মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৮ | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

কাতারকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস

প্রকাশের সময়: ১১:০৩ অপরাহ্ণ - রবিবার | আগস্ট ১৯, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

বাংলাদেশ ফুটবল দলও অবিশ্বাস্য কিছু করতে পারে! পেতে পারে প্রত্যাশার সীমানা ছাড়ানো জয়। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আজ রোববার সেই অবিশ্বাস্য এক কীর্তিই গড়ল বাংলাদেশ। ব্যর্থতার কানাগলি দিয়ে হাঁটা বাংলাদেশের জন্য শক্তিশালী কাতারের বিপক্ষে ড্র করতে পারাটাও হতো বড় এক প্রাপ্তি। সেখানে বাংলাদেশ উড়াল জয় পতাকা। কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথম বারের মতো পা রাখল এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে। সত্যিই অবিশ্বাস্য!

বিশ্বাসকে হার মানানো এই জয়ের নায়ক অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। ম্যাচের যোগ করা সময়ে একমাত্র গোলটা করে দেশকে এনে দিয়েছেন স্বপ্ন ছাড়ানো এক জয়। যে জয় উদযাপনে জাকার্তায় পতপত করে উড়ল লাল-সবুজের পতাকা।

এশিয়ান গেমসে এর আগেও বেশ কয়েকটি জয়ের কীর্তি আছে বাংলাদেশের। ১৯৮২ সালে মালয়েশিয়া, ১৯৮৬ সালে নেপাল এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে আফগানিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু জাকার্তার এই জয়ের সঙ্গে সেসব জয়ের তুলনায় চলে না। কোথায় কাতার। আর কোথায় মালয়েশিয়া-নেপাল-আফগানিস্তান।

কাতার শক্তিশালী দল বলেই শুধু নয়। অন্য একটা কারণেও আগের ওই জয়গুলোর তুলনায় জাকার্তার এই জয়টার গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি। আগের ওই তিন আসরে জয়ের পরও বাংলাদেশকে বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপপর্ব থেকেই। কিন্তু জাকার্তায় কাতারের বিপক্ষে জয়টি বাংলাদেশকে তুলে দিল প্রথম বারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে। এই জয়ের সঙ্গে আগের ওই জয়গুলোর তুলনা করবেন কি করে।

কাতার এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি। ৪ বছর পর তারা খেলতে যাচ্ছে বিশ্বকাপে। হ্যাঁ মানছি যে মূল জাতীয় দল নয়, এশিয়ান গেমসে অংশ নেয় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তাতে কি। প্রতিপক্ষ দলটার নাম তো কাতারই।

এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার স্বপ্ন এর আগেও কখনো দেখেনি বাংলাদেশ। অমন বিলাসী স্বপ্ন দেখার সাহস পায়নি এবারও। ফুটবলে বাংলাদেশের জন্য জয় পাওয়াটাই এখন হয়ে উঠেছে ‘সোনার হরিণ।’ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, নেপাল, মালদ্বীপের মতো দলগুলোর বিপক্ষে সেই সোনার হরিণের দেখা তেমন পায় না।

ক্রমেই পেছনের দিকে হাঁটা সেই বাংলাদেশ উজবেকিস্তান, থাইল্যান্ড ও কাতারের মতো শক্তিশালী গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে-এটা বিশ্বাস করাটাও ছিল কঠিন। কিন্তু ইংলিশ কোচ জেমি ডে’র অধীনে জামাল ভুঁইয়ারা সেটাই করে ফেললেন বাস্তব।

আন্তর্জাতিক ম্যাচে দূরের কথা, প্রস্তুতি ম্যাচেই জয় পতাকা উড়াতে পারছিল না বাংলাদেশ। বরাবরের মতো এবারও তাই লক্ষ্য ছিল যথাসম্ভব ভালো খেলা। সেই লক্ষ্যে শুরুটা হয়েছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ গোলের হার দিয়ে। তবে ওই হারই যেন তাতিয়ে দেয় জামাল ভুঁইয়াদের। দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়ে শক্তিশালী থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ।

সেদিন অবশ্য জিততে না পারার একটা আক্ষেপও ছিল। কারণ, থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশই। সুফিলের এনে দেওয়া লিডটা অনেকটা সময় ধরেও রেখেছিল। কিন্তু শেষ দিকে গোল করে সমতা ফেরায় থাইল্যান্ড। তবে সেই আক্ষেপ বাংলাদেশ মুছে ফেলল কাতারকে হারিয়ে।

কোয়ার্টার ফাইনালের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মাঠে নামবে ২৪ আগস্ট। তবে প্রতিপক্ষ এখনো অজানা। কাতারের বিপক্ষে ড্র করলেও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ থাকত দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার। তবে সেক্ষেত্রে তাকিয়ে থাকতে হতো অন্যদের দিকে। অপেক্ষা করতে হয়তো চতুর্থ সেরা তৃতীয় দলের একটি হওয়ার। কিন্তু জিতে যাওয়ায় সব সমীকরণই মিলে গেছে। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট, গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে বাংলাদেশ সরাসরিই দ্বিতীয় রাউন্ডে।

আসলে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ড্রয়ের পরই বাংলাদেশ দেখতে শুরু করে দ্বিতীয় রাউন্ডের স্বপ্ন। কাতারের বিপক্ষে তাই ‘   আমরাও জিততে পারি’ বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামে বাংলাদেশ। জেমি ডে’র দলের ভেতর এই বিশ্বাসের বীজটা বুনে দিয়েছিল আসলে উজবেকিস্তানকে, কাতারকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে।

সেই বিশ্বাসের সঙ্গে জেমি ডে’র বুদ্ধিদীপ্ত ট্যাকটিকসও অসম্ভব করে সম্ভব করতে সাহার্য করেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। কাতারের সঙ্গে পাল্টা দিয়েই করে গেছে আক্রমণ। লড়াই করেছে সমানে সমানে। কিন্তু কোনো দলই গোল করতে পারছিল না। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে খেলা যখন ইনজুরি সময়ে গড়ায়, ড্রকেই মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়তি। ঠিক তখনই জামাল ভুঁইয়ার বাজিমাত।

মাসুক মিয়া জনির পাস থেকে অনেকটা ফাঁকায় বল পেয়ে যান জামাল ভুঁইয়া। বল ভালোভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে তিনি বাংলাদেশ অধিনায়ক লক্ষ্যবেদ করেছেন ঠাণ্ডা মাথায়। গড়ানো শটে পোস্টের কোনা ঘেষে বল জড়িয়ে দেন কাতারের জালে। কাতারের গোলরক্ষকের চেয়ে দেখা ছাড়া করার কিছুই না।

গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত ভেবে বাংলাদেশ দল নাকি দেশের ফেরার বিমানের টিকিটও বুকিং দিয়ে রেখেছিল! কাতার-জয়ের পরপরই নিশ্চয় সেই বুকিং বাতিল করেছেন।

 

-পরিবর্তন

উপরে