বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

পাহাড়ের পথে পথে

প্রকাশের সময়: ৫:৩১ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | আগস্ট ১৭, ২০১৮

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ঈদের ছুটি কাটাতে পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানোর মতো দেশে অনেক প্রাকৃতিক নিদর্শনের মধ্যেও নয়নাভিরাম কিছু স্থান রয়েছে, যা কিনা নিয়মিত ভ্রমণপিপাসু ছাড়াও সবার প্রাণেই দেবে বাড়তি আনন্দ। তেমনি একটি স্থান ঘুরে এসে লিখেছেন মো. জাভেদ হাকিম—

রাত ১১টা ১০ মিনিটে কমলাপুর থেকে গাড়ি ছাড়ে। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বন বিহারের সামনে নামি! যেতে হবে সাজেক ভ্যালি’। চাঁদের গাড়ি স্টার্ট, ১০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাই গেস্ট হাউজে। নাশতা আর বাজার করে ছুটছি সাজেক ভ্যালি।  গঙ্গারাম মুখ নন্দরাম পাড়া পেরিয়ে নিরিবিলি পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে গাড়ি চলে, যতই এগিয়ে যাই, ততই সামনের পাহাড়গুলো যেন দূরে সরে যায়।

কাচালং নদী পেরিয়ে মাচালং বাজারে খানিক বিরতি নিয়ে আবার যাত্রা শুরু। একটা সময় মনে হলো আকাশটাকে ধরতে, তবে ধরার আগেই পৌঁছে যাই সাজেকের প্রথম পাড়া রুইলুইতে। প্রথম দেখাতেই চোখ কপালে। জনপ্রতি ২০ টাকা টিকিট কেটে ঢুকে পড়ি ভেতরে। কৃত্রিম আর প্রাকৃতিক— এ দুয়ের মিশ্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সাজেকের রূপে এনে দিয়েছে এক অন্য রকম ভালো লাগার অনুভূতি, দেখলে মনে হবে যেন সাজেক ভ্যালি উন্নত বিশ্বের কোনো পাহাড়ি জনপদের প্রতিচ্ছবি।

রাতে থাকার জন্য ঠাঁই হয় সাজেক ক্লাব হাউজে। কাঁধের-পিঠের ঝোলা রেখে বের হয়ে যাই সাজেক দর্শনে। পেটে কিছু দিতে ঢুঁ মারি টি স্টলে। মুগ্ধ নয়নে সাজেকের রূপ দেখি আর বিগত ১০ বছর আগের স্মৃতি হাতড়ে ফিরি। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ২৭০০ ফিট উচ্চতার সাজেক ভ্যালি এখন দেশের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্র। খোলা চোখে হেলিপ্যাডে দাঁড়িয়ে দৃষ্টির শেষ সীমানা পর্যন্ত সাজেকের চারপাশের ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে যে কেউ তার রূপে আচ্ছন্ন হবেই। বসন্তের ছোঁয়ায় পাতাঝরা গাছগুলো যেন একেকটি ভিন্ন রকম শিহরণ জাগানো ছবি। সাজেকের আইকন বিজিবি পরিচালিত রুন্ময় কটেজটি সাজেকের রূপের পসরায় যোগ করেছে আশ্চর্য রকম ভালো লাগা ও সৌন্দর্যের দ্যুতি। পাহাড়ের গায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পিচঢালা পথ গিয়ে শেষ হয়েছে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত। সাজেক ভ্যালি হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। দুর্গম সাজেক আজ পরিণত হয়েছে শৌখিন ভ্রমণপিপাসুদের মেলবন্ধনে। বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে ক্ষুধাকে পাকড়াও করার জন্য ছুটি কংলাকের পথে।

কংলাকের প্রকৃতি যেন আরো একটু বেশিই উদার, পাহাড়ের চূড়া থেকে ঢেউ খেলানো পাহাড়ের বুকে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি কমলা গাছের বাগান, যেকোনো ভ্রমণপিপাসুকে পুলকিত করবে নিঃসন্দেহে। নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আধার সাজেক ভ্যালি বড় বড় পুরনো সেগুন, হরেক রকমের বিশাল বাঁশের বন আর প্রাচীন বট বৃক্ষের মায়াবী পরশে ঘেরা। পুরো বিকালটা কংলাক পাড়ার সিপ্পু পাহাড়ের চূড়ায় কাটিয়ে ঘোর সন্ধ্যায় ফিরি ক্লাব হাউজে।

রাত ৯টা বাজতেই শুরু হয় বার বি কিউ আয়োজন। পরদিনের সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখতে উঠতে হবে বলে ঘুমাতে যাই। বিছানার এপাশ ওপাশ করতে করতেই বেজে যায় ৪টা ১০ মিনিট। সাজেকের ভোরের আকাশ একটু অন্য রকম মায়াবিনী। কপাল ভালো থাকায় মেঘ, বৃষ্টি কিংবা কুয়াশা কিছুই ছিল না।

সাজেক রিসোর্টের পাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছি পূর্ব দিগন্তে। ৫টা ২০ মিনিট, আকাশে সূর্যের লালিমা কিন্তু মিজোরাম পাহাড় ডিঙ্গিয়ে সূর্যমামা দেখা দিতে সময় নেয় বেশ খানিকটা। সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত সূর্যোদয়। ধীরে ধীরে বিশাল  মিজোরাম পাহাড়টাকে নিচে রেখে সেই দিনের লাল টকটকে সূর্যটা উঁকি দেয় আকাশে। নজরকাড়া সেই উদীয়মান সূর্যোদয়ের দৃশ্যের বর্ণনা ভাষায় কিংবা লেখায় দেয়ার ক্ষমতা নেই আমার। দার্জিলিংয়ের টাইগার হিল থেকেও দেখেছি সূর্যোদয়, এবার আমাদের নিজ ভূখণ্ড সাজেক থেকেও দেখলাম। ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সারি, ঘন অরণ্য আর কমলা বাগানের ফাঁক গলে উদীয়মান সূর্যের সোনামাখা রোদের মিষ্টি আলো ছিল বেশ চমত্কার। এবার ফেরার পালা। এক জায়গাতেই প্রকৃতির হরেক রূপের পসরা আপনাকে সাজেক ভ্যালি নিয়ে যেতে চাইবে বারবার।

উপরে