শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

হেলপারের চিৎকার-‘ওস্তাদ ব্রেক করেন, সামনে পুকুর’

প্রকাশের সময়: ৮:১৪ অপরাহ্ণ - রবিবার | আগস্ট ১৯, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি
অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে : ‘ওস্তাদ ব্রেক করেন, সামনে পুকুর’ গতকাল দুপুরে আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কে গাড়ি চলাচলের সময় আগৈলঝাড়া-পয়সারহাট-গোপালগঞ্জ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী গাড়ির ড্রাইভারকে এমনিভাবে সংকেত দিয়েছিলেন গাড়ির হেলপার রফিক।

বাইপাস সড়কের ৪ কি.মি রাস্তায় অসংখ্য খানাখন্দক ও বড় বড় গর্তে পানি জমে সড়কের মাঝখানে পুকুরের মত জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আর এসব খানাখন্দক ও গর্ত অতিক্রম করে ঈদে ঘরমুখো হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির সড়ক পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সব সময় গাড়ির সংখ্যা স্বাভাবিক থাকলেও ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে সড়কের অবস্থা পূর্বের চেয়ে কয়েক গুন বেশি খারাপ রয়েছে।

সম্প্রতি সময়ে এই সড়কে গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে একাধিকবার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এত এই সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছে। বরিশালের আগৈলঝাড়া-পয়সারহাট-গোপালগঞ্জ মহাসড়কে প্রায় ৪ কি.মি সড়ক সংস্কার না করায় ঈদুল আজহার যাত্রীদের যানবাহনে চলাচলের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সারা পথ গাড়িতে যাত্রীরা ভালভাবে এলেও আগৈলঝাড়ার বাইপাস সড়কের শুরু শেষ পর্যন্ত ৪ কি.মি সড়কে তাদের ঈদ যাত্রা ম্লান করে দিচ্ছে। রাতের অন্ধকারে চলতে গিয়ে ঘটছে দূর্ঘটনা। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় গর্ত আরো বড় আকার ধারণ করছে। কিছু গর্তে ইট-বালু দিয়ে চলাচলের উপযোগী করলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগসূত্রে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী-আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ মহাসড়ক খানাখন্দক ও গর্ত হয়ে লোকজন, যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। একারণে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ১৬ কি.মি সড়ক সংস্কারের জন্য ২০১৮ সালের প্রথম দিকে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে টেন্ডার আহ্বাণ করা হয়। টেন্ডারে বরিশালের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রæপ কাজটি পায়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বাইপাসের ৪ কি.মি বাদে ১২ কি.মি সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করে। দীর্ঘদিনেও বাইপাসের ৪ কি.মি সড়ক সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্ত হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধের পথে রয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীরা গাড়িতে করে সারা পথ ভালভাবে এলেও ওই ৪ কি.মি সড়কে তাদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। রাতে চলতে গিয়ে ঘটছে অহরহ দূর্ঘটনা।স¤প্রতি সময়ে একাধিকবার গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে দীর্ঘদিনেও এই ৪ কি.মি সড়ক সংস্কার কাজ করা হয়নি। তারা সড়কের বড় বড় গর্তে ইট-বালু দিয়ে কোন রকমে চলাচলের ব্যবস্থা করলেও তা অতিবৃষ্টির কারণে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়।

এব্যাপারে সওজ উপ-সহকারী প্রকৌশলী এমএ হানিফ বলেন, বৃষ্টি মৌসুম শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করবে। বর্তমানে গাড়ি ও লোকজনের চলাচলের জন্য ঠিকাদারী ইট-বালু দিয়ে গর্ত ভরে দিয়েছেন।

উপরে