মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ডেলিভারি: সিজার নাকি নরমালে নিরাপদ?

প্রকাশের সময়: ২:১৭ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | আগস্ট ২৮, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

বর্তমানে বেশিভাগ প্রসূতি মা সিজারিয়ানের ব্যাপারে আগ্রহী। তারা এটাকে সন্তান জন্মদানের সহজ পদ্ধতি হিসেবে মেনে নিয়েছেন।

কিন্তু সিজার একটা বড় অপারেশন তাই এর নিজস্ব কিছু ঝুঁকি থাকে। এজন্য জটিলতা ছাড়া চিকিৎসকরা রোগীকে সিজারের পরামর্শ দেন না।

অন্যদিকে গর্ভাবস্থায় কোনো জটিল সমস্যা যদি সৃষ্টি না হয় তাহলে নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ। নরমাল ডেলিভারি শুধু বর্তমান গর্ভাবস্থার জন্যই ভালো নয় বরং পরবর্তীতে গর্ভধারণের জন্যও নিরাপদ।

তবে প্রশ্ন হলো কোনটার ঝুঁকি কম?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে চারজনের মধ্যে একজন শিশু সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয়।

পরিকল্পিত সিজারিয়ানে মায়ের সুবিধা সমূহ-

* বেশি রক্তক্ষরণ হয় না

* প্রসব বেদনা সহ্য করতে হয় না

পরিকল্পিত সিজারিয়ানে মায়ের অসুবিধা –

* শিশুর জন্মের পরও ব্লিডিং হলে অনেক ক্ষেত্রে গর্ভ অপসারণ করে ফেলতে হয় একে হিস্টেরেক্টমি বলে।

* অনেকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়।

* অপারেশনের পরে ব্যথা হয় যা প্রায় কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

* হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।

* ইউটেরাইন ইনফেকশন এর ঝুঁকি বাড়ে।

* পরবর্তীতে সন্তান ধারণের সময় এক্টোপিক বা টিউবাল প্রেগনেন্সি, প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, প্লাসেন্টা অ্যাক্রিটা এবং প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন এর সমস্যা দেখা দেয়।

অন্যদিকে নরমাল প্রসবের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো কি কি –

* নরমাল ডেলিভারি হলে মা কয়েক ঘণ্টা পরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক কাজ শুরু করতে পারে।

* ভেজাইনাল বার্থ বা নরমাল ডেলিভারি অস্বস্তিকর ও কষ্টকর।

* এটাকে নোংরা মনে হয় কারণ শরীর থেকে অনেক ঘাম, অ্যামনিওটিক তরল, রক্ত এবং বাচ্চার জন্মের পর প্লাসেন্টা বা নাড়ি বের হয়।

* ভ্যাজাইনাল ইনজুরি হতে পারে। অনেক সময় সেলাই লাগতে পারে।

* ভালোভাবে বাচ্চার জন্ম হয়ে গেলে বাচ্চা শান্ত থাকে।

* শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শাল দুধ খাওয়ানো সহজ হয় ফলে মা ও বাচ্চার সম্পর্ক দৃঢ় হয়।

* নরমাল ডেলিভারিতে বাচ্চাকে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জন্ম নিতে হয় তাতে বাচ্চার ফুসফুস শ্বাস প্রশ্বাস নেয়ার জন্য প্রস্তুত ও শক্তিশালী হয়।

* বাচ্চার জন্মের পর মা শারীরিক ও মানসিক শক্তি লাভ করে। এর মাধ্যমে সে শান্তি ও অর্জনের বিস্ময়কর অনুভূতি পায়।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল এক্সসিলেন্স এর মতে, প্রতিটি মায়ের জন্য সন্তান জন্মের দিনটা অনেক স্মরণীয়। প্রসব বেদনা নিঃসন্দেহে অনেক কষ্টের কিন্তু মা যখন তার সদ্যজাত সন্তানের মুখ দেখেন তখন তার সব কষ্ট মলিন হয়ে যায়।

শিশুর জন্মের পদ্ধতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার সব মায়ের আছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় তাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করাটাও বেশ জরুরি।

উপরে