শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

চাঁদা না পাওয়ায় মারধর ও দোকান ভাংচুর; অভিযুক্ত ৪ জাবি ছাত্রলীগ নেতা

প্রকাশের সময়: ৮:০৪ অপরাহ্ণ - রবিবার | আগস্ট ১৯, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি
আবির আব্দুল্লাহ, জাবি প্রতিনিধি: অস্ত্রের মুখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক ছাত্রদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দাবি, মারধর ও দোকান ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। রবিবার বিকেলে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় ‘রিভারল্যান্ড ব্রডব্যান্ড সার্ভিস’ এর মালিক ও জাবির সাবেক শিক্ষার্থী ইসমাইল ইবনে ওয়ালি তন্ময় (রসায়ন ৩৯) ও শাহাদাত হোসেন (ইংরেজি ৪১)।

অভিযুক্তরা হলেন শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মন্ডল, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক নীলাদ্রি শেখর মজুমদার ও ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল ইসলাম। তারা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ইসমাইল ইবনে ওয়ালি তন্ময় (রসায়ন ৩৯) ও শাহাদাত হোসেন ( ইংরেজি ৪১ ) এর মালিকানাধীন ‘রিভারল্যান্ড ব্রডব্যান্ড সার্ভিস’ এর অফিসে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা। পরে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের কে মারধর করে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইসমাইল ইবনে ওয়ালি তন্ময় ও শাহাদাত হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী আম বাগান এলাকায় বসবাসের সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্রডব্যান্ড সার্ভিসের ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্তরা। পরে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম শাফিন ও সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির আহমেদ লিটনের মধ্যস্থতায় কিছুদিনের জন্য চাঁদা দাবি বন্ধ থাকে। কিন্তু গত ১৮ আগস্ট থেকে তারা আবার চাঁদা দাবি করে। ১৯ আগস্ট ‘কথা দিয়ে কথা না রাখার’ কথা বলে এক পর্যায়ে অস্ত্রের মুখে চাঁদা দিতে বলে নতুবা মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে তাদের মারধর করে। অফিস ভাংচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তারেক হাসান বলেন, ‘এই ধরনের কোন ঘটনায় আমি ছিলাম না, যদি তারা প্রমাণ দেখাতে পারে তবে অভিযোগ করুক।’

আরেক অভিযুক্ত অভিষেক মন্ডল বলেন, ‘এই ধরনের কোন কাজের সাথে আমি সংশ্লিষ্ট নই। এই ঘটনা আমি আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম।’

আরেক অভিযুক্ত নীলাদ্রি শেখর মজুমদারও অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন। আর রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এই অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক।’

এই ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘আমার জানামতে এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে নি। আর এই জায়গা ক্যাম্পাসের বাইরের।’

যোগাযোগ করা হলে প্রক্টর সিকদার মোঃ জুলকার নাইন বলেন, ‘এটা করার অধিকার তাদের নেই। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’

উপরে