মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ক্যান্সার দূর করবে বেকিং সোডা!

প্রকাশের সময়: ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ - রবিবার | আগস্ট ২৬, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি
ক্যান্সারের কারণে বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষ প্রতি বছর মারা যায়। ব্যয়বহুল ওষুধ এবং ক্যান্সারের খরচ- সবার নাগালে আসে না। কোনো পরিবার যাদের একজন ক্যান্সার রোগী আছে তারাই বোঝেন দুনিয়া কত কঠিন হতে পারে। দেখঅ গেছে মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের শুধুমাত্র এই কারণে পথে বসার যোগাড় হয়।

মোট কথা ক্যান্সার এখন পর্যন্ত এক আতংকের নাম। তবে ইতালির এক চিকিৎসক চমকপ্রদ এবং আশার বাণী শুনিয়েছেন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে। তুলিও সিমোনসিনি নামের এই ইটালিয়ান ডাক্তারের চমকপ্রদ দাবিটি হচ্ছে- ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগের চিকিৎসা আপনার বাড়িতেই উপস্থিত রয়েছে।

ক্যান্সার ইজ অ্যা ফাঙ্গাস: অ্যা রিভল্যুশন ইন টিউমার থেরাপি (Cancer is a Fungus: A Revolution in Tumor Therapy) বইয়ের লেখক তুলিও বলছেন যে ক্যান্সার এক ধরনের ফুসকুড়ি এবং এটি বেকিং সোডার সাহায্যে সহজেই দূর করা যায়। আমাদের বাড়িতে খাদ্য তৈরি করা বেকিং সোডা ক্যান্সারের অবসান ঘটাতে ধন্বন্তরি হতে পারে। বেকিং সোডার সাহায্যে, মাত্র ৫/১০ টাকার বেকিং সোডায় তুলিও শত শত রোগীর চিকিৎসা করেছেন বলে দাবি করেছেন।

অল্টারনেটিভ মেডিসিনের প্রবক্তা তুলিও দাবি করেন যে এই পদ্ধতির সাহায্যে তিনি সব স্টেজের ক্যান্সারের রোগীদের চিকিৎসা করেছেন এবং এই ওষুধ সবার জন্য শতভাগ কার্যকর হয়েছে।

ফিলসফিতে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী সাবেক চিকিৎসক তুলিও বলেন, তার উদ্ভাবিত এই থেরাপিটি ক্ষতিকর নয়। তার মতে, ক্যান্সারের চিকিৎসা ক্ষেত্রে যে বেদনাদায়ক বাস্তবতা বিরাজ করছে তা কোনো কোনোভাবে অনকোলজি অর্থাৎ ক্যান্সার নিরোধের অব্যর্থ উপায় আবিষ্কারের ব্যর্থতার সাথে যুক্ত। আমাদের এটা প্রমাণ করতে হবে যে আধুনিক অনকোলজি ক্যান্সার রোগীদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম।

তুলিও বলেন, এটা আমাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন এবং মারাত্মক রোগ- আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা হচ্ছে এর সঠিক চিকিৎসাটা কী তা খুঁজে বের করা।

তাঁর মতে, যে কোনও পর্যায়ের ক্যান্সারকে ১০ দিনের মধ্যে বাগে আনা যেতে পারে বেকিং সোডা বা খাবার সোডা ব্যবহার করে। তিনি বলেন যে ফুসকুরি জাতীয় ছত্রাক (ঋঁহমর) সবসময় তার সঙ্গে একটি টিউমার নিয়ে আসে। এটা ভিভো এবং ইনভিট্রো- দুই ধরনের গবেষণায়ই প্রমাণিত হয়েছে। যদিও, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে এই রোগটা হওয়ার পর ওই টিউমার বিকশিত হয়। কিন্তু, ডা. তুলিও বিশ্বাস করেন, আসলে যে তারা আগেই উপস্থিত থাকে।

তাঁর মতে, ছত্রাক ক্যান্সার তৈরি করে, ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে এবং তারপর পুরো শরীরকে আক্রমণ করে। ক্যান্সারের প্রতিটি ধরনের পেছনে রয়েছে ক্যানডিডা ফাংগাস। বেশ কয়েকটি গবেষণাও তা নিশ্চিত করেছে। সময়ের সাথে সাথে আমাদের কোষ দুর্বল আর ক্লান্ত হয়ে অজানা কোষ উৎপাদন শুরু করে। তিনি বলেন যে ক্যান্সার এমন একটি আলসার, যেখানে বিকৃত কোষগুলো জমা হয়ে শরীরের ভেতরেই আলাদা একটা বসতি বা উপনিবেশ হয়ে ওঠে।

তুলিও বলেন যে, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ওষুধ অকার্যকর। কারণ তারা কেবল কোষের ওপরের স্তরে কাজ করে। প্রধান সংক্রমণটি একটি ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় আরো শক্তিশালী। এ কারণেই ফুলে যাওয়া সংক্রমণ দেহে এতদিন ধরে থাকে। ডাক্তার তুলিও জানান যে তিনি কিছু জিনিস সনাক্ত করেছেন যা ফাঙ্গাসের উপনিবেশগুলিতে আক্রমণ করতে পারে।

স্কিন বা ত্বকের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভাল উপাদান বেকিং সোডা এবং আয়োডিন টিংচার। অনেক গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে বেকিং সোডা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে অন্তঃকোষীয় কর্মসাধনে সক্ষম আচরণ করেছে।

তিনি বলেন, আমি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রোগীদের চিকিৎসা করেছি। এই রোগীদের মধ্যে এমন অনেক রোগী ছিলেন যাদের ব্যাপারে চিকিৎসকরা বলেছিলেন যে তারা বাইরে চলে গেছেন। কিন্তু পরে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। টিউমারকে খতম করার সবচেয়ে ভাল উপায় হল- একে বেকিং সোডার সংস্পর্শে আনা।

উপরে