শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল

প্রকাশের সময়: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | আগস্ট ২৪, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

কখনও মেঘ আবার কখনও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। ক্লান্তিহীন ছোটাছুটি আর সমুদ্রের ঢেউয়ের তরঙ্গের সাথে নেচে গেয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠা। কেউ সেলফি তুলে সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আবার কেউ কেউ সৈকতের বালিয়ারিতে বসে গান আর গল্প আড্ডায় মশগুল। এমন দৃশ্য এখন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকতে। প্রকৃতির নৈসর্গিক ছোঁয়া পেতে ঈদুল আজহারের ছুটিতে হজারো পর্যটকদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। এ লক্ষ্যে পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। তবে সৈকতে রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ও খাবার হোটেলগুলোর অতিরিক্ত দাম নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এদিকে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু পর্যটন মৌসুম নয়, এখন সারা বছরই পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত থাকছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। বিভিন্ন উৎসব এবং ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের এ উপস্থিতি আরো বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় বৈরি আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে ঈদের দিন থেকেই কুয়াকাটায় হাজারো পর্যটকের সমাগম ঘটতে থাকে। ফাতরার বন, বাউলি বন, লেবুর বন, চর গঙ্গামতি, লাল কাকরার চর, বৌদ্ধ মন্দিরসহ বিভিন্ন দর্শণীয় স্থান গুলো এখন উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সড়ক যোগাযোগ ভাল থাকায় এ বছর  ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে, একাধিক আবাসিক হোটেল মালিকদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, এক সপ্তাহ আগেই হোটেল মোটেলগুলোর সিট বুকিং হয়ে গেছে। এখনও অনেকে বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করছেন।

মোনাসেফ মামুন নামের এক পর্যটক বলেন, ঈদের ছুটিতে তিনি স্ব-পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছেন। কখনও মেঘ আবার কখনও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে সব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে এখানে ভালোমানের তেমন খাবার হোটেল নেই। আবার যে কয়েকটি আছে সেগুলোর দাম অনেক চড়া। এছাড়া রাতে সী বিচে আলোর ব্যবস্থাও নেই। এ বিষয়টিকে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বের সথে দেখা উচিত বলে তিনি জানিয়েছেন।

ঘুরতে আসা তামান্ন আক্তার মৌ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এখানকার অপরূপ দৃশ্য অসাধারণ লেগেছে। লোখাপাড়ার কারণে সধারণত কোথাও বেড়াতে পারি না। ঈদের ছুটিতে আব্বু আম্মুর সাথে এখানে এসেছি।

হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি সভাপতি মো.শাহ-আলম জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও ব্যপক পর্যটকদের চাপ রয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণসহ নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ টিমের সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

উপরে