বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

স্ত্রীকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে স্বামী সেলিম মন্ডল

প্রকাশের সময়: ৮:৩১ অপরাহ্ণ - বুধবার | সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: স্ত্রীকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেছে সাভার যুবলীগের সাবেক সভাপতি সেলিম মন্ডল। মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বুধবার বিকেলে তার কার্য্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো:মহিউদ্দিন আহমেদ, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান,মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্ত্তী সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৩ আগস্ট জেলার সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের শরতপুর গ্রাম থেকে একটি অজ্ঞাত যুবতির লাশ উদ্ধার করে সিংগাইর পুলিশ। লাশটির ৯০ শতাংশ পোড়া ছিল।

এ ব্যাপারে পুলিশ সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করে। প্রথমে লাশের পরিচয় না পেয়ে ও ঘটনা সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকায় মামলায় অজ্ঞাত নামা ব্যাক্তিদের আসামী করা হয়। অজ্ঞাতনামা লাশটি নিয়ে জেলা পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সারা বাংলাদেশের পুলিশদের মাধ্যমে লাশটির সন্ধান চালানো হয়। ১৯আগষ্ট নিহতের পরিবার লাশটির আলামত দেখে লাশটি সনাক্ত করে। ১৭ দিন পর লাশের পরিচয় পেয়ে পুলিশ ১৯ আগষ্ট সেলিম মন্ডলের সাভারের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেদিন তাকে পাওয়া না গেলেও তার ভাই জুয়েল মন্ডলকে আটক করে পুলিশ। তাকে আয়েশা হত্যা মামলার আসামী দেখানো হয়েছিল।
ইটালী পালানোর সময় গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মানিকগঞ্জ পুলিশের সহায়তায় অভিবাসন পুলিশ হযরত শাহাজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে সেলিম মন্ডলকে আটকের পরে তাকে সিংগাইর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিংগাইর থানা পুলিশ তাকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেফপ্তার দেখিয়ে তাকে মানিকগঞ্জের একটি মূখ্য বিচারিক হাকিমের কাছে হাজির করে ১০ দিনে রিমান্ড আবেদন জানায়। শুনানী শেষে আদালত ৩ দিনে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তিন দিন রিমান্ড শেষে স্ত্রী আয়েশা হত্যা মামলার গ্রেফপ্তার দেখিয়ে সেলিম মন্ডলকে গত ৯ ই সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জের মূখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে সোদর্পন করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান। শুনানী শেষে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডের চতুর্থ দিনে সেলিম মন্ডল মানিকগঞ্জের মূখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে সে তার স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। সেলিম মন্ডল আদালতকে জানায়, নিহত আয়েশা আক্তার বকুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী ছিল। অনেক দিন যাবতই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। হত্যার দিন রাতে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে সে স্ত্রীকে হত্যা করে।তার সহযোগীদের নিয়ে তার নিজস্ব প্রাইভেটাকার যোগে তাদের শোবার খাটের বিছানার চাদর দিয়ে লাশ মুড়িয়ে সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের জামালপুর এলাকায় প্রেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে যায়। সেলিম মন্ডল আরো জানায়, লাশটি পোড়ানো সময় ফজরের আযান দিচ্ছিল। এসময় তার দ্রæত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

জানাযায়, সেলিম মন্ডলের লোকজন সাভার- বিরুলিয়া মিরপুর সড়কে চলাচলকরী যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করে। এই রুটে অন্তত ২০টি মিনিবাস চলাচল করে। এসব যানবাহন থেকে প্রতিদিন ৩২০ টাকা কওে চাঁদা আদায় করে। এ ছাড়াও সাভার- বিরুলিয়া সড়কে চলাচলকারী লেগুনা থেকেও প্রতিদিন ৩৫০ টাকা কওে চাঁদা আদায় করা হয় সেলিমের নামে সাভার আব্দুল্লাহপুর সড়কে চলাকালীন সুপার লিংক পরিবহনের কাছ থেকে তার নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

সেলিম মন্ডল তার ভাই মহসিন মন্ডল ও জুয়েল মন্ডলের নামে তিনটি শর্টগানের লাইসেন্স আছে। এ সব কারণে তাদেও বিরুদ্ধে কেউ টু- শব্দ করা সাহস পেত না। আয়শা হত্যার ঘটনায় সম্প্রতি জুয়েল মন্ডলকে শর্টগানসহ গ্রেপ্তার করে। এসব অগ্নায়াস্ত্র ব্যবহার করে সেলিম মন্ডল ও তার ভায়েরা এলাকার জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল। তাদের ব্যবহার করতেই সেলিম মন্ডলকে সাভার থানা যুবলীগের পদ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি তাকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়।

উপরে