বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

‘চীনে চামড়া রপ্তানির অনেক এলসি বাতিল’

প্রকাশের সময়: ১০:৩২ অপরাহ্ণ - শনিবার | আগস্ট ২৫, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেছেন, চীনা পণ্যের ওপর আমেরিকার অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের চামড়ার বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

‘দেশের চামড়ার একটি বড় অংশের ক্রেতা চীনের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তাদের এই চামড়াজাত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় তাদের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ জন্য চীনে চামড়া রপ্তানির অনেক এলসিও বাতিল হয়েছে।’

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মোকাম রাজারহাটে কোরবানি ঈদ পরবর্তী প্রথম হাট না জমা এবং দেশব্যাপী চামড়ার দরের ভয়াবহ পতনের কারণ এভাবেই ব্যাখ্যা করলেন এই চামড়া-ব্যবসায়ী নেতা।

অবশ্য ঢাকার চামড়া ব্যবসায়ীরা আলাউদ্দিন মুকুলের ট্রাম্প-চীন ব্যাখ্যার কাছ দিয়েও যাননি। চামড়ার দরের ভয়াবহ পতনকে ঢাকার চামড়া ব্যবসায়ীরা ভিন্নচোখে দেখেন।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদের দাবি, চামড়ার দাম নিয়ে ট্যানারি মালিকরা কোনো সিন্ডিকেট করেনি। পাড়া-মহল্লায় রাজনৈতিককর্মী এবং ক্লাবগুলোই এই সিন্ডিকেট করেছে।’

শাহিন আহমেদ বলেন, ‘পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সিন্ডিকেট হয়। এখানে দেখা যায়, রাজনৈতিক কর্মীবাহিনী, সামাজিক ক্লাবভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন এলাকাভিত্তিক চামড়ার দাম তারা নিয়ন্ত্রণ করে। তারা যদি ২০০-৩০০ টাকা করে চামড়া ক্রয় করে, ট্যানারি মালিকদের এখানে কী করার আছে?’

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকার পর দেশের অন্যতম বৃহত্তম চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাট। প্রায় ৩শ আড়ৎ রয়েছে এই মোকামে। সপ্তাহে দুইদিন শনিবার ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে।

যশোর ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে হাজির হন এই হাটে। প্রতি কোরবানীর ঈদে রাজারহাটে ১৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়ে থাকে।

শনিবার ছিল ঈদ পরবর্তী প্রথম হাট। এদিন হাটে চামড়া বিক্রি করতে এসেছিলেন, যশোরের ঝিকরগাছার বাঁকড়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী হরেণ মন্ডল। তিনি ৮০ পিস গরুর চামড়া নিয়ে এসে বিক্রির জন্য দরদাম করছিলেন।

হরেণ মন্ডল জানান, এলাকা থেকে তিনি ৭/৮শ টাকা দরে চামড়া কিনেছেন। এরপর লবণ ও পরিবহণ মিলে চামড়াপ্রতি আরও দুটাকা খরচ হয়েছে। এখন হাটে ৮শ টাকার বেশি দাম উঠছে না। এখন লাভের পরিবর্তে পুঁজিতেই ঘাটতি পড়ে যাচ্ছে।

অভয়নগর থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসা সেলিম হোসেন জানালেন, এবার চামড়ার দাম নিয়ে ভয় থাকায় অনেক হিসেব করে চামড়া কিনেছেন। তিনি ৬৫ পিস গরুর ও ১১৫ পিস ছাগলের চামড়া নিয়ে এসেছেন। ছাগলের চামড়া ৪০/৫০ টাকায় কিনে ৫০/৬০ টাকার বেশি দাম উঠছে না। আর গরুর চামড়া কিনেছেন ৫শ থেকে ৭শ টাকায়। হাটে এসে আড়ৎ ও ট্যানারির লোকজন ৬/৭শ টাকার বেশি দাম বলছেন না। এ দামে বেচলে তো লবণের খরচও উঠবে না।

রাজারহাটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শনিবারের হাটে প্রায় ৪৫ হাজারের  মতো গরুর ও ৩০ হাজারের মতো ছাগলের চামড়া উঠেছিল। হাটে গরুর চামড়া প্রতি ফুট ৩০ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়েছে। আর ছাগলের চামড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ১শ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

 

 

 

সূত্র- পরিবর্তন

উপরে