সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

যে মামলার কারণে হত্যা করা হয়েছে সাংবাদিক নদীকে

প্রকাশের সময়: ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ - বুধবার | আগস্ট ২৯, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদী (৩২) তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। ওই মামলার কারণেই সুবর্ণাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বড় বোন চম্পা খাতুন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বোন চম্পা জানান, আবুল হোসেনের ছেলে রাজীবের সঙ্গে তিন-চার বছর আগে বিয়ে হয়েছিল সুবর্ণার। বছরখানেক আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

এর পর সুবর্ণা পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেন। এ মামলায় সুবর্ণা তার সাবেক স্বামী রাজীব ও তার বাবা আবুল হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করেন।

গতকাল এ মামলার সাক্ষ্য দেয়ার দিন ছিল। এতে সুবর্ণা তার পক্ষে আদালতে সাক্ষ্যও উপস্থাপন করেন। চম্পার দাবি, মামলায় ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সুবর্ণাকে হত্যা করেছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় নিজ বাসার সামনে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আনন্দ টিভি’র পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদীকে কুপিয়ে হত্যার করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেনকে আটক করেছে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, পাবনা পৌর সদরের রাঁধানগর মহল্লায় আদর্শ গার্লস হাইস্কুলের সামনে ভাড়া বাসায় ফেরার পথে বাসার সামনেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে না পারলেও কয়েকটি ইস্যু নিয়ে পুলিশ মাঠে নেমেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ পাবনার ইদ্রাল ইউনানি কোম্পানি ও শিমলা ডায়াগনস্টিকের মালিক আবুল হোসেনকে আটক করেছে। পুলিশের দাবি, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আবুল হোসেন সুবর্ণার সাবেক শ্বশুর।

সুবর্ণা নদী আনন্দ টিভির পাশাপাশি অনলাইন পোর্টাল দৈনিক জাগ্রতবাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। রাজীবের সঙ্গে বিয়ের আগেও তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে তার ৫-৬ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

সুবর্ণা নদী জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর মেয়ে। এদিকে নিহতের লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।যুগান্তর

উপরে