ পয়সা। এতে গ্রাহকসংখ্যায় পিছিয়ে থাকা অপারেটরগুলোর গ্রাহকেরা অনেক বেশি লাভবান হবেন।
মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রামীণফোন থেকে ৯০ শতাংশ কল হয় অননেটে, ১০ শতাংশ কল অফনেটে হয়। অন্যদিকে সরকারের মালিকানাধীন অপারেটর টেলিটকের ১০ শতাংশ কল অননেটে ও ৯০ শতাংশ কল অফনেটে হচ্ছে। রবি ও বাংলালিংকের অননেট-অফনেট কলের পরিমাণ ৭০ ও ৩০ শতাংশ।
এদিকে নম্বর না বদলিয়ে অপারেটর পরিবর্তন সেবা বা এমএনপি চালুর আগেই অভিন্ন কলরেট চালুর একটি জোর দাবি ছিল টেলিকম সেক্টর থেকে। এজন্য জুলাই মাসের শুরুতে কলরেট ৪০ পয়সা প্রস্তাব করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে তা ৪৫ পয়সায় নির্ধারিত হয় যা সোমবার কার্যকরের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। গত ১ আগস্ট থেকে দেশে এমএনপি সেবা চালুর কথা থাকলেও কারিগরি প্রস্তুতির কারণে তা দুই মাস পেছানো হয়। নতুন তারিখ অনুযায়ী আগামী ১ অক্টোবর দেশে এমএনপি চালু হওয়ার কথা।
মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, যেভাবেই হোক আগামী ১ অক্টোবরই এমএনপি চালু করার ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টাও এ ব্যাপারে তাগাদা দিয়েছেন। ফলে কেউ এখন আর বিলম্ব করতে পারবে না।

উপরে