বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বপ্নে বিরাট ধাক্কা জাতীয় ফুটবল দলের!

প্রকাশের সময়: ৫:৪০ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | আগস্ট ৩০, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের যেন হঠাৎ করেই ছন্দপতন। এশিয়ান গেমসে কাতারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার পর প্রত্যাশাটা যেভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছিল- শ্রীলংকার কাছে হঠাৎ হেরেই তা চুপসে গেছে। শ্রীলংকার মতো দলের সাথে নিজেদের বাজে খেলাটা খেলে সাফ সুজুকি কাপ শুরুর মাত্র ৬দিন আগেই এমন হার দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পাওয়ার স্বপ্নে যেন রীতিমত একটা বড় ধাক্কাই বটে।

শ্রীলংকার বিরুদ্ধের প্রস্তুতি ম্যাচটি ফিফার স্বীকৃতি পাওয়ায় অনেকখানি গুরুত্ব পেয়েছিল; কিন্তু ঢাকায় ফিরে জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে ঘোষণা দিলেন, ইতিহাস গড়া খেলোয়াড়দের বাইরে রেখেই শ্রীলংকার বিরুদ্ধে দল সাজাবেন তিনি। পারফরম্যান্স অনুযায়ী নেতিয়ে পড়াদের তিনি ঘষামাজা করবেন নীলফামারীতে। আর এটা করতে গিয়ে তিনি এমন ৩ জন ফুটবলারকে খেলতে পাঠালেন যারা তার ২৭ জনের দলেই ছিলেন না!

সাফ সুজকি কাপ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ সামনে রেখে দলের যথাযথ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কোন ঘাটতি রাখেনি। কাতারে ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্যাম্প করিয়ে ফুটবলারদের ইন্দোনেশিয়া পাঠিয়েছিল বাফুফে। এমনকি এশিয়ান গেমসের দলের বাইরে থাকা ৭ ফুটবলারকেও বাফুফে নিজেদের খরচে ইন্দোনেশিয়া পাঠিয়েছিল প্রস্তুতির সুবিধার্থে।

যাদের প্রস্তুত করতে বাফুফের এত অর্থ ব্যয়, তাদের বাইরে থাকা ৩ জন হঠাৎ করেই ঢুকে পড়লেন শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলা গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের ভুলেই গোল খেয়ে হারলো বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচেই কোচ গোলপোস্টের নিচে রাখলেন আবাহনীর এ গোলরক্ষককে।

দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময় কোচ খেলালেন ক্যাম্পের বাইরে থাকা মিডফিল্ডার জুয়েল রানাকে। গত মৌসুমে জুয়েল আবাহনী ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে। শোনা যাচ্ছে, এবার তিনি ফিরছেন তার পুরোনো ক্লাবে।

আবাহনীর স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবনকে কোচ মাঠে নামিয়েছিলেন দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝিতে। জুয়েল-জীবনের যে ফিটনেসে ঘাটতি তা বোঝা গেছে মাঠেই। আবাহনীর এই ৩ খেলোয়াড় ২৭ জনের মধ্যে না থাকার পরও কেন কোচ হুট করে তাদের জাতীয় দলে খেলিয়ে দিলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে আবাহনীর খেলোয়াড়দের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির সুবিধা দিতেই এমন করেছে কিনা টিম ম্যানেজমেন্ট?

কোচ জেমি ডে প্রথম বলেছিলেন, এশিয়ান গেমসের নিয়মিত একাদশের সবাইকে বিশ্রাম দিয়ে সিনিয়রদের পরীক্ষা নেবেন। পরীক্ষা নিয়ে দেখলেন তার তরুণরাই ভালো। তরুণদের নিয়ে প্রায় ১০০ ধাপ এগিয়ে থাকা কাতারকে হারানো গেলেও সিনিয়রদের দিয়ে পারা গেলো না র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা দল শ্রীলংকাকে হারানো।

নীলফামারীর মানুষ আকণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে জাতীয় দলকে। প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করে গ্যালারিতে এসে তারা গলা ফাটিয়ে উৎসাহ দিয়ে গেছেন ফুটবলরাদের। কিন্তু যাদের উৎসাহ দিয়েছেন তাদের মধ্যে কিছু থাকলে তো?

লংকার কোচ নিজাম আলী বাংলাদেশের ফুটবলারদের নাড়ি-নক্ষত্র চেনেন। তিনি বাংলাদেশকে খেলতে দিয়েছেন শুধু মাঝমাঠেই। তাতে বল পজিশনে বাংলাদেশ এগিয়েও ছিল; কিন্তু বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা একবারের জন্যও পরীক্ষা নিতে পারেননি লংকান গোলরক্ষকের। বাংলাদেশের আক্রমণগুলো সীমাবদ্ধ ছিল দুই উইং দিয়ে কিছু উদ্দেশ্যহীন ক্রসের মধ্যে।

কোনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এত ভালো প্রস্তুতির সুযোগ পাননি বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা। দীর্ঘ অনুশীলন করার ফলটা অনূর্ধ্ব-২৩ দল দিয়েছে এশিয়ান গেমসে; কিন্তু পুরোনোদের মধ্যে থেকে মুক্তা খুঁজতে গিয়েই যেন গোলমালটা বাধিয়ে দিয়েছেন কোচ। এতদিন অনুশীলনের করানোর পরও সাফের দল তৈরি নিয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা চালাচ্ছেন জেমি ডে। দলে থাকবেন কী থাকবেন না- এমন একটা শঙ্কা-আতঙ্ক তিনি জিইয়ে রেখেছেন খেলোয়াড়দের মধ্যে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে