মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৮ | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

এশিয়া কাপে সৌম্যহীন ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা বিসিবির!

প্রকাশের সময়: ৮:১১ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | আগস্ট ৩০, ২০১৮
ফাইল ফটো

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

বৃহস্পতিবার বিকালে সৌম্যদেরকে ছাড়াই ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। দলে আছেন সাকিব আল হাসান। শুধু দলে থাকাই নয় বরং সহ-অধিনায়ক হিসেবেই এশিয়া কাপ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছেন সাকিব। শেষ পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের চাওয়াটাই বাস্তবায়ন করে আঙুলের অস্ত্রোপচারের বিষয়টিকে পেছনে ফেলে এশিয়া কাপে খেলতে যাচ্ছেন তিনি। বাদ পড়েছেন  সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, এনামুল হক বিজয়, ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক।

এশিয়া কাপের প্রস্তুতি লগ্নে অতিসম্প্রতি ময়মনসিংহের আদালতে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের নামে মামলা করেছেন তার স্ত্রী। অথচ মোসাদ্দেক যে বিয়ে করেছেন, অনেকেই তা  বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত জানা গেলো ২০১২ সালে বিয়ে করেছেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার। মোসাদ্দেক জানিয়েছেন, তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। মামলা এবং পারিবারিক এই ঝামেলা মাথায় নিয়েই এশিয়া কাপের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৩১ সদস্যের দলে ছিলেন তিনি। এবং শেষ পর্যন্ত ১৫ সদস্যের দলেও রেখে দেয়া হলো মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে।

অফ ফর্মের কারণে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকারও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট এবং ওয়ানডে দলে না থাকলেও তাকে রাখা হয়েছিল টি-টোয়েন্টি দলে। কিন্তু সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে সৌম্য আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে। ফ্লোরিডায় দ্বিতীয় ম্যাচে করেছিলেন ১৪ রান এবং শেষ ম্যাচে করেছিলেন ৫ রান। বল হাতে নিয়েছিলেন ১ উইকেট।

এরপর সৌম্য সরকারকে পাঠানো হয়েছিল আয়ারল্যান্ডে। ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে। সেখানে চার ম্যাচের তিনটিতে ব্যাট করার সুযোগ পান। করেছিলেন ৫৭, ১১ এবং ৪৭ রান। বোলিংও করেছিলেন। সাফল্য শূন্য। ৩১ সদস্যের প্রাথমিক একাদশে ছিলেন। সুযোগ পেলে নিজেকে উজাড় করে দেয়ার প্রত্যয়ও ব্যাক্ত করেছিলেন সৌম্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৫ জনের দলে আর রাখা হয়নি তাকে।

বাদ দেয়া হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজে সুযোগ পাওয়া এনামুল হক বিজয়কেও। ৩ ওয়ানডে খেলে রান করেছেন মোটে ৩৩ (০+২৩+১০)। এত বাজে পারফরম্যান্সের কারণে শেষ পর্যন্ত ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দলে থাকলেও আর ১৫ সদস্যের দলে নিজের জায়গাটা করে নিতে পারলেন না। তার চেয়ে বরং, ওপেনিংয়ে তামিমের পাশে লিটন কুমার দাসের ওপরেই ভরসা পাচ্ছেন নির্বাচকরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দলের সঙ্গে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি ইমরুল কায়েস। এবার আশায় ছিলেন, হয়তো নিজের ওপেনিং পজিশনটা ফিরে পাবেন। অন্তত নতুন কোচ, নতুন টুর্নামেন্ট এবং প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়ার কারণে ইমরুলের প্রত্যাশাটা বেড়েছিল অনেক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার আশা আর পূরণ হলো না। যাওয়া হচ্ছে না তার এশিয়া কাপে। তাকেও বাদ দিয়ে দিলো নির্বাচকরা।

উদীয়মান পেসার আবু জায়েদ রাহী ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। খেলেছে ওই সফরের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পুরোটা। তবে, এশিয়া কাপের প্রাথমিক দলে থাকলেও চূড়ান্ত দলে নিজের জায়গাটা করে নিতে পারেননি উদীয়মান এই পেসার। তার জায়গায় ঠাঁই মিলেছে আরেক উদীয়মান পেসার আবু হায়দার রনির। দুই সিনিয়র পেসার রুবেল হোসেন এবং মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া পেস অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত আরিফুল হককে রাখা হয়েছে দলে।

রয়েছেন তিনজন উইকেটরক্ষক। মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে লিটন কুমার দাস এবং মোহাম্মদ মিথুন। সর্বশেষ গত জানুয়ারীতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলেছিলেন মিথুন। এরপর আর দলে জায়গা পাননি তিনি। তবে সম্প্রতি এ দলের হয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলার কারণে জায়গা পেয়ে গেলেন তিনি।

মোহাম্মদ মিথুনকে ডাকা হলেও উপেক্ষা করা হয়েছে মুমিনুল হক সৌরভকে। আয়ারল্যান্ডে ‘এ’ দলের হয়ে ১৮২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলার পরও নির্বাচকদের নজর কাড়তে পারলেন না তিনি। তার পরিবর্তে দলে নেয়া হয় মোহাম্মদ মিথুনকে। মুমিনুলকে একটি সুযোগ অন্তত দেয়া যেতো। কিন্তু সেই সুযোগটা আর দিলেন না নির্বাচকরা।

 

এশিয়া কাপে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দল :

মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, মোহাম্মদ মিথুন, মুশফিকুর রহীম, আরিফুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান এবং আবু হায়দার রনি।

উপরে