মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

অবাক হলেন দাতা হাতেম তায়ের মেয়ে!

প্রকাশের সময়: ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ - বুধবার | সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

অপরাধী বা যুদ্ধবন্দীকে বিনা জরিমানায় ক্ষমা করার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে খুবই বিরল। আর তা যদি হয় বিশ্ববিখ্যাত দাতা হাতেম তাইয়ের মেয়ের সঙ্গে, তাহলে তো বিষয়টি বড়ই বিস্ময়কর। যাদের অর্থের কোনো সীমা নেই।

এমনই ঘটনা ঘটেছিল ইসলামের ইতিহাসের সোনালী যুগে, নবম হিজরিতে। সে ক্ষমার সূত্র ছিল- ‘দয়া করলে দয়া পাবেন’। তাইতো তিনি ক্ষমা করেছিলেন বিশ্ববিখ্যাত দাতা হাতেম তাইয়ের মেয়েকে। এ দয়ার ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।

আরবের বনু তায় গোত্রের সঙ্গে মুসলমানদের যুদ্ধ হয়। সে যুদ্ধে বনু তায়-রা পরাজিত হয়। এ যুদ্ধে বনু তায় গোত্রের অনেকে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায় এবং বিখ্যাত দাতা হাতেম তাইয়ের মেয়েসহ অনেকে যুদ্ধ বন্দি হয়।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাতা হাতেম তায়ের মেয়ে ডেকে বললেন, হে তায় কন্যা! তোমার পিতা হাতেম তায় ছিলেন ঈমানদার মুসলমান। উদার হৃদয়ের অধিকারী। মানুষের প্রতি দয়াও ছিল তার বেশি। তুমি তোমার বাবার জন্য ক্ষমার যোগ্য।

দাতা হাতেম তায়ের কন্যা বলল, ‘আমি জানি আপনি পরম দয়ালু। আমাকে যখন মুক্ত করে দিলেন তখন আমার গোত্রের সবাইকে আপনি মুক্ত করে দিন।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোত্রের অন্য মানুষদের প্রতি তার দরদ দেখে বিমোহিত হলেন। তার আচরণে মানবতার ঝিলিক দেখে মুগ্ধ হলেন। প্রিয়নবি বললেন, গোত্রের প্রতি তোমার দয়া আমাকে বিমোহিত করেছেন, যাও, সবার প্রতি ক্ষমা ও মুক্তি। তিনি তাদের জনপদে ফিরে যেতে পথের খরচও দিয়ে দিলেন। এ ছিল প্রিয়নবির ক্ষমার দৃষ্টান্ত।

এ কারণেই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শনের বিশেষ নসিহত পেশ করেছেন। দয়ার ফজিলত ঘোষণা করেছেন।

হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না আল্লাহ তাআলাও তার প্রতি দয়া করনে না। (মুসলিম)

মায়া-মমতা আল্লাহর তাআলার শ্রেষ্ঠগুণ। এ গুণ ধারণ করেছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি তার উম্মতকে দয়া প্রদর্শনে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শনের বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। তাইতো ইসলামের অনুসারিরা শুধু মুসলমানের প্রতি নয় অন্য ধর্ম ও জাতির প্রতিও দয়া প্রদর্শন করেছেন। যার বহু প্রমাণ রয়েছে ইসলামের সোনালী ইতিহাসে।

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দেখলেন এক বৃদ্ধ অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছে। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন বৃদ্ধ মানুষটি ফিলিস্তিনের অধিবাসী এবং ধর্ম বিশ্বাসে খ্রিস্টান। যৌবনে তিনি ইসলামের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কর প্রদান করেছেন। তাই তিনি এ বৃদ্ধ খ্রিস্টানকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ভাতা চালু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

হজরত ওমরের এ নির্দেশ যেমন দয়ার দৃষ্টান্ত তেমনি তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সাম্য ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও বটে। এটাই হলো ইসলাম ও মুসলমানদের উত্তম আচরণের সৌন্দর্য।

সুতরাং প্রিয়নবির নির্দেশ ও শিক্ষা, ‘দয়া করলে দয়া পাবে, ক্ষমা করলে পাবে ক্ষমা’ মুসলিম উম্মাহর জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি। তবেই দুনিয়া ও পরকালে শান্তি কল্যাণ সম্ভব।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে একে অন্যের প্রতি দয়া ও ক্ষমা প্রদর্শনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে